বাংলা সিনেমার ইতিহাসে প্রকৃত মহানায়ক উত্তম কুমারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। অভিনয় জীবনের পাশাপাশি তাঁর সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনও বহুবার শিরোনামে এসেছে। বিবাহিত থাকা সত্ত্বেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে। সেই সময় এই সম্পর্ক নিয়ে যথেষ্ট চর্চা হয়েছিল। তবে শুধু উত্তম কুমার নন, তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের জীবন নিয়েও বহু কৌতূহল রয়েছে দর্শকদের। বিশেষ করে তাঁর ছেলে গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের পারিবারিক জীবন নিয়েও নানা তথ্য সময়ে সময়ে সামনে এসেছে। আর সেই সূত্র ধরেই আলোচনায় আসেন গৌরব চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী দেবলীনা কুমার।
গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী ছিলেন সুমনা চট্টোপাধ্যায়। জানা যায়, এই বিয়েতে নিজে উপস্থিত থেকে আশীর্বাদ করেছিলেন উত্তম কুমার। গৌতম ও সুমনার সন্তান হলেন অভিনেতা গৌরব চট্টোপাধ্যায়। পরবর্তীকালে গৌতম দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম মহুয়া চট্টোপাধ্যায়। শোনা যায়, গান্ধর্ব মতে মহুয়াকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টোপাধ্যায় পরিবারে বড় কোনও অশান্তির খবর কখনও সামনে আসেনি। বরং পরিবারের মর্যাদা ও সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গৌতমের দুই স্ত্রী সুমনা ও মহুয়ার সম্পর্ক নিয়েও কোনও বড় বিতর্ক প্রকাশ্যে আসেনি। দীর্ঘদিন একই পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁরা একসঙ্গে থেকেছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল যথেষ্ট সৌহার্দ্যপূর্ণ। এমনকি অনেকেই মনে করেন, তাঁরা পরিবারের স্বার্থে একে অপরকে সম্মান ও সহযোগিতা করেছেন। এই পরিবেশের প্রভাব পড়েছিল গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের জীবনেও। ছোটবেলা থেকেই তিনি দুই মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসার মধ্যেই বড় হয়েছেন। ফলে দুই মায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মহলে জানা যায়।
পরবর্তীকালে গৌরব চট্টোপাধ্যায় বিয়ে করেন অভিনেত্রী এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিষ কুমারের কন্যা দেবলীনা কুমারকে। বিয়ের পর দেবলীনার জীবনেও এই বড় পরিবারের অংশ হওয়ার অভিজ্ঞতা আসে। অনেকের কাছেই বিষয়টি ব্যতিক্রমী মনে হলেও দেবলীনা খুব স্বাভাবিকভাবেই এই পারিবারিক সম্পর্ককে গ্রহণ করেছেন। গৌরবের দুই মাকেই তিনি নিজের শাশুড়ি হিসেবে সমান সম্মান দেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুই শাশুড়ির সঙ্গেই তাঁর সম্পর্ক যথেষ্ট আন্তরিক। কোনও জটিলতা নয়, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ভালোবাসার সম্পর্কই দেখা যায় তাঁদের মধ্যে।
আরও পড়ুনঃ “মেসি দাদা আমাদের ছেলেরা আপনার জন্য…” পাপিয়া অধিকারীর সবিনয়ে আর্জি ঘিরে ট্রো’লের বন্যা! ‘বিশ্বাস মেসোর মতো, লিওনেল মেসি কি আপনারও আত্মীয়?’ কটা’ক্ষ নেটিজেনদের!
সেই সম্পর্কের ঝলক মাঝে মধ্যেই দেখা যায় সামাজিক মাধ্যমে। এইবার দেবলীনা কুমার নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্টে মন্তব্য করেন মহুয়া চট্টোপাধ্যায়। বৌমার প্রশংসায় ভরিয়ে দেন তিনি। সেই মন্তব্য থেকেই অনেকের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, তাঁদের সম্পর্ক কতটা সহজ ও সুন্দর। অনেকেই মনে করছেন, যেখানে শাশুড়ি-বৌমার সম্পর্ক নিয়ে নানান গল্প ও বিতর্ক শোনা যায়, সেখানে দেবলীনা ও তাঁর দুই শাশুড়ির এই সম্পর্ক নিঃসন্দেহে আলাদা নজর কেড়েছে।






