‘যেভাবে ওদের র*ক্ত ঝরছে, এটা…’ অরিজিৎ সিংয়ের সুরেই সুর মিলিয়ে, দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের অমানবিক অত্যা’চার নিয়ে সরব কৌশিকী চক্রবর্তী! পোস্ট ঘিরে শুরু তুমুল বিতর্ক, ঠিক কী এমন বললেন গায়িকা?

দিল্লিতে ছাত্রদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। সোমবার বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বহু পড়ুয়ার উপর লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসতেই বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদের সুর উঠতে শুরু করে। বলিউডের পাশাপাশি টলিউডের একাধিক শিল্পীও এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কয়েকদিন আগেই গায়ক অরিজিৎ সিং সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় প্রশাসনের সমালোচনা করেছিলেন। এবার সেই তালিকায় নাম যোগ করলেন সংগীতশিল্পী কৌশিকী চক্রবর্তী। তাঁর পোস্ট ঘিরেও এখন নেটমাধ্যমে জোর চর্চা চলছে।

বুধবার সকালে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ছবি-সহ বার্তা শেয়ার করেন কৌশিকী। সেখানে তিনি লেখেন, “এটা আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে, আমাদের দেশে ভবিষ্যত নিয়ে! তাদের ব্যবহার করা বা তাঁদের কথা না শোনা, কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। ‘তাদের কথা শোনা হোক’। ক্ষমতার অপব্যবহার দিয়ে তাঁদের চুপ করিয়ে রাখা যাবে না। ওদের রক্ত ঝরছে। আর এটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।” পোস্টের সঙ্গে তিনি #SpeakUp হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করেন। একই পোস্টে আরও লেখেন, “যখন যুবসমাজ রক্তাক্ত হয়, তখন রক্তাক্ত হয় পুরো দেশ। এটাকে কখনও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। এটা রাজনীতির বিষয় নয়, এটা মানবতার প্রশ্ন।”

এর আগে একই ঘটনায় মুখ খুলেছিলেন গায়ক অরিজিৎ সিংও। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, “আপনারা তো এবার ছাত্রদের মারধর করছেন। হ্যালো দিল্লি পুলিশ, আপনাদের লজ্জা করছে না? হ্যালো নেতা মন্ত্রী! কী চলছে ভাই? নিজেদেরকে ভগবান ভেবে নিয়েছেন নাকি? সব কিছু মনে থাকবে। হর হর মহাদেব। আর মনে রাখবেন, দ্য অনলি কনস্ট্যান্ট ইজ চেঞ্জ (পরিবর্তনই চিরন্তন সত্য)।” তাঁর এই মন্তব্যও দ্রুত ভাইরাল হয় এবং বহু মানুষ সেই পোস্টে নিজেদের মতামত জানান। এরপর কৌশিকীর বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি আরও বেশি করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

তবে কৌশিকীর পোস্ট ঘিরে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া একেবারে একরকম নয়। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রশংসা করে লিখেছেন, “অন্তত কেউ একজন সাহস করে মুখ খুলেছেন। যুবসমাজের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।” আবার আরেকজন মন্তব্য করেন, “প্রতিটি শিশুর কথা শোনা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের মর্যাদা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও মানবতাই সবসময় জয়ী হবে। আমাদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ—এটি রাজনীতির বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবনের প্রশ্ন।” এই মন্তব্যগুলিও সামাজিক মাধ্যমে নজর কেড়েছে।

আরও পড়ুনঃ “শেষ কয়েক সপ্তাহ দুঃস্বপ্নের থেকেও খারাপ ছিল, শুধুই ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছি…” ডান হাতের শিরা অকেজো, কেমো পোর্টও খুলে ফেলতে হয়! রাতারাতি ভর্তি করতে হয় আইসিইউতে! আট বছর আগে ক্যা*ন্সারকে হারিয়েছিলেন, ২০২৬-এ ফের ক্যা*ন্সারে আক্রান্ত এষা ভট্টাচার্য! মায়ের শারীরিক অবস্থা ও মৃ’ত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প শুনিয়ে, চোখ ভেজালেন মেয়ে প্রেরণা!

অন্যদিকে, অনেকেই কৌশিকীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। একজন লেখেন, “কৌশিকীজি আপনি শুধু মুদ্রার এক দিকটাই দেখছেন। শুধু ছাত্রছাত্রীরাই রক্তাক্ত হচ্ছে না, তাদের এমন এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদেরই উসকানিতে তৈরি হয়েছে। সরকারের উচিত ছিল প্রথম দিন থেকেই এমন ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং পরিস্থিতিকে এতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে না দেওয়া।” ফলে কৌশিকীর এই পোস্ট যেমন বহু মানুষের সমর্থন পেয়েছে, তেমনই সমালোচনারও মুখে পড়েছে। দিল্লির এই ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক এখনও অব্যাহত, আর সেই আলোচনার কেন্দ্রেই রয়েছেন শিল্পী ও সাধারণ মানুষের নানা প্রতিক্রিয়া।

You cannot copy content of this page