“অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় প্রায় ১১ লক্ষ টাকা দেয়নি, মুখ খুলতেই ক্লোজড ডোর মিটিংয়ে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করতে চেয়েছিল আমায়” লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফের বি’স্ফোরক কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়! “জাস্টিস কি সত্যি পাওয়া যায়? ” রাহুলের মৃ’ত্যুতে প্রশ্ন তুলে কোন সন্দেহের কথা জানালেন অভিনেত্রী?

রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের অন্ধকার দিক আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা ও মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ আড্ডা ও সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের জীবনের কষ্ট, ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞতা এবং ন্যায়বিচার নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক ও আবেগঘন মন্তব্য করেন। কনীনিকা জানান, বর্তমানে নতুন প্রজন্ম অন্যভাবে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করলেও, তাঁদের কাছে এখনো এটি বিশেষ আবেগের দিন।

লাল-সাদা শাড়িতে সেজে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে এই মুহূর্ত ভাগ করে নেন তিনি। তবে আনন্দের মাঝেও ইন্টারভিউ জুড়ে বারবার ফিরে আসে তাঁর ব্যক্তিগত যন্ত্রণা এবং ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞতার কথা। ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কনীনিকা জানান, আগের নববর্ষের ঠিক আগেই তিনি তাঁর মাকে হারান। সেই সময় কাজের মধ্যেই তাঁকে শুটিং করতে হয়েছিল, এমনকি রান্নাঘরের একটি শুটিং চলাকালীন সেই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন তিনি বলেন, তাঁর মা তাঁকে সবসময় বাস্তববাদী হতে শিখিয়েছেন এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন।

সেই শিক্ষাই তাঁকে ভেঙে না পড়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, যদিও মানসিক যন্ত্রণা আজও রয়ে গেছে। ইন্টারভিউতে কনীনিকা আরও জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সময় তিনি আর্থিক বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে তাঁর দাবি। লীনা গঙ্গোপাধ্যায় প্রযোজনা সংস্থায় অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং করার পরও দীর্ঘদিন তাঁর পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি, যা প্রায় ১১ লক্ষ টাকার কাছাকাছি ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি একটি ক্লোজড ডোর মিটিংয়ের পর তাঁকে কাজ না দেওয়া বা “ব্ল্যাকলিস্ট” করার মতো পরিস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সেই সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা, সার্জারি এবং পারিবারিক চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি কাজ চালিয়ে গেছেন বলে জানান অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়া শুধু আমার একার নয়, অনেক শিল্পীর সঙ্গেই এমনটা ঘটে থাকতে পারে।” ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেও কনীনিকা বলেন, “জাস্টিস কি সত্যিই পাওয়া যায়?” রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মপরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, বহু সময়েই সেফটি প্রোটোকল মানা হয় না এবং শিল্পীদের ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হয়।

ফেডারেশন বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন, যদিও কিছু ব্যক্তির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। শেষে কনীনিকা জানান, সময়ের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিতে পরিবর্তন আসা জরুরি। বিশেষ করে শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য সঠিক নিরাপত্তা, সময়মতো পারিশ্রমিক এবং মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা দরকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা তৈরি হবে যেখানে আর কোনো শিল্পীকে এই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, কঠিন সময়ের মধ্যেও বাঁচতে হবে, হাসতে হবে এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্য দিতে হবে।

You cannot copy content of this page