রাজ্যসভার নির্বাচনের প্রাক্কালে হঠাৎ করেই এক নাম ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। হয়তো এতক্ষণে বুঝেই গেছেন যে কার কথা হচ্ছে। হ্যাঁ, টলিকুইন ‘কোয়েল মল্লিক’ (Koel Mallick)। টলিউডের দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অন্যতম সকল অভিনেত্রী, অথচ কোনরকম বিতর্ক বা রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। তাই গতকাল রাতে হঠাৎ করেই যখন রাজ্যের শাসক দল তাঁকে রাজ্যসভা প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করল, তখন অনেকেই সত্যিই অবাক হয়েছিলেন অধিকাংশ মানুষ।
বাংলা সিনেমা প্রেমীদের সবচেয়ে পছন্দের অভিনেত্রী যে সরাসরি সংসদের উচ্চকক্ষে পা রাখতে চলেছেন, তা যেন কল্পনারও বাইরে ছিল। প্রসঙ্গত, কোয়েল বরাবরই আলোচনায় থেকেছেন তাঁর কাজের জন্য, কোনরকম সমালোচনা বা অতিরিক্ত মন্তব্যের জন্য নয়। সহকর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ সক্রিয় রাজনীতিতে নেমেছেন ঠিকই, ভোটের লড়াইও করেছেন, কেউ জিতেছেন বা হেরেছেনও। কিন্তু কোয়েল সেই পথে কখনওই হাঁটেননি। ফলে রাজনীতির সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানোটা খানিক অপ্রত্যাশিত।
এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর অনুরাগীদের একাংশ হতাশা প্রকাশ করেছেন, কেউ কেউ কঠোর ভাষাতেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন যেমন বলেছেন, “এত আভিজাত্য, মার্জিত পরিবারের অংশ এবং ব্যক্তিত্ব নিয়ে শেষ পর্যন্ত ধ্বং’সের পথেই পা বাড়ালেন?” অন্যজন তো সরাসরি বললেন, “এত বছর ইন্ডাস্ট্রিতে থাকার পরেও, যে কাজ কোনদিনও বাবা করেনি সেটাই কেন করলেন তার আদর্শে বড় হয়েও?” একজন অনুরাগী আবার বলেছেন, “দেব ও কোয়েল অনেক হয়, জিৎ সবাই হতে পারে না!
অভিনয় যেমন সফলতা পেয়েছেন দুজনেই, হয়তো রাজনীতিতেও সমান পাবেন। তবে, জিতের সঙ্গে কোয়েলের জুটিটা আর হবে না। এত সফলতা পেয়েও উনি কিন্তু এখনও রাজনীতির বাইরেই। আপনারা আশাহত করলেও, তিনি যে করবেন না এটায় নিশ্চিত!” আবার কিছুজন শুভেচ্ছা জানিয়ে নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেছেন। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় চোখ রাখলে যদিও দেখা যাবে, রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পরিবারের যোগাযোগ নিয়ে আগেও জল্পনা হয়েছিল।
কিছুদিন আগে শাসক দলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বাবা রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন, সেই সময় থেকেই নানান প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও তখন স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে, আরও আগে ২০২১ সালের উপনির্বাচনের সময় কোয়েলের স্বামী, প্রযোজক নিসপাল সিং রানে মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবক হিসেবে সামনে এসেছিলেন। তখনও অনেকে ভেবেছিলেন, হয়তো ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অধ্যায়ে তাঁদের নাম জড়াতে পারে। তবে এটাও সত্যি, কোয়েল ব্যক্তিজীবন ও পেশাজীবনের ভারসাম্য রক্ষা করতে সক্ষম।
আরও পড়ুনঃ “গাড়ি উল্টে চালক মৃ’ত, আমার গায়ে আঁ’চড়টুকুও লাগেনি!” “প্রাণের স্পর্শ পেতাম, মূর্তিতে স্পন্দন অনুভব করতাম” আধ্যাত্মিক যোগসূত্রই কি ভয়াবহ দুর্ঘ’টনায় হয়ে উঠেছিল অলৌকিক রক্ষা-কবচ? মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফেরার অভিজ্ঞতা বললেন ‘বামাক্ষ্যাপা’, অরিন্দম গাঙ্গুলী!
দুই সন্তানের দায়িত্ব, পরিবার এবং নিয়মিত অভিনয় মিলিয়ে তাঁর জীবন ব্যস্ত কিন্তু সুসংগঠিত। রাজনীতির আনুষ্ঠানিক রঙ এতদিন তাঁর গায়ে লাগেনি বলেই হয়তো ভক্তদের একাংশের প্রত্যাশা ছিল অন্যরকম। তাঁদের মনে হয়েছে, প্রিয় অভিনেত্রীকে তাঁরা পর্দাতেই দেখতে চান, রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নয়! অন্যদিকে সমর্থকদের যুক্তি, রাজ্যসভায় যাওয়ার অর্থ সরাসরি ভোটের লড়াই নয়, বরং নীতিনির্ধারণী স্তরে কাজ করার সুযোগ। সেখানে সাংসদ হিসেবে কোয়েল নিজের অভিজ্ঞতা, সামাজিক সংযোগ ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে পারেন।






