ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে এখন একের পর এক নতুন গল্পের ভিড়। থ্রিলার, সামাজিক বার্তা, সম্পর্কের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে দর্শকের পছন্দও বদলাচ্ছে দ্রুত। এই পরিবর্তনের সময়েই আবার সামনে এলেন টলিউডের জনপ্রিয় মুখ কৌশানি মুখার্জি। নতুন কাজের সূত্র ধরেই তিনি এমন কিছু কথা সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জানিয়েছেন, যা শুধু বিনোদন দুনিয়া নয়, গোটা সমাজব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে হইচই (Hoichoi)-তে স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে তাঁর নতুন ওয়েব সিরিজ “আদালত ও একটি মেয়ে”। পরিচালনায় কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। সিরিজে কৌশানি এক কর্পোরেট কর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। থ্রিলারধর্মী এই কাহিনিতে ন্যায়বিচারের লড়াই যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে এক নারীর মানসিক শক্তির পরীক্ষা। তবে সিরিজের প্রচারের মাঝেই এক সাক্ষাৎকারে তাঁর মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কৌশানির কথায়, “হিরোইনদের নামে তো ছবি বিক্রি হয় না, হিরোদের নামে হয়।” তাঁর মতে, একটি ছবিতে নায়িকা সমান পরিশ্রম করলেও প্রমোশন থেকে শুরু করে বক্স অফিস—সব জায়গায় নায়কের নামই বেশি গুরুত্ব পায়। শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন, কোনও সিনেমা বা সিরিজে কোন হিরো তাঁর বিপরীতে মানাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও অধিকাংশ সময় নায়িকাদের হাতে থাকে না। এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলছেন।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি অল ইন ওয়ান অফ দা ফিল্ম, আমার উপর ছবিটা দাঁড়িয়ে, আমার উপর ভর করে বক্স অফিসে টিকিট বিক্রি হবে।” এই ঝুঁকি নিতে এখন কিছু প্রযোজক এগিয়ে আসছেন বলেই তিনি খুশি। অর্থাৎ নারী-কেন্দ্রিক কনটেন্টে বিনিয়োগ বাড়ছে—এটাই অভিনেত্রী ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী।
আরও পড়ুনঃ “মাত্র ৪০ মিনিটের জন্য এত টাকা?” চুক্তি মেনেই শেষের অনুরোধ! বনগাঁ কাণ্ডে মিমিই দোষী, দাবি আয়োজক পক্ষের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি! জানালেন, হাতে রয়েছে একাধিক ভিডিও, সত্য প্রমাণ হবে আদালতেই!
সবশেষে কৌশানি মনে করিয়ে দেন, আমরা এখনও পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বাস করছি। এখানে নারীদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। “আদালত ও একটি মেয়ে” কেবল একটি সিরিজ নয়, বরং সেই লড়াইয়েরই প্রতিচ্ছবি—যেখানে পর্দার গল্প বাস্তবের প্রশ্নকে সামনে আনে। কৌশানির এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি তাই বিনোদনের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক বড় সামাজিক আলোচনার দরজা খুলে দিল।






