লিওনেল মেসির কলকাতা সফর নিয়ে বিতর্কের রেশ এখনও কাটেনি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় তারকা কলকাতায় এসেছিলেন। কিন্তু সেই সফর ঘিরে চরম অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন এবং দর্শকদের হতাশার ছবি সামনে এসেছিল। বহু ফুটবলপ্রেমী মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করেও মেসিকে কাছ থেকে দেখতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার জেরে আয়োজকদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। একাধিক মহল মনে করেছিল, বিশ্ব ফুটবলের এমন একজন কিংবদন্তিকে ঘিরে যে ধরনের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা হওয়া উচিত ছিল, তার বড়সড় ঘাটতি থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সেই প্রসঙ্গ টেনেই বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী মেসিকে আবার কলকাতায় আনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আগেরবারের ঘটনার জন্য বহু শিশু ও তরুণ সমর্থক মেসিকে দেখতে না পেরে কান্নাকাটি করেছিল। তাঁর দাবি, অনেকেই ৩২ হাজার, ৪০ হাজার বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করে টিকিট কেটেছিলেন। তাই মেসি যদি আবার পশ্চিমবঙ্গে আসেন, তাহলে সেই সব ফুটবলপ্রেমীদের স্বপ্ন পূরণ হবে। আবেগঘন সুরে তিনি বলেন, “মেসি দাদা, আমাদের ছেলেরা আপনাকে দেখার জন্য হাঁ করে বসে আছে। একটিবার আসুন, কিছুক্ষণের জন্য হলেও আসুন।” পাশাপাশি তিনি জানান, সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে মেসিকে ফের আনার উদ্যোগ তিনি নেবেন।
তবে পাপিয়া অধিকারীর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয় প্রবল ট্রোলিং। বিশেষ করে “মেসি দাদা” সম্বোধনটি ঘিরেই নেটিজেনদের একাংশ কটাক্ষ করতে শুরু করেন। অনেকের মতে, বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের প্রতি এই ধরনের সম্বোধন অস্বাভাবিক এবং হাস্যরসের খোরাক তৈরি করেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুক, এক্স এবং ইউটিউবের কমেন্ট সেকশনে একের পর এক ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য জমা হতে থাকে।
আরও পড়ুন: তা’ন্ত্রিক-কন্যা থেকে কিংবদন্তি অভিনেত্রী! প্রথম রঙিন ছবির নায়িকা, কে ছিলেন পদ্মা দেবী? বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁর বিস্ম’য়কর উত্থান ও অজানা জীবনকাহিনি আজও কেন রয়ে গেছে আড়ালে! জানলে অবাক হবেন আপনিও!
একজন নেটিজেন লিখেছেন, “ইনি কি সারাক্ষণই যাত্রা মোডে থাকেন?” আরেকজনের মন্তব্য, “মেসি দাদা? আপনার পাশের পাড়ার ভাসুর হয় নাকি?” কেউ আবার লিখেছেন, “এভাবে ডাকলে হয়তো মেসি ভাববেন উনি কলকাতারই কেউ!” আরেকজনের কটাক্ষ, “রোনাল্ডোকে তাহলে কী বলবেন? রোনাল্ডো কাকা?” অনেকেই পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্যকে অতিরিক্ত নাটকীয় বলে দাবি করেছেন। কারও মতে, একজন আন্তর্জাতিক তারকার প্রসঙ্গে আবেগ দেখানো স্বাভাবিক হলেও সেই আবেগ প্রকাশের ধরনটাই ট্রোলের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সাক্ষাৎকারের মূল বার্তার চেয়ে “মেসি দাদা” শব্দবন্ধই এখন বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
যদিও সমালোচনা ও ট্রোলিংয়ের মাঝেও পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্যের সমর্থনে কিছু মতামতও সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি ফুটবলপ্রেমী বাঙালিদের আবেগের কথাই তুলে ধরেছেন। তবে বাস্তব চিত্র হল, মেসিকে ফের কলকাতায় আনার আবেদন যতটা আলোচনায় আসেনি, তার চেয়ে অনেক বেশি ভাইরাল হয়েছে তাঁকে “মেসি দাদা” বলে সম্বোধনের অংশটি। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন এই বিষয়টি নিয়ে হাস্যরস, মিম এবং কটাক্ষের বন্যা বয়ে চলেছে। মেসি আবার কলকাতায় আসবেন কি না, তার উত্তর ভবিষ্যৎই দেবে, কিন্তু পাপিয়া অধিকারীর এই মন্তব্য যে আপাতত নেটদুনিয়ার অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে, তা বলাই যায়।






