“শেষ কয়েক সপ্তাহ দুঃস্বপ্নের থেকেও খারাপ ছিল, শুধুই ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছি…” ডান হাতের শিরা অকেজো, কেমো পোর্টও খুলে ফেলতে হয়! রাতারাতি ভর্তি করতে হয় আইসিইউতে! আট বছর আগে ক্যা*ন্সারকে হারিয়েছিলেন, ২০২৬-এ ফের ক্যা*ন্সারে আক্রান্ত এষা ভট্টাচার্য! মায়ের শারীরিক অবস্থা ও মৃ’ত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প শুনিয়ে, চোখ ভেজালেন মেয়ে প্রেরণা!

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত অভিনেত্রী এষা ভট্টাচার্যের (Esha Bhattacharjee) জীবন এক সময় থমকে গিয়েছিল মা’রণ রোগের ধাক্কায়। অভিনয়ের ব্যস্ত কেরিয়ারের মাঝেই তাঁর স্তন ক্যা*ন্সার (Breast Cancer) ধরা পড়ে। দীর্ঘ চিকিৎসা, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি এবং অস্ত্রোপচারের মতো কঠিন পথ পেরিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন। সেই লড়াইয়ে তাঁর পাশে সবসময় ছিলেন স্বামী দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং মেয়ে প্রেরণা ভট্টাচার্য (Prarona Bhattacharjee)। সুস্থ হওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও সম্প্রতি মেয়ের প্রকাশ করা একটি ভিডিও নতুন করে অনুরাগীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এবার জানা গেল, অভিনেত্রীকে আবারও একই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।

কয়েকদিন আগে প্রেরণা ভট্টাচার্য একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবার আবারও এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সেই ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, আট বছর আগে তাঁর মা জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ জিতে ফিরেছিলেন, কিন্তু আবারও একই ধরনের এক নতুন লড়াইয়ের সামনে দাঁড়াতে হয়েছে তাঁকে। তখনও তিনি রোগের নাম প্রকাশ করেননি। শুধু জানিয়েছিলেন, প্রায় প্রতিদিন হাসপাতালে যেতে হচ্ছে, একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং রিপোর্টের উপর নির্ভর করেই চিকিৎসার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই অনুরাগীদের মধ্যে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ করে প্রেরণা সেই জল্পনার অবসান ঘটান।

তিনি জানান, ২০২৬ সালের মে মাসে আবারও তাঁর মায়ের স্তন ক্যান্সার ধরা পড়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এষা ভট্টাচার্য এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। মায়ের অসুস্থতার কারণেই তিনি কয়েকদিন নিয়মিত ভ্লগ করতে পারেননি বলেও জানান প্রেরণা। ভিডিওতে হাসপাতালের কিছু মুহূর্ত এবং মায়ের ছবিও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, শেষের কয়েক সপ্তাহ নাকি তাদের জন্য দুঃস্বপ্নের থেকেও খারাপ ছিল! প্রথমত কেমোথেরাপি নেওয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তার মাকে। যেহেতু দুবার কেমো নেওয়ার পর, ডান হাতের শিরা অকেজো হয়ে যায় তাই বুকে কেমো পোর্ট বসাতে হয়। সাধারণত অপারেশন হওয়ার দিন থেকেই কেমো নেওয়া সম্ভব।

তবে তার মায়ের সেই কেমো পোর্ট-এর জায়গাটা শুকাতে চায় না। ফলে কেমো নেওয়াও সম্ভব হয় না। উল্টে আরও বেশি ওষুধ খেতে হয় সেই জায়গাটা শুকানোর জন্য। এদিকে দেরি হয়ে যাওয়ায় বাঁ হাতের উপর দিকে একটি চ্যানেল করে কেমো দেওয়া শুরু করা হয়। কিন্তু মাঝপথেই তার মায়ের শরীরের অবনতি হতে শুরু করায় বন্ধ করে দিতে হয়। শ্বেত রক্তকণিকা থেকে অনুচক্রিকা সব হাজারেরও নিচে নামতে শুরু করে দ্রুতগতিতে। রক্ত দিয়ে, ওষুধ-ইনজেকশন দিয়েও কিছুতেই তাকে ঠিক করা যায় না! অবশেষে কেমো পোর্টটিও খুলে নেওয়া হয়, কুচকিতে চ্যানেল করে কেমো দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে শারীরিক অবনতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে রাতারাতি আইসিইউ-তে ভর্তি করাতে হয়।

