“মেয়েদের নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে এত লজ্জা কিসের?”— নিজের খিদে, ঘুমের কথাও কি বলা যাবে না? নারীর নীরব লড়াই নিয়ে সমাজের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললেন টলি কুইন কোয়েল মল্লিক!

সমাজ বদলাচ্ছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে নারীর ভূমিকা। তবুও আজও মেয়েদের নিজেদের চাওয়া-পাওয়া, শারীরিক বা মানসিক প্রয়োজন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নানা সংকোচ কাজ করে। পরিবার, সমাজ কিংবা সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই বহু নারী এখনও নিজেদের অধিকার নিয়ে মুখ খুলতে দ্বিধায় ভোগেন। কেন একজন নারী ক্ষুধার কথা বলতে লজ্জা পাবেন? কেন ঘুম পেলে সেটাও চেপে রাখতে হবে? এই প্রশ্নগুলোই নতুন করে ভাবাচ্ছে সমাজকে।

এই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি এক ইন্টারভিউতে মুখ খুললেন টলিউডের ‘কুইন’ কোয়েল মল্লিক। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা পাকা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী শুধুমাত্র অভিনয় নয়, বরং সামাজিক বিষয়েও বারবার স্পষ্ট মতামত রেখেছেন। রোম্যান্টিক থেকে শুরু করে শক্তিশালী নারী চরিত্র—টলিউডে কোয়েলের অবদান অনস্বীকার্য। এবার সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই তিনি তুললেন এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

কোয়েল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মেয়েদের নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে এত লজ্জা কিসের?” তাঁর মতে, কোনও মহিলা যদি খাবার পরিবেশন করার আগে বলেন যে তাঁর ক্ষিদে পেয়েছে, তাতে আপত্তির কিছু নেই। এটা কোনও অন্যায় নয়, বরং একেবারেই স্বাভাবিক মানবিক চাহিদা।

অভিনেত্রী আরও বলেন, পরিবারের অন্যদের আগে যদি কোনও মহিলার ঘুম পায়, সেটাও বলতে দোষ কোথায়? দিনের পর দিন নিজের প্রয়োজনকে পিছনে ফেলে রাখা অভ্যাসটাই আসলে সমস্যার মূল। সমাজে এই চুপ করে যাওয়ার সংস্কৃতিই নারীদের আরও পিছিয়ে দেয় বলে মনে করেন কোয়েল।

আরও পড়ুনঃ ‘মেয়ে তো স্বামীর কাছেই ফিরতে চাইছে, ও যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই হবে!’ বললেন দেবলীনার মা, এত কান্ডের পর কি ফের এক হবেন দেবলীনা-প্রবাহ?

কোয়েলের বক্তব্য অনুযায়ী, নারীর অধিকারের লড়াই কেউ এসে করে দিয়ে যাবে না। সেই লড়াই হয়তো নারীদের নিজেদেরই শুরু করতে হবে—ছোট ছোট কথা বলার মধ্য দিয়েই। ক্ষিদে, ক্লান্তি, ঘুম—এই সাধারণ চাওয়াগুলোর স্বীকৃতি থেকেই শুরু হোক বড় পরিবর্তন। কোয়েল মল্লিকের এই সোজাসাপ্টা কথাই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে সমাজকে।

You cannot copy content of this page