প্রায় এক বছর আগে কলকাতায় একটি বহুল আলোচিত হিন্দি ওয়েব সিরিজের শুটিং চলাকালীন ঘটে যায় এমন একটি ঘটনা, যা দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে চর্চার বিষয় হয়ে রয়েছে। জনপ্রিয় এক বলিউড পরিচালকের এই সিরিজে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল শুটিং। মুম্বই এবং কলকাতার শিল্পীরা একসঙ্গে কাজ করায় গোটা ইউনিটে ছিল বিশেষ উচ্ছ্বাসও। তবে ক্যামেরার সামনে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও, পর্দার আড়ালে নাকি তৈরি হয়েছিল এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
সেই ঘটনার জেরেই কিছু সময়ের জন্য শুটিংয়ের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে শোনা যায়। ঘটনাটি নিয়ে এখনও নানা আলোচনা শোনা যায় টলিপাড়ায়। ওয়েব সিরিজটি মুক্তির পর দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। কেউ সিরিজটির গল্প ও নির্মাণের প্রশংসা করেছেন, আবার কারও মতে কাহিনির গতি ছিল কিছুটা ধীর। তবে একটি বিষয়ে প্রায় সকলেই একমত ছিলেন। সিরিজে অভিনয় করা শিল্পীদের পারফরম্যান্স যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছিল। বিশেষ করে কলকাতার অভিনেতাদের কাজও নজর কেড়েছিল দর্শকদের।
সেই কারণেই সিরিজটির শুটিং সংক্রান্ত নানা অজানা তথ্য নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সামনে আসে ইউনিটের ভেতরে ঘটে যাওয়া একটি বিতর্কিত ঘটনার কথা। জানা যায়, শুটিংয়ের বড় একটি অংশ কলকাতা এবং তার আশপাশের এলাকায় হয়েছিল। সেই সময় বেশ কয়েকদিন ধরে আউটডোর শুটিংয়ে একসঙ্গে ছিলেন মুম্বই ও কলকাতার শিল্পীরা। দিনের কাজ শেষ হওয়ার পরও অনেকেই একই জায়গায় থাকতেন। ঠিক এমনই এক রাতে আচমকা তৈরি হয় সমস্যার সূত্রপাত।
ইউনিটের কয়েকজন সদস্যের নজরে আসে এমন একটি ঘটনা, যা মুহূর্তের মধ্যে অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে অনেকে অবাক হয়ে গেলেও পরে তা নিয়ে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। অন্দরমহলের সূত্রে দাবি, টলিপাড়ার এক অভিনেতা নাকি মুম্বই থেকে আসা এক সহঅভিনেতার ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে মোবাইলে রেকর্ড করতে শুরু করেছিলেন। বিষয়টি প্রথমে সংশ্লিষ্ট অভিনেতার নজরে না এলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ধরা পড়ে যায়। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠতে শুরু করে।
ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন ওই মুম্বইয়ের শিল্পী। ইউনিটের অন্যান্য সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে জানা যায়। ঘটনার পর শুটিং ফ্লোরের পরিবেশ বেশ কিছু সময়ের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তাও হয় বলে শোনা যায়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, শুটিংয়ের কাজ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে এমনও আলোচনা রয়েছে যে, বিষয়টি আরও বড় আকার নিলে শুটিং বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারত।
আরও পড়ুনঃ “ওটার জন্য এখনও নিজেকে অপ’রাধী মনে হয়” পঞ্চমদার সেই শেষ প্রশ্নের জবাব আজও খুঁজে ফেরেন! আর ডি বর্মনের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতে কী শুনতে হয়েছিল বীরেশ চট্টোপাধ্যায়কে? কী করতে না পারার আক্ষেপ আজও বয়ে বেড়ান পরিচালক, যে স্মৃতি তাঁকে রোজ কাঁ’দায়?
ফলে ইউনিটের দায়িত্বশীল সদস্যরা দ্রুত বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। সবাই চাইছিলেন যাতে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকে। পরে টলিপাড়ার ওই অভিনেতা নিজের ভুল বুঝতে পারেন বলেই জানা যায়। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেন এবং বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এরপর ধীরে ধীরে উত্তেজনা কমে আসে এবং শুটিংও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে যায়। যদিও ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেননি। সংশ্লিষ্ট ওয়েব সিরিজ বা শিল্পীদের পক্ষ থেকেও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য সামনে আসেনি। তবুও ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এই ঘটনা নিয়ে এখনও ফিসফাস শোনা যায়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে সচেতনতার প্রশ্নে ঘটনাটি আজও আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।