অভিনেত্রী জানান যে দুদিন তার মা আই সি ইউ তে ছিলেন, ইনি এবং তার বাবা রাত দিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতেন যেন কোন খারাপ খবর নিয়ে ফোন না আসে। অবশেষে দুদিন বাদে যখন তার মাকে আইসি থেকে বের করা হয়, অভিনেত্রী জানান সারা গায়ে ভয়ংকর রকম র‍্যাশ বেরোতে শুরু করে। সেই সঙ্গে জ্বর এবং শারীরিক যন্ত্রণাতে আছেই। আগেরবার ছ’টা কেমো আবার পর তার মায়ের চুল পড়তে শুরু করে, এবার একটাও না নিয়েও চুল পড়তে শুরু করেছে। তবে এই মুহূর্তে এর থেকে বেশি কিছু জানাননি তিনি। পাশাপাশি আশ্বাস দিয়ে বলেন, চিকিৎসার পর একটু সুস্থ হয়ে উঠলেই আবারও তাঁর মাকে ভ্লগে দেখা যাবে।

এই কঠিন সময়েও এষা ভট্টাচার্যের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাঁর পরিবার। স্বামী দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং মেয়ে প্রেরণা নিয়মিত তাঁর দেখাশোনা করছেন। সময়মতো ওষুধ খাওয়ানো থেকে শুরু করে হাসপাতালের সমস্ত প্রয়োজনীয় দায়িত্ব, সবকিছুই তাঁরা একসঙ্গে সামলাচ্ছেন। আগেরবারের মতো এবারও পরিবারের এই মানসিক শক্তিই অভিনেত্রীর সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। অনুরাগীরাও বিশ্বাস করছেন, পরিবারের এই সমর্থন তাঁকে আরও একবার কঠিন লড়াই জয়ের সাহস দেবে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রথমবার স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ার পর এষা ভট্টাচার্যের জীবন পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। কেমোথেরাপির কারণে মাথার সমস্ত চুল ঝরে গিয়েছিল। যিনি একসময় সাজতে ভালোবাসতেন, তাঁর কাছে সেই পরিবর্তন সহজ ছিল না।

আরও পড়ুনঃ মাত্র ২৭ বছরেই নিভে গিয়েছিল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র! বাবা নাকি বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন, স্বামীর হাত ধরেও মিলল না মুক্তি! ৪১ বছর পরও মহুয়া রায়চৌধুরীর মৃ’ত্যু ঘিরে রয়ে গেল অজস্র প্রশ্ন, উত্তর দেবে ‘গুনগুন করে মহুয়া’? প্রকাশ্যে ছবির প্রথম ঝলক, মুক্তি পাচ্ছে কবে?

প্রথমদিকে একটি উইগ কিনলেও পরে তিনি সেটি ছেড়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ন্যাড়া মাথাতেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। নিজের হাসিমুখ এবং মানসিক জোর দিয়েই তিনি সেই কঠিন সময় পার করেছিলেন। তাঁর সেই লড়াই বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছিল। এবার আবারও একই রোগের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করেছেন এষা ভট্টাচার্য। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আশাবাদী, চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে অসংখ্য অনুরাগী অভিনেত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। সকলেরই আশা, আগেরবারের মতো এবারও সাহস, মানসিক শক্তি এবং পরিবারের ভালোবাসাকে সঙ্গী করে জীবনের এই কঠিন অধ্যায়ও সফলভাবে অতিক্রম করবেন তিনি।

You cannot copy content of this page