টলিউডে সাফল্যের কথা উঠলে অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী (Sabyasachi Chakraborty) আর স্ত্রী মিঠু চক্রবর্তী (Mithu Chakraborty) -এই দু’টি নাম আলাদা করে বলার সুযোগই থাকে না। হ্যাঁ, হতে পারে পর্দায় নয়, তবে বাস্তবে একসঙ্গে তাঁরা গড়েছেন এক অনন্য জুটি।দু’জনেই কিন্তু নিজ নিজ ক্ষেত্রের সফল শিল্পী, আর একই সঙ্গে একে অপরের পরম সহচর। ব্যস্ততা বা কাজের ফাঁকেও একে অপরের পাশে থাকাটাই তাদের সম্পর্কে একটা আলাদা দৃঢ়তা এনে দিয়েছে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পাশাপাশি থাকা দু’জন মানুষের গল্পটা তাই অনেকের কাছেই একধরনের অনুপ্রেরণাই হয়ে উঠেছে।
সব্যসাচী চক্রবর্তী যেখানে ফেলুদার চরিত্রে আজও দর্শকদের মনে অমলিন জায়গা দখল করে আছেন, সেখানে মিঠুও টেলিভিশন এবং বড়পর্দায় বিভিন্ন চরিত্রে নিজের অভিনয় দিয়ে সমানভাবে মানুষের মন জয় করেছেন। শুধু জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবেই নয়, তারা দু’জনই দুই প্রতিভাবান সন্তানের অভিভাবক– গৌরব এবং অর্জুন চক্রবর্তী। একদিকে অভিনয়ের জগৎ, অন্যদিকে পরিবার-দুটোই তারা সমান ভারসাম্যে ধরে রেখেছেন। তাই এই দাম্পত্য শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কে সীমাবদ্ধ নয় বরং শিল্পীজীবনের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
তবে, এই দীর্ঘ পথচলা সবসময় সমতল ছিল না। একসময় মিঠু চক্রবর্তী ক্যা’ন্সা’রে আক্রান্ত হন, আর ঠিক তখনই নিঃশব্দে অন্যতম ভরসার জায়গা হয়ে ওঠেন সব্যসাচী। চিকিৎসার কঠিন সময়, মানসিক চাপ আর শারীরিক কষ্ট, সবকিছুতেই তিনি স্ত্রীর পাশে থেকেছেন। এই সময়টা দু’জনের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে, হয়তো আরও পরিণতও করেছে। বাইরে থেকে যেটা শুধু একটি সফল দাম্পত্য বলে মনে হয়, বাস্তবে তার ভেতরে থাকে এক ধরনের পরস্পরের ওপর নির্ভরতা, বোঝাপড়া আর নীরব শক্তি, যা এদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে চোখে পড়ে।
তবে, এই সম্পর্কের শুরুটা কিন্তু একেবারে প্রচলিত প্রেমের গল্পের মতো ছিল না। শৈশব থেকেই দু’জনের পরিবারের মধ্যে পরিচয় ছিল, মিঠু ছোটবেলায় সব্যসাচীকে ডাকতেন ‘বেণু মামা’ বলে। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে বদলে যায় আর সম্পর্কটি রূপ নেয় বিয়েতে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মিঠুকে জানতে চাওয়া হয়, সব্যসাচীর সঙ্গে তাঁর প্রেম আর বিয়েটা হলো কীভাবে? অভিনেত্রী বলেন, “প্রেম আর হলো কি! ওর জীবনে তো কোনও চাঁদ, ফুল বা তারা নেই। আমাদের বিয়েটা অনেকটা বোঝাপড়ার সম্পর্ক। ওদের সঙ্গে পাশাপাশি দিল্লিতে থাকতাম আমার।
ছোট থেকেই আমার ননদকে পাপিয়াকে পিসি আর সব্যসাচীকে বেণু মামা বলে ডাকতাম, তারপর ১৯৮৬ থেকে ওগো, হ্যাঁ গো হয়ে গেল। আসলে ওরা আমার মায়ের দুর সম্পর্কের আত্মীয় হয়। সাধারণত ওই সম্পর্কে বিয়ে খুব একটা হয় না। আমার বিয়ের জন্য যখন বাবা ছেলে দেখতে লাগলেন, ওনার মাথায় আসলো যে একজন যোগ্য পাত্র তো সামনেই আছে। তারপর আমার একমাত্র মামা কলকাতা গিয়ে ওদের সঙ্গে কথা বলেন যে, এমন সম্পর্কে বিয়েটা দেওয়া যাবে কি না। ওরাও রাজি হলেন আর বিয়েটা হয়ে গেল।”
আরও পড়ুনঃ ‘বয়স বাড়ছে আর রুচি বিকৃত হয়ে যাচ্ছে! বাঙালি বিয়ে বাড়িতে কি এটা পরা যায়?’ ‘শাড়ি না হোক, অন্য ভারতীয় পোশাক তো পরা যেত!’ খরাজ মুখোপাধ্যায়ের ছেলের বিয়েতে, দেবলীনার শর্ট বডিকন ড্রেসে নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনা!
তিনি আরও যোগ করলেন, “আমি কোনদিনও বাবার উপর কথা বলিনি আর বাবার উপর আমার অগাধ আস্থা। উনি যোগ্য পাত্রের হাতেই আমায় দিয়েছেন, আমি ঈশ্বরের কৃপায় অনেক সুখী আছি।” পরিবারের ভূমিকা, বিশ্বাস আর পরস্পরের প্রতি সম্মান মিলেই তাদের পথচলা শুরু হয়। সেই পথচলার গল্পটা আজও একই ছন্দে চলছে, কখনওই এসেছে অপ্রত্যাশিত মোড়, কখনওই অন্ধকার আবার কখনও উজ্জ্বল আলো, সব মিলিয়ে এই গল্পটা যতটা ব্যক্তিগত, ঠিক ততটাই একটি সফল পরিবারের বাস্তব ছবিও বটে।






