নতুন করে আর বাংলা ধারাবাহিক তৈরি করেন না লীনা গঙ্গোপাধ্যায়? মহিলা কমিশনের চেয়ার ছাড়তেই সামনে এল, প্রযোজনা সংস্থার কর্মীদের হতাশা! থমকে কাজের ভবিষ্যৎ, জল্পনা বাড়তেই কী বললেন দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা?

গত ২৯ মার্চ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর থেকেই টলিপাড়ায় শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার করেগা’-র শুটিং চলাকালীন ঘটে সেই দুর্ঘটনা। ঘটনার পর এক মাস কেটে গেলেও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। সংস্থার চলতি কাজ কার্যত থমকে আছে বলে জানা যাচ্ছে। কর্মীদের অনেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও বার্তা এখনও পাননি তাঁরা।

এই আবহেই নতুন করে সামনে আসছে কর্মীদের বক্তব্য। ইন্ডাস্ট্রিতেও এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। লীনার সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত পরিচালক দিগন্ত সিন্‌হা বর্তমানে কাজহীন অবস্থার কথা জানালেন। তিনি আগে ‘চিরসখা’ ধারাবাহিক পরিচালনা করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দিগন্ত বলেন, “এক মাস হয়ে গেল বসে আছি। বুঝতেই পারছেন কী পরিস্থিতি।” তিনি আরও জানান, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে বলেন, “শৈবালদার সঙ্গে কথা হয়েছিল। দেখা যাক, কী হয়! এ কথাই বলেছেন।” দিগন্তর মতে, ঘটনার পর প্রযোজকদ্বয় খুবই মর্মাহত।

তাঁর কথায়, “খুবই দুঃখ পেয়েছেন ওঁরা, সেটা বুঝতে পারছি।” তবে কবে পরিস্থিতি বদলাবে, তা নিয়ে তিনিও নিশ্চিত নন। অন্যদিকে, সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা এক পোশাকশিল্পী এখনও লীনা ও শৈবালের উপর আস্থা রাখছেন। এতদিন তাঁদের একাধিক ধারাবাহিকে চরিত্রদের পোশাক পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বর্তমান অবস্থার মধ্যেও তিনি বলেন, “আমার দিদিদের উপরে ভরসা আছে। তাই অন্য কিছুর কথা ভাবছি না।” তবে সংসারের চাপে পরিবারকে অন্য সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, “আমার স্বামী এত দিন দিদিদের সংস্থাতেই কাজ করতেন।”

এরপর যোগ করেন, “কিন্তু মাসিক কিস্তি আছে। সন্তান রয়েছে আমাদের। তাই অন্য কাজ খুঁজতে হয়েছে।” অর্থনৈতিক চাপ যে কর্মীদের উপর পড়ছে, তা এই মন্তব্যেই স্পষ্ট। একই ধরনের অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন সহকারী পরিচালক সৌমেন পুরকায়স্থও। তিনি বলেন, “জানি না। কিছুই বুঝতে পারছি না।” সংস্থার তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশ বা পরিকল্পনার কথা তাঁর কাছে পৌঁছয়নি। সৌমেন আরও বলেন, “কারও সঙ্গে কথা হয়নি। একমাস হয়ে গেল, জানি না কিছু।” সংস্থার বহু কর্মীই এখন অপেক্ষায় রয়েছেন পরবর্তী সিদ্ধান্তের।

আরও পড়ুনঃ “ম’দ খেয়ে অভিনেত্রীদের নিত’ম্বে হাত বোলায়, জোর করে…তোমার মতো নোং’রা ব্রাহ্মণদের শ্রদ্ধা করা যায়?” “সেই নাবালিকা অভিনেত্রীর সঙ্গেও যা হয়েছিল…” টলিপাড়ার পরিচিত পরিচালকের বিরুদ্ধে শারী’রিক ও মানসিক হেন’স্থার অভিযোগে সরব অঙ্কিতা চক্রবর্তী!

কাজ কবে শুরু হবে, পুরনো প্রকল্প ফিরবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন বাড়ছে। এই দীর্ঘ নীরবতা কর্মীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে বলে টলিপাড়ার একাংশের মত। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে শোনা যাচ্ছে, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যতে বাংলায় কাজ করতে আগ্রহী নন। যদিও এ বিষয়ে তাঁদের তরফে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এর মধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে কয়েক দিন আগে। সেই পরিবর্তনের পর দিন দুই আগে রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

You cannot copy content of this page