গায়ক কবীর সুমনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যে। তাঁর বিরুদ্ধে নেতাজি নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ‘জাতির কথা’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনের সদস্যদের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন কবীর সুমন, যা নারীদের অসম্মান করেছে এবং হিন্দুদের ভাবাবেগেও আঘাত করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে পুলিশ। যদিও এখনও নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের হয়নি বলে জানা গিয়েছে। আপাতত পুরো ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সমস্ত তথ্য যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযোগ দায়েরের পর সংগঠনের সদস্যরা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁরা সরাসরি কবীর সুমনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। ভিডিও বার্তায় সংগঠনের এক সদস্য বলেন, “কবীর সুমন বিখ্যাত গায়ক নিজেকে বুদ্ধিজীবী মনে করেন। তাঁর যে ধরনের ভাষা, নারীদের এবং বাঙালি মানুষদের প্রতি যে ধরনের ভাষা উনি ব্যবহার করেন, সেটা আমরা বাঙালি হিসেবে, হিন্দু হিসেবে এবং নারী সম্মানকারী হিসেবে, আমরা এটা বরদাস্ত করছি না।” এই মন্তব্য সামনে আসতেই বিষয়টি ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সংগঠনের দাবি, সমাজের একটি বড় অংশের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। তাই আইনিভাবেই প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই কারণেই থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় আরও কড়া অবস্থান নিতে দেখা যায় সংগঠনের সদস্যদের। তাঁরা জানান, “আমরা এফআইআর করলাম। তাঁকে যাতে জেলে ঢোকানো যায়, তার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করব আমরা।” একই সঙ্গে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়, হিন্দু সমাজকে অসম্মান বা তাচ্ছিল্য করার কোনও অধিকার কারও নেই। তাঁদের কথায়, “আমাদের সংগঠনের কর্মীরা একত্রিত হয়েছি, এই কারণেই যে হিন্দু সমাজকে অসম্মানিত এবং তাচ্ছিল্য করা যাবে না।” সংগঠনের সদস্যরা আরও বলেন, “যে কথা তিনি বলেছেন, তাঁর মূল্য দিতে হবে।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ঘটনাটি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই এই ঘটনার পক্ষে ও বিপক্ষে মত প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন: একসময় ‘বিষ্টু’ হয়ে ঝড় তুলেছিলেন বাংলা টেলিভিশনে , তারপর হঠাৎই উধাও! কোথায় হারিয়ে গেলেন ‘সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে’ খ্যাত অভিনেতা শুকদেব ঘোষ? পর্দার আড়ালে, বর্তমানে কি করছেন তিনি? আবার কি ছোটপর্দায় তাঁকে দেখতে চান আপনারা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক কোনও মন্তব্য নয়, প্রায় তিন বছর আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে করা কিছু মন্তব্যের ভিত্তিতেই এই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই পুরনো ভিডিও নতুন করে সামনে আসার পরই বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে খবর। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই মন্তব্যে নারীদের প্রতি অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল এবং হিন্দুদের ভাবাবেগেও আঘাত করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কবীর সুমনের তরফে এই অভিযোগ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। গোটা ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পুরনো ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে কোন কোন ধারা প্রযোজ্য হতে পারে, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের হয়নি। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারা মেনেই তদন্তের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সমস্ত দিক বিচার করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিযোগকারীদের বক্তব্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি যে ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিও বিশদে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে রাজনৈতিক মহল ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে, এই অভিযোগের পরবর্তী আইনি পরিণতি কোন দিকে এগোয়।






