পর্দায় আলো ছায়ার খেলা, নিত্য নতুন সংলাপ আর মঞ্চের নীরব উত্তেজনার মধ্যেই বেড়ে ওঠা অভিনেত্রী ‘মানসী সিনহা’র (Manasi Sinha)। অভিনয় তাঁর কাছে স্বপ্নপূরণ নয়, বরং শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই স্বাভাবিক। শিল্পী পরিবারেই জন্ম, মা যুক্ত ছিলেন থিয়েটারের সঙ্গে। তাঁরই সঙ্গে খুব অল্প বয়সেই মঞ্চে অভিনয় শুরু হলেও, সেই অভিজ্ঞতাকে কখনও স্মৃতির বাক্সে বন্দি করে রাখেননি মানসী। বরং থিয়েটারের শৃঙ্খলা, মানুষের সঙ্গে সংযোগ আর চরিত্র বোঝার ক্ষমতা মিলেই তাঁর অভিনয়ের ভিত তৈরি হয়েছে।
তাই পর্দায় তাঁকে দেখলে আলাদা করে ‘অভিনয়’ চোখে পড়ে না, বরং মনে হয় চরিত্রটা যেন নিজের মতো করেই কথা বলছে। মানসীর অভিনয়ের শক্তি শুধু সংলাপ বা অভিব্যক্তিতে আটকে থাকে না। তাঁর স্বাভাবিক উপস্থিতি আর সংযত আবেগ তাঁকে যেন একটা ভিন্ন পরিচিতি দিয়েছে। পর্দায় যেসব চরিত্রে তাঁকে দেখা যায়, বাস্তব জীবনেও তাঁর আচরণে সেই উষ্ণতা খুঁজে পাওয়া যায়। সহশিল্পী হোক বা সাধারণ মানুষ, সবার সঙ্গেই তাঁর ব্যবহার সহজ, প্রাণখোলা।
অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন এখন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। প্রসঙ্গত, ব্যক্তিগত বা পেশাগত সিদ্ধান্তের জায়গাতেও তিনি বরাবর স্পষ্ট। সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান থেকে তিনি কখনওই সরে যান না। বামপন্থী মতাদর্শে আস্থা রাখলেও সেটাকে স্লোগানে নয়, চিন্তায় আর কথায় প্রকাশ করতেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ। বর্তমানে যখন টলিউডের একাধিক বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী শিল্পীরা অভিযোগ করছেন যে তাঁরা যথাযথ কাজ বা সন্মান পাচ্ছেন না।
অনেক ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক বা কাজের ক্ষেত্রে বাধাও দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে অভিনেত্রীর কী মতামত? এদিন এই প্রশ্নের উত্তরে মানসী বলেন, “আমারও চার-পাঁচ মাস ধরে কোনও কাজ নেই। শেষ একটা ছবিতে কাজ করেছিলেন, তারপর আর কেউ ডাকছে না। হতে পারে আমার শারীরিক কারণে পছন্দ হচ্ছে না, তাই বলে একটাও অফার আসবে না! বুঝতে পারছি কোনও একটা ভুল তারে ছোঁয়া লাগছে, কিন্তু কিছু করার নেই তাতে। আমার সুযোগ কেড়ে নিলে আমি অভিনয় শেখাবো না হয়ে রান্না করে হোম ডেলিভারি করব, কিন্তু ভাতে মরব না।”
এরপর তাঁকে জানতে চাওয়া হয়, এই যে শাসক দলের বিরুদ্ধে যাঁরা আওয়াজ তুলছেন, তাদের দাবি যে তাঁরা নাকি হুমকি পাচ্ছেন বা বাড়ির সামনে পোস্টার পড়ছে। এই নিয়ে অভিনেত্রীর কী মত? তিনি কি ভয় পান না এইসব কিছুতে? মানসী বলেন, “ভয়ে পেয়ে আরও ভীতু হবে, কী লাভ তাতে? আমার পর্দা কাড়বে, মঞ্চ আছে। মঞ্চ কাড়লে রাস্তা, রাস্তায় তো আর কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না!” শেষে জানতে চাওয়া হয়, এই যে কাজের অভাব তাতে ইচ্ছে করে না, এই মতাদর্শ ছেড়ে অন্য মতাদর্শ গ্রহণ করি?
আরও পড়ুনঃ ‘স্ত্রীর ক্ষেত্রে জিভ-চোখ খু’বলোনোর হু’মকি, আর জি করের নির্যা’তিতার সময় সেই রাগ কোথায় ছিল?’ ‘নারী নিরাপত্তার চিন্তা, না সহানুভূতি পেতে এসব করছেন?’ রাজকে দ্বিচা’রিতার অভিযোগে কাঠ’গড়ায় তুলল নেটপাড়া!
মানসী বলেন, “আমার কাজটা আমি নিজের যোগ্যতায় পাবো আর তাতে যদি না পাই, হয় আমি আর কারোর চোখে যোগ্য নই বা অথবা কেউ চাইছে না যে আমি কাজ করি। যারা কাজ দেন, তাদের বাছতে হবে যে আমি একজন যোগ্য অভিনেত্রীকে নেব, নাকি যারা তাকে নিতে বারণ করছে তার দলে থাকবে!” তাই তাঁর পরিচয় শুধু একজন সফল অভিনেত্রী বা পরিচালক হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাঁর বক্তব্য যেন বারবার ভাবতে বাধ্য করে। শিল্পের সঙ্গে জীবনের এই সংযোগটাই মানসী সিনহাকে আজকের মানসী করে তুলেছে।






