বিনোদন জগতের শিল্পীদের জীবনে পর্দার সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে নানা ওঠাপড়া, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং কঠিন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের গল্প। দর্শক তাঁদের অভিনয়ের মাধ্যমে চেনেন, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের বহু লড়াই থেকে যায় আড়ালে। সময়ের সঙ্গে সেই অজানা অধ্যায় সামনে এলে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবন সম্পর্কে তৈরি হয় নতুন আগ্রহ। তেমনই নিজের ব্যক্তিগত জীবন, সন্তান এবং কঠিন সময়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী লাবনী সরকার। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে আত্মসম্মান, দায়িত্ববোধ এবং নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি দৃঢ় থাকার কথা।
বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ লাবনী সরকার দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। একাধিক চরিত্রে নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও কম ঘটনাবহুল নয়। বাংলা অভিনেতা কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বিবাহিত জীবন এবং পরিবারের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে এর আগেও নানা আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই জীবনের কঠিন অধ্যায়গুলির কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি কীভাবে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং কেন আজও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই।
নিজের জীবন প্রসঙ্গে লাবনী সরকার জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন তাঁর শক্ত থাকার কারণেই হয়তো আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছেন। তাঁর কথায়, সন্তানকে এবং সেই সন্তানের জন্মদাত্রী মাকেও তিনি ফেলে দেননি। বরং অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিনেত্রীর বক্তব্য, তিনি নিজেই জানেন কতটা মেরুদণ্ড শক্ত রেখে তাঁকে সেই সময়টা পার করতে হয়েছিল। তাই নিজের জীবনের সিদ্ধান্তের জন্য কারও কাছে কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন তিনি মনে করেন না। তাঁর মতে, বাইরে থেকে কোনও পরিস্থিতিকে বিচার করা যতটা সহজ, তার মধ্যে দিয়ে যিনি যান, তিনিই জানেন সেই লড়াইয়ের আসল কঠিনতা।
কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী ছিলেন কিংবদন্তি গায়ক শ্যামল মিত্রের কন্যা মনোবীণা মিত্র। ১৯৮৪ সালে তাঁদের ভালোবেসে বিয়ে হয় এবং তাঁদের এক পুত্রসন্তান, সুস্নাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম হয়। তবে দীর্ঘ ১২ বছর একসঙ্গে থাকার পর ১৯৯৬ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে লাবনী সরকারের বিয়ে হয়। সেই সময় পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি সন্তানকে ঘিরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি সেই অধ্যায় প্রসঙ্গে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, পরিস্থিতি যতই অগোছালো হোক, দায়িত্ব থেকে সরে না গিয়ে তিনি নিজের মতো করে সবটা সামলেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ “যতদিন ছাত্র বা ছাত্রী কথাটা সঙ্গে রয়েছে, ততদিন পলিটিক্সে আসা উচিত নয়, মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষা ও ব্যক্তিত্ব তৈরি করা!” জেন-জি প্রসঙ্গে ফের বি*স্ফোরক মমতা শঙ্কর! মুখ খুলতেই নেটপাড়ায় তুমুল কটাক্ষ, ‘শাড়ি পরার নিয়ম পর্যন্তই ঠিক ছিল, বাকি জ্ঞান না দিলেও হবে!’
এই কঠিন পথচলায় ঈশ্বরের আশীর্বাদকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন লাবনী সরকার। তাঁর দাবি, ঈশ্বরের আশীর্বাদ না থাকলে এত কিছু সামলানো সম্ভব হত না। অসুস্থ সন্তান, দুর্ঘটনাময় পরিস্থিতি এবং একাধিক জটিলতার মধ্যে থেকেও যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, আজ সেই কাজের জন্য নিজের কাছেই গর্বিত অভিনেত্রী। পাশাপাশি বাবার একটি কথাও স্মরণ করেছেন তিনি এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যার পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই নিজের চোখে ছোট মনে হয়। লাবনীর বক্তব্যে স্পষ্ট, জীবনের কঠিন সিদ্ধান্তের বিচার অন্য কেউ নয়, শেষ পর্যন্ত মানুষকে নিজের কাছেই করতে হয়।






