‘আগে বন্দি থাকত, আজকাল মেয়েরা যেভাবে ফ্রি হয়ে ঘুরছে…চোখে দেখলেও কষ্ট হয়’ নারী স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্যে ফের তুমুল বিতর্কে জড়ালেন মমতা শঙ্কর!

মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এল নতুন বাংলা ছবি ‘পিঞ্জর’-এর ট্রেলার। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়, জয় সেনগুপ্ত, মল্লিকা ব্যানার্জি রায়, ঈশান মজুমদার এবং মমতা শঙ্কর। ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির কলাকুশলীরাও। সেই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েই নারী স্বাধীনতা প্রসঙ্গে নিজের মতামত তুলে ধরেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয় জোর চর্চা। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই তাঁর মন্তব্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

অনুষ্ঠানে মমতা শঙ্কর বলেন, “প্রচুর মেয়ে আছে যারা বন্দি। কিন্তু সবাই নয়। কিন্তু কিছু মেয়েরা যেভাবে ফ্রি হয়ে ঘুরছে, এবং যা যা আমরা দেখতে পারছি…”। এরপর তিনি নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করতে গিয়ে বলেন, “কিছু মেয়ে, সব মেয়ে বলব না। বেশিরভাগ মেয়েই ভালো। কিছু মেয়ের যেভাবে বেশি স্বাধীনতা দেখছি, সেটাও ঠিক না।” তাঁর মতে, স্বাধীনতার অর্থ এবং তার ব্যবহার নিয়ে সমাজে অনেক সময় ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এরপর তিনি আরও বলেন, “আসলে আমরা ভুল দিকে স্বাধীনতা নিয়ে যাচ্ছি। স্বাধীনতা বলতে যেটা বোঝায়, সেটা কিন্তু আলাদা। যা ইচ্ছে তাই করব, সেটা কিন্তু কখনোই স্বাধীনতা নয়।” একইসঙ্গে তিনি এ-ও জানান যে, নারী স্বাধীনতা পুরোপুরি অনুপস্থিত এমন কথা তিনি মানতে নারাজ। তাঁর কথায়, “তাই নারী স্বাধীনতা একেবারে নেই বললে, সেটা ভুল বলা হবে। কিছু মানুষের হাতে রয়েছে অগাধ স্বাধীনতা।” সমাজে যারা নানা চাপের মধ্যে রয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও বলেন তিনি।

মেয়েদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে মমতা শঙ্কর বলেন, “আমি বলব আমাদের মেয়েদের, ভালো মেয়েদের এরকম হওয়া উচিত, যারা কষ্টে আছে, চারদিক থেকে চাপের মধ্যে আছে, তাদের ভালো দিকে নিয়ে আসুন। তাই বলে, স্বাধীনতার ভুল ব্যাখ্যা যেন না হয়।” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তোলেন স্বাধীনতার সীমা নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে।

একজন নেটিজেন মন্তব্য করেন, “একটু চুুপ করুন। অনেক বয়স তো হয়েছে। ঠাকুরের নাম করুন।” আরেকজন লেখেন, “একদম ঠিক। যেমন আপনাকে কথা বলার স্বাধীনতা দেওয়া। এটা খুবই ভুল হয়েছে।” অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “আপনাকে কখনো আমি ছেলেদের নিয়ে একটা কথাও বলতে শুনি না, আপনি যতক্ষণ না মুখ খুলছেন ততক্ষণ অন্য রকম। কথা বললেই আর নেওয়া যায় না।” আরও একজন প্রশ্ন তোলেন, “কোনটা বেশি স্বাধীনতা, কোনটা কম স্বাধীনতা সেটা কে ঠিক করবে?” মস্করা করে আরেকটি মন্তব্যে লেখা হয়, “আসলে এটা নামের দোষ। ওঁকে খুব একটা দোষ দেওয়া যায় না।”

আরও পড়ুনঃ সহঅভিনেতার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিয়ো ফাঁস! গোপনে ক্যামেরাবন্দি করতেই বাঁধে ঝামে’লা! টলিউড অভিনেতার কাণ্ডে শুটিং ফ্লোরে চরম অস্বস্তি! বন্ধ হতে বসেছিল হাইপ্রোফাইল ওয়েব সিরিজের কাজ?

তবে এই প্রথম নয়, অতীতেও বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন মমতা শঙ্কর। শাড়ির আঁচল নিয়ে তাঁর মন্তব্য থেকে শুরু করে কলকাতার মেট্রো স্টেশনে চুম্বন বিতর্ক নিয়েও তিনি সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। সেই সময়েও তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। অনেক নেটিজেন তাঁর মন্তব্যকে ‘নৈতিক পুলিশিগিরি’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। শুধু সাধারণ মানুষই নন, অভিনেতা ঋদ্ধি সেন, অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়-সহ টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখও অতীতে তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে মত জানিয়েছিলেন।

You cannot copy content of this page