“কৌশল অবলম্বন করে ওগুলো করা উচিত হয়নি”, “আমি কিছুই করি না, ঈশ্বরই সব করান, আমি শুধু মাধ্যম” জীবন নিয়ে বড় মন্তব্য মমতা শঙ্করের! বাবা-মায়ের কোন কথা না শোনার আক্ষেপ আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁকে? কোন ভুলের কথা প্রকাশ্যে আনলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী?

টলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর, যাঁর হাসি, সহজ সরল ব্যবহার আর শিল্পচর্চা বরাবরই দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত এই শিল্পী শুধু পর্দাতেই নয়, বাস্তব জীবনেও অত্যন্ত সাধারণ ও মাটির মানুষ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি খুলে বললেন নিজের ছোটবেলা, পরিবার, দুষ্টুমি আর জীবনের দর্শন নিয়ে বহু অজানা কথা।

শৈশবের স্মৃতি বলতে গিয়ে মমতা জানালেন, তিনি বড় হয়েছেন একেবারে স্বাধীন পরিবেশে। বাবা-মা কখনও চাপ দেননি কিছু করার জন্য। বরং চারপাশে যা ঘটছে, তা দেখে শেখার সুযোগ পেয়েছেন। বাড়ির পরিবেশ ছিল যেন এক ওয়ার্কশপ, একদিকে নাচের রিহার্সাল, অন্যদিকে পোশাক বা গয়না তৈরি। ছোটবেলা থেকেই সবকিছুর মধ্যে নিজে হাত লাগাতেন তিনি, যা তাঁর আগ্রহ ও সৃজনশীলতা বাড়িয়ে দেয়।

তবে ছোটবেলার দুষ্টুমিও কম ছিল না। স্কুলে না যাওয়ার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করতেন তিনি। কখনও রোদে দাঁড়িয়ে শরীর গরম করে বাবার কাছে গিয়ে অসুস্থতার ভান, আবার কখনও থার্মোমিটারকে গরম করে জ্বর দেখানোর চেষ্টা, সবই ছিল তাঁর দুষ্টুমির অংশ। এমনকি একবার রসুন বগলে দিয়ে জ্বর আনার চেষ্টাও করেছিলেন, যদিও তাতে উল্টে বিপাকেই পড়তে হয়েছিল তাঁকে।

পরিবারের শিক্ষার প্রসঙ্গে মমতা বলেন, তাঁর মা ছিলেন কঠোর আর বাবা ছিলেন শৃঙ্খলাপরায়ণ কিন্তু নরম স্বভাবের। এই ভারসাম্যই তাঁকে সঠিকভাবে মানুষ হতে সাহায্য করেছে। ভুল করলে তা স্বীকার করার শিক্ষা তিনি ছোটবেলা থেকেই পেয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কাউকে কখনও খারাপভাবে কথা বলতে পারেন না, ভালোভাবে বললে সব কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেই তাঁর বিশ্বাস।

নিজের সাফল্য ও পুরস্কার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মমতা শঙ্কর একেবারে বিনয়ী সুরে বলেন, তিনি নিজেকে কখনও বড় কিছু মনে করেন না। তাঁর কথায়, “আমি কিছুই করি না, সবই ঈশ্বর করান, আমি শুধু মাধ্যম।” এমনকি পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার পরও তাঁর মনে হয়নি এটি তাঁর নিজের কৃতিত্ব। বরং তিনি মনে করেন, এই সবই ঈশ্বরের আশীর্বাদ।

আরও পড়ুনঃ আচমকা ভাইরাল স্ক্রিনশট! অডিশনের প্রস্তাবে অশা’লীন আচরণ! টলিউডের বিতর্কিত অভিনেত্রী ‘ঋ’, ঋতুপর্ণা সেন আবার জড়ালেন ঝামেলায়! মুখ খুললেন অনিমেষ বাপুলি, জানালেন ঘটনা কী?

সবশেষে জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোসের কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। বাবা-মা জীবিত থাকাকালীন তাঁদের কথা মন দিয়ে না শোনা আজ সেটাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় তাঁকে। কারণ এখন সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার আর কোনও উপায় নেই। তাই নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, বাবা-মায়ের প্রতিটি কথা মন দিয়ে শোনা উচিত, কারণ সময় চলে গেলে সেই সুযোগ আর ফিরে আসে না।

You cannot copy content of this page