“যতদিন ছাত্র বা ছাত্রী কথাটা সঙ্গে রয়েছে, ততদিন পলিটিক্সে আসা উচিত নয়, মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষা ও ব্যক্তিত্ব তৈরি করা!” জেন-জি প্রসঙ্গে ফের বি*স্ফোরক মমতা শঙ্কর! মুখ খুলতেই নেটপাড়ায় তুমুল কটাক্ষ, ‘শাড়ি পরার নিয়ম পর্যন্তই ঠিক ছিল, বাকি জ্ঞান না দিলেও হবে!’

বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর বরাবরই বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে আগেও একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শাড়ি পরার ধরন, পোশাক এবং সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে তাঁর মন্তব্য নিয়ে সমাজ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা হয়েছিল। এবার ছাত্রছাত্রীদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া এবং শিল্প সংস্কৃতির সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জেন-জি প্রজন্মের প্রসঙ্গেই নিজের মতামত জানান তিনি। মমতা শঙ্কর বলেন, স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করার সময় ছাত্রছাত্রীদের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা।

ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে মমতা শঙ্করের বক্তব্য বেশ স্পষ্ট। তাঁর মতে, যতদিন একজন তরুণের পরিচয়ের সঙ্গে ‘ছাত্র’ বা ‘ছাত্রী’ শব্দটি জড়িয়ে রয়েছে, ততদিন তাঁর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজের শিক্ষা ও ব্যক্তিত্ব তৈরি করা। তিনি নিজেই স্বীকার করেন, অনেকেই হয়তো তাঁর সঙ্গে একমত হবেন না। তবুও নিজের মতামত জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “যতদিন ছাত্র বা ছাত্রী কথাটা তাঁদের সঙ্গে রয়েছে, ততদিন তাদের পলিটিক্সে আসা উচিত নয়।” তাঁর মতে, এই সময়টায় পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক, আলোচনা এবং একসঙ্গে ভালো কাজ করার মতো বিষয়গুলিতে তরুণদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। পরবর্তীকালে কেউ রাজনীতিতে আসতে চাইলে অবশ্যই আসতে পারেন বলেও জানান তিনি। কিন্তু ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার আগে রাজনীতিতে প্রবেশ করা নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে।

শুধু ছাত্র রাজনীতি নয়, শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও রাজনীতির প্রভাব নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছেন মমতা শঙ্কর। তাঁর বক্তব্য, “আর্ট-কালচারের মধ্যে রাজনীতি আসা উচিত নয়।” সম্প্রতি অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের রং এবং নাম বদলকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর কথায়। মমতা শঙ্করের মতে, রং বা নাম পরিবর্তনের চেয়ে মানুষের উন্নয়নের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় রয়েছে। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলাদা মত থাকতেই পারে। তবে সেই মতকে কেন্দ্র করে বিরোধের বদলে যে বিষয়গুলি মানুষের এবং দেশের উন্নয়নে কাজে আসবে, সেগুলি নিয়ে গঠনমূলকভাবে কাজ করা উচিত। তাঁর কথায়, “রঙ বদল, নাম বদল এগুলোর থেকে বেশি জরুরি জিনিস আছে।”

এর আগেও পোশাক এবং শাড়ি পরার ধরন নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন মমতা শঙ্কর। সঠিকভাবে শাড়ি না পরলে তার আভিজাত্য নষ্ট হয়, এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য নিয়েও সমাজ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। এবার ছাত্র রাজনীতি এবং শিল্প সংস্কৃতিতে রাজনীতির প্রবেশ নিয়ে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সেই পুরনো বিতর্কও ফের আলোচনায় এসেছে সমাজ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই অভিনেত্রীর বক্তব্য নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানা মত দেখা যাচ্ছে। এক নেটিজেন কটাক্ষ করে লিখেছেন, “শাড়ি কীভাবে পরতে হয়, এটা পর্যন্তই ঠিক ছিল। বাকি জ্ঞান না দিলেও হবে।” অন্য একজন মমতা শঙ্করের বক্তব্যের বিরোধিতা করে নজরুলের ‘আমরা ছাত্রদল’ কবিতার কথা উল্লেখ করেছেন। ফলে অভিনেত্রীর নতুন মন্তব্য ঘিরে সমাজমাধ্যমে বিতর্ক যে আরও বাড়ছে, তা স্পষ্ট।

আরও পড়ুনঃ “অত্যন্ত মেধাযুক্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও অভিনয়ে অন্যতম সেরা…” দেবের দাদাগিরিতে নতুন ‘দিদি নম্বর ১’ স্বস্তিকার ভূয়সী প্রশংসায় কুণাল! মতের অমিল ভুলে হঠাৎ নায়িকায় মুগ্ধ তৃণমূল বিধায়ক, নেটপাড়ায় তুঙ্গে চর্চা!

অন্যদিকে, কেউ কেউ আবার মমতা শঙ্করের বক্তব্যকে ব্যঙ্গ করেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক নেটিজেন শ্লেষের সুরে লিখেছেন, “এইসব ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না! আপনিই একমাত্র পারবেন দিশা দেখাতে!” অর্থাৎ অভিনেত্রীর বক্তব্য নিয়ে সমাজমাধ্যমে যে একমত হওয়ার চেয়ে বিতর্কই বেশি তৈরি হয়েছে, তা বিভিন্ন মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট। মমতা শঙ্কর অবশ্য নিজের বক্তব্যে কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ বা বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নেননি। বরং ছাত্রজীবন এবং শিল্প সংস্কৃতিকে রাজনীতির প্রভাব থেকে দূরে রাখার পক্ষে নিজের মত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ছাত্রাবস্থায় তরুণদের গঠনমূলক কাজ এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ তৈরির দিকে মন দেওয়া প্রয়োজন। তবে তাঁর এই মত কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েই এখন সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

You cannot copy content of this page