‘আমার মনে হয় ফটোশুট…’ সবটাই পাবলিসিটি? ভক্তদের চমকে দিতে ফটোশুট? হিরণ চ্যাটার্জির দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন রুদ্রনীল ঘোষ! ‘একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে যে কেউ বিয়ে করতেই পারেন’, প্রথম বউয়ের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বিয়েকে সমর্থন বিজেপি নেতার?

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ থেকে শুরু করে রাজনীতির ময়দান—দুই জগতেই যাঁর অবাধ যাতায়াত, সেই হিরণ চ্যাটার্জি সম্প্রতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে শুরু হওয়া একাধিক প্রশ্ন, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা দাবি-পাল্টা দাবি এবং নীরবতার মাঝেই কৌতূহল বাড়ছে সাধারণ মানুষের। ঠিক এমন সময়েই এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল অভিনেতা ও বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের মন্তব্য।

সম্প্রতি মঙ্গলবার বানারসি কাশিতে মডেল ঋতিকা গিরির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হিরণ চ্যাটার্জি—এমন খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় জোর আলোচনা। বিয়ের ছবি ও তথ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তাঁর আগের বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে। এই প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে যে কেউ যেখানে খুশি বিয়ে করতেই পারেন, তবে সেটি অবশ্যই আইনসম্মত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, বিয়ে বা ডিভোর্স সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়, সেখানে বাইরের কারও মন্তব্য করার অধিকার নেই।

তবে আলোচনার তীব্রতা বাড়ে যখন হিরণের আগের বৈবাহিক সম্পর্ক ও তাঁর ১৯ বছরের কন্যাসন্তানের প্রসঙ্গ উঠে আসে। প্রশ্ন ওঠে—ডিভোর্স সম্পন্ন না হলে নতুন করে বিয়ে কতটা যুক্তিসঙ্গত? এই প্রশ্নের উত্তরে রুদ্রনীল বলেন, এমন ঘটনা সমাজে বহু ক্ষেত্রেই ঘটে, কিন্তু অনেকেই আলোচনার বাইরে থাকেন বলে তা সামনে আসে না। তিনি জোর দিয়ে জানান, এখন পর্যন্ত হিরণ নিজে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। যা কিছু জানা যাচ্ছে, তা এসেছে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী, বর্তমান স্ত্রী কিংবা সমাজমাধ্যম সূত্রে—সেক্ষেত্রে পুরো সত্য না জেনে মন্তব্য করা ঠিক নয়।

এই পরিস্থিতিতে আরও একটি প্রশ্ন উঠে আসে—হিরণ কি কোনও ফাঁদে পড়েছেন? এই প্রসঙ্গে রুদ্রনীল সাফ জানিয়ে দেন, যতক্ষণ না হিরণ নিজে মুখ খুলছেন, ততক্ষণ এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে হিরণের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও কোনও জবাব মেলেনি। এমনকি অনেকে তাঁকে বার্তা পাঠিয়ে দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলি ফটোশুটেরও হতে পারে। ফলে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন: এক ঝটকায় নস্যাৎ গায়কের পরকীয়ার দাবি? এদিকে রিতা ভট্টাচার্যের নয়া মন্তব্যে চমকে গেল আদালত! কোন দিকে মোড় নিল মানহানির মামলা? শেষ পর্যন্ত কে পেল ৫০ কোটি টাকা?

সব মিলিয়ে রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্যের মূল সুর একটাই—এই গোটা বিষয়টি নিয়ে জল্পনা নয়, প্রয়োজন স্পষ্টতা। তিনি বলেন, সমাজমাধ্যমে বসে কে ঠিক, কে ভুল তা নির্ধারণ করা সহজ, কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত সমীকরণ জটিল। তাই হিরণের উচিত নিজেই সমস্ত বিষয় পরিষ্কার করা। পাশাপাশি তিনি অনুরোধ জানান, এই পরিস্থিতিতে হিরণের প্রাক্তন স্ত্রী ও বর্তমান স্ত্রী—দু’জনকেই সম্মান জানানো হোক এবং বিষয়টি যেন মর্যাদার সঙ্গে মিটে যায়।

You cannot copy content of this page