বিনোদন জগতের তারকাদের জীবনের গল্প সবসময়ই দর্শকদের কাছে আলাদা আকর্ষণের বিষয়। পর্দায় তাঁদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি দেখে অনেকেই ভাবেন, হয়তো শুরু থেকেই তাঁদের পথটা সহজ ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই পথের শুরুতে থাকে নানা অভিজ্ঞতা, দুষ্টুমি, বন্ধুত্ব, প্রেম, সংগ্রাম এবং নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলার গল্প। ছোটবেলার সেই দিনগুলোর স্মৃতি কিংবা অভিনয় জীবনের প্রথম দিকের নানা অজানা ঘটনা জানতে দর্শকদের আগ্রহও থাকে তুঙ্গে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের কলেজ জীবন এবং থিয়েটারের দিনগুলোর এমনই এক মজার স্মৃতি ভাগ করে নিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল।
বাংলা থিয়েটার, সিনেমা এবং টেলিভিশনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ চৈতি ঘোষাল। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি একাধিক শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মঞ্চ থেকেই তাঁর অভিনয়ের যাত্রা শুরু। পরবর্তীকালে ছোটপর্দা ও বড়পর্দা দুই ক্ষেত্রেই নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি। স্বাভাবিক অভিনয়, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং চরিত্রকে নিজের মতো করে ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতাই তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। বহু বছরের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা গল্পও মাঝেমধ্যেই অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে চৈতি ঘোষাল ফিরে যান তাঁর তরুণ বয়সের স্মৃতিতে। হাসতে হাসতেই তিনি জানান, থিয়েটার করার সময় অভিনয়ের প্রতি তিনি এতটাই নিবেদিত ছিলেন যে ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোকেও সেই সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হতো। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি ঠিক যতটা সিরিয়াসলি থিয়েটার করতাম, থিয়েটারের বাইরে আমার সমস্ত বয়ফ্রেন্ডদের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখতাম।” তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি শুনে উপস্থিত সকলেই হেসে ওঠেন। চৈতি জানান, সেই সময় তাঁর বন্ধুরাও বিষয়টি নিয়ে মজা করতেন। একজন বন্ধুর কথা এখনও তাঁর স্পষ্ট মনে আছে, যিনি মজা করে বলেছিলেন, “এটা কী! চৈতি সবাইকে একসময় টাইম দিয়েছে, প্রত্যেকেই ওর সঙ্গে যাচ্ছে!” পুরনো দিনের সেই স্মৃতি এখনও অভিনেত্রীর মুখে হাসি ফোটায়।
এরপর তিনি জানান, পরে তিনি গোখলে মেমোরিয়াল কলেজে ইংরেজি অনার্সে ভর্তি হন। কলেজ জীবনে তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য অনেকেই তাঁর সঙ্গে সহজে তাল মিলিয়ে উঠতে পারতেন না। চৈতির কথায়, তিনি অনেক সময় এমনভাবে নিজের মতামত তুলে ধরতেন যে, “দু-একজন ভয়ে পালিয়েও গেছে।” কথাটি অবশ্য তিনি সম্পূর্ণ রসিকতার সুরেই বলেন। অভিনেত্রীর মতে, সেই সময় তিনি বুঝতে শুরু করেছিলেন যে বিষয়টি একটু বেশিই সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে। তাই নিজেকেও পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলাতে শিখতে হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “ছিঃ ছিঃ কি অস’ভ্যতা! ডিরেক্টর ডিরেকশন দিচ্ছেন, তাঁর কোলে বসে ওই অভিনেত্রী…” বাংলা ধারাবাহিকের সেটের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা নিয়ে বি*স্ফোরক অনামিকা সাহা! কী এমন দেখেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী? সেই কারণেই কি ছোটপর্দায় কাজ করতে চান না তিনি?
চৈতি ঘোষালের এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর জীবনের একেবারে অন্যরকম একটি দিক। আজ যাঁকে দর্শক একজন পরিণত এবং দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে চেনেন, তাঁর জীবনেও ছিল হাসি-ঠাট্টায় ভরা কলেজ জীবন, বন্ধুত্ব এবং মজার সব অভিজ্ঞতা। নিজের অতীতের সেই গল্পগুলো তিনি অকপটে ভাগ করে নিয়েছেন অনুরাগীদের সঙ্গে। অভিনেত্রীর এই সরল স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, জনপ্রিয়তার আড়ালেও একজন শিল্পীর জীবন সাধারণ মানুষের মতোই নানা রঙে ভরপুর। আর সেই কারণেই তাঁর এই পুরনো স্মৃতিচারণ ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।






