বাংলা থিয়েটার ও অভিনয় জগতের এক পরিচিত এবং শক্তিশালী নাম চন্দন সেন। মঞ্চ থেকে শুরু করে সিনেমা এবং টেলিভিশন সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখে গেছেন। কিন্তু শুধু অভিনয়েই তিনি সীমাবদ্ধ নন, বরং সমাজ-রাজনীতি নিয়েও বরাবরই স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি এবং সামাজিক পরিবর্তনের নানা দিক।
বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী এই অভিনেতা প্রায়ই সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে সরব হন। তাঁর মতে, শিল্পী হিসেবে শুধু বিনোদন দেওয়াই নয়, সমাজের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং মানুষকে সচেতন করাও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাই সময়ে সময়ে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে আলোচনা যেমন হয়, তেমনি বিতর্কও তৈরি হয়।
সম্প্রতি এক আলোচনায় চন্দন সেন এমন কিছু ঘটনা তুলে ধরেছেন, যা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, হিন্দু শাস্ত্রে কোথাও নিরামিষ খাওয়া বাধ্যতামূলক বলা নেই, অথচ বর্তমানে কিছু মানুষ সেই বিষয়টি নিয়ে অন্যদের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি একটি ঘটনার কথা বলেন, একটি মেয়ে নাকি বিমানে পাশের যাত্রীর চিকেন খাওয়া নিয়ে এতটাই আপত্তি জানায় যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শুধু খাবারের বিষয় নয়, ভাষা নিয়েও বাড়ছে অসহিষ্ণুতা এমনটাই মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, মেট্রো রেলে বা জনসমক্ষে কেউ বাংলায় কথা বললে তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমনকি শিয়ালদহ স্টেশনের মতো ব্যস্ত জায়গাতেও এই ধরনের মন্তব্য শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এই ঘটনাগুলোকে তিনি সমাজের এক নতুন ধরনের বিভাজনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
আরও পড়ুন: “আমার জীবনের নতুন অতিথি…” পয়লা বৈশাখের সাজে নতুন বছরে বড় চমক! অবশেষে পঞ্চম বিয়ের এক মাসের মাথায় মুখ খুললেন সুস্মিতা রায়! জানিয়ে দিলেন কবে আসছে সেই নতুন অতিথি?
সবশেষে চন্দন সেন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু-র একটি পুরনো মন্তব্যের উল্লেখ করেন “সরকার না চাইলে দাঙ্গা হয় না।” সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একইভাবে সরকার না চাইলে এই ধরনের ঘটনাও ঘটত না। অর্থাৎ, তাঁর মতে, এইসব ঘটনার পেছনে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা বা নীরব সম্মতি থাকতে পারে। এই পুরো বক্তব্যে স্পষ্ট, চন্দন সেন শুধু একজন অভিনেতা নন, বরং সমাজের চলমান পরিবর্তন ও সমস্যাগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন। তাঁর মন্তব্যে যেমন বিতর্ক রয়েছে, তেমনি রয়েছে এক ধরনের সতর্কবার্তা যা সাধারণ মানুষকে ভাবতে বাধ্য করে।






“বাজি আমরা ফাটাব, বাজি ফাটালে দেখবেন অনেক অসুখ-বিসুখ চলে যায়”, “আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কালীপুজোয় বাজি তো হবেই!” বাজি ফাটালে রোগ সারে, পাপিয়া অধিকারীর মন্তব্যে তোলপাড়! “শব্দবাজি পোড়ালে ঠিক কোন কোন অসুখ কমে তালিকাটা যদি দাও” বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেত্রীকে একহাত নিলেন শ্রীলেখা মিত্র!