বিনোদন জগতের শিল্পীদের আমরা বেশিরভাগ সময় দেখি ক্যামেরার সামনে, আলো-ঝলমলে সাজে। তাঁদের হাসি, সাফল্য আর জনপ্রিয়তাই যেন আমাদের চোখে ভেসে ওঠে। কিন্তু সেই উজ্জ্বলতার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে অনেক না-বলা গল্প, কঠিন সময় আর ব্যক্তিগত লড়াই। পর্দায় যাঁদের দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই, তাঁদের জীবনেও এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা শুধুই তাঁদের নিজের কখনও কষ্টের, কখনও লড়াইয়ের, আবার কখনও সাহসের।
টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ কন্যাকুমারী মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। কিন্তু তাঁর এই যাত্রা কোনও পরিকল্পনা করে শুরু হয়নি। পড়াশোনার পাশাপাশি থিয়েটারের প্রতি আগ্রহ থেকেই প্রথম মঞ্চে ওঠা, তারপর ধীরে ধীরে সুযোগ আসে সিরিয়ালে। সেখান থেকেই শুরু তাঁর অভিনয় জীবন। সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব আর পরিশ্রমের জোরেই তিনি নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ইন্ডাস্ট্রিতে।
সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় নিজের জীবনের এক কঠিন সময়ের কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর মায়ের শরীরে ধরা পড়ে গুরুতর অসুখ, যেখানে চিকিৎসকদের সন্দেহ ছিল সেটি ক্যান্সার হতে পারে। অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন অপারেশনটি জটিল, এবং কোমা বা মৃত্যুর মতো ঝুঁকিও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই হয়তো পরিবারের সদস্যকে পুরো সত্যি বলেন না, কিন্তু কন্যাকুমারী ভিন্ন পথ বেছে নেন।
অভিনেত্রীর মতে, একজন মানুষকে অপারেশন থিয়েটারে পাঠানোর আগে তাঁকে সত্যিটা না জানানো ঠিক নয়। তাই তিনি নিজের মাকে সবটা খুলে বলেন কী ঝুঁকি রয়েছে, কী হতে পারে। তাঁর কথায়, “এইটুকু না বলে কাউকে অপারেশন থিয়েটারে পাঠানো একটা চিটিং।” এই সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন মানসিক প্রস্তুতি থাকাটা খুব জরুরি। তাঁর এই স্পষ্টতা এবং সাহসই কঠিন সময়ে তাঁকে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছে।
আরও পড়ুনঃ “আমি তো কোনও ক্রি’মিনাল নই…শহর ছেড়ে চলে যাব, ২৯ মার্চের পর থেকে ক্রমাগত আক্র’মণ করা হচ্ছে” রাহুলের মৃ’ত্যুর ২৪ দিন পর, অবশেষে প্রকাশ্যে শ্বেতা মিশ্র! সেদিনের পর কী কী ঘটেছে তাঁর জীবনে? এতদিন চুপ কেন? জানালেন অভিনেত্রী নিজেই!
অস্ত্রোপচারটি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি জটিল হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে চিকিৎসকেরা ৫-৬ ঘণ্টার কথা বলেছিলেন, সেখানে অপারেশন চলে প্রায় ৯ ঘণ্টা। শরীর থেকে প্রায় আড়াই কেজির একটি বড় টিউমার বের করা হয়। এরপর শুরু হয় কেমোথেরাপির দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আশ্চর্যের বিষয়, প্রথম ছয়টি কেমোতে তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি, যা চিকিৎসকদেরও অবাক করে। শেষের দিকে কিছু শারীরিক সমস্যা হলেও ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগিয়ে যান তাঁর মা। এই পুরো অভিজ্ঞতা কন্যাকুমারীর কাছে শুধু ভয়ঙ্কর নয়, বরং এক গভীর শেখারও সময় যেখানে সাহস, সত্যি আর পরিবারের শক্তিই সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠে।






