“সবার মধ্যেই ভালো গুণ আছে… দোষ খুঁজতে নয়, ভালটুকু বের করে আনাই সত্যিকারের শিল্প।”- অকপট স্বীকারোক্তি দাপুটে ভিলেন বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের! টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কমেছে কাজের সংখ্যা, বাম ভাবাদর্শের জন্য কি তিনি কাজ পাচ্ছেন না?- কি জানালেন অভিনেতা?

টলিউডের একসময়ের দাপুটে ভিলেন বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়। রুপোলি পর্দা থেকে টেলিভিশন—যেখানেই তিনি উপস্থিত হতেন, দর্শকদের মনে তৈরি হতো তীব্র ঘৃণা আর শিহরণ। সেই ভয়ঙ্কর চরিত্রগুলোই তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল। অথচ বাস্তবের বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় একেবারেই উলটো—শান্ত, স্পষ্টবাদী আর সোজাসাপ্টা মানুষ।

প্রায় পাঁচ দশকের ক্যারিয়ার নিয়ে টলিপাড়ায় আজও তাঁর প্রতি এক বিশেষ সম্মান রয়েছে। ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর আশির দশকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, তাপস পাল—তৎকালীন শীর্ষ নায়কদের ছবিতে একচেটিয়া ভিলেন হিসেবে জায়গা করে নেন বিপ্লব। তাঁর অভিজ্ঞতা, লড়াই আর পর্দার বাইরে একাকীত্ব নিয়েই সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি বইও।

তবে এত দীর্ঘ যাত্রাপথের পরও অভিনেতার ক্ষোভ আজও টাটকা। তাঁর কথায়, কাজ কেড়ে নেওয়ার মানুষ ইন্ডাস্ট্রিতে কখনও কম ছিল না—এখনও নেই। অনেকেই নাকি তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়িয়েছেন, শত্রুতা করেছেন, কলকাঠি নেড়ে কাজের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। “বন্ধুর সংখ্যা কম, শত্রুই বেশি,”—স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন বিপ্লব। বাম ভাবাদর্শের জন্য কি তিনি কাজ পাচ্ছেন না? উত্তরে তিনি বলেন, “তা বলতে পারব না… তবে উদয়ন পণ্ডিতের মতো কেউ চাই, যে বলবে—দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান।”

বর্তমানে আর আগের মতো নিয়মিত কাজের ডাক না পেলেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর টান যেন একবিন্দুও কমেনি। নিজের অবস্থান নিয়ে তিনি পরিষ্কার জানান, “আমি কাজ করেই যেতে চাই। যতদিন পারব, কাজ করব।” বয়স বা পরিস্থিতি—কোনও কিছুই তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারেনি, ভবিষ্যতেও রাখবে না বলেই আস্থা তাঁর।

আরও পড়ুনঃ গোরা-এলার মিলনের পথে বড় বাধা হয়ে আসছেন স্টার জলসার অন্যতম জনপ্রিয় খলনায়িকা! নতুন মেগা ‘মিলন হবে কত দিনে’তে সব হিসাব ওলটপালট করতে হাজির ‘গুনগুন’! ভালোমন্দের সীমারেখা মুছে দিতে আসছেন, কোন এই অভিনেত্রী?

সম্প্রতি অভিনেতার করা মন্তব্য যেন তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সারাংশ হয়ে দাঁড়ায়। বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সবার মধ্যেই ভাল গুণ আছে… দোষ খুঁজতে নয়, ভালটুকু বের করে আনাই সত্যিকারের শিল্প।” এই বক্তব্যেই যেন ফুটে ওঠে তাঁর জীবনদর্শন—সমালোচনার উর্ধ্বে উঠে ভালোকে দেখার এক শিল্পীসুলভ মানসিকতা।