বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে। কোনও প্রশ্নের উত্তর খোঁজা থেকে শুরু করে নানা ধরনের কাজ, সবকিছুই কয়েক মুহূর্তে করে দিতে পারে এই প্রযুক্তি। তবে প্রযুক্তির এই সুবিধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে তার প্রভাব নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে মানুষের ব্যক্তিগত কথাবার্তা এবং পছন্দের বিষয়গুলি কী ভাবে প্রযুক্তির কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, তা নিয়ে অনেকেরই চিন্তা রয়েছে। এবার সেই বিষয়েই নিজের বিরক্তির কথা প্রকাশ্যে জানালেন অভিনেত্রী মানসী সিনহা। এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রীতিমতো মজার ছলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, এখন ব্যক্তিগতভাবে কোনও কিছু নিয়ে আলোচনা করলেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে মোবাইলের বিভিন্ন সাজেশনে। এমনকী স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করাও তাঁর কাছে গোপন রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন মানসী।
সম্প্রতি সায়ন চক্রবর্তীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় নিজের এই অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, দুর্গাপুজোর আগে স্বামীর সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই নিয়ে দু’জনে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই মোবাইল হাতে নিয়ে অবাক হয়ে যান মানসী। তিনি লক্ষ্য করেন, যে জায়গায় যাওয়ার কথা তাঁরা আলোচনা করেছিলেন, সেই জায়গা সম্পর্কে একের পর এক তথ্য তাঁর মোবাইলে আসতে শুরু করেছে। কোথায় যাওয়া যায়, সেই জায়গার কী কী বিশেষত্ব রয়েছে, এমন নানা খুঁটিনাটি বিষয় মোবাইলের পর্দায় ভেসে উঠছিল। অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিজে এই ধরনের বিষয় এড়িয়ে চলার জন্য সবসময় মোবাইলের ইন্টারনেট বন্ধ রাখেন। কিন্তু তাঁর স্বামীর মোবাইলের ইন্টারনেট চালু থাকায় তাঁদের আলোচনার বিষয়টি এআইয়ের কাছে পৌঁছে যায় বলে মনে করেন তিনি।
এই অভিজ্ঞতার পর থেকেই এআইয়ের ব্যক্তিগত পরিসরে প্রবেশ নিয়ে আরও বেশি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মানসী। তাঁর মতে, এখন কাউকে ফোন করার কথা ভাবলেও সেই বিষয়টি যেন আর নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এমনকী মনের মধ্যে কী চলছে, কী নিয়ে চিন্তাভাবনা হচ্ছে, সেসবও প্রযুক্তি জেনে ফেলছে বলে মজার ছলে মন্তব্য করেন অভিনেত্রী।নাসায়ন চক্রবর্তীর সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, ‘আমি যদি এখন মনে করি যে তোকে খু*ন করব, সেটাও শান্তিতে করতে পারব না।’ এরপরই নিজের বিরক্তির কথা বোঝাতে আরও কিছুটা রসিকতার সুরে বলেন, ‘আমার মনের সব কথা জেনে যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।’ অভিনেত্রীর কথায়, মানুষের ব্যক্তিগত ভাবনাচিন্তা পর্যন্ত যদি এআইয়ের জানা হয়ে যায়, তা হলে নিজের মতো করে কিছু করার স্বাধীনতাই বা কোথায় থাকল? তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ব্যক্তিগত জীবনে তৈরি হওয়া অস্বস্তির বিষয়টিই উঠে এসেছে।
এখানেই থেমে থাকেননি মানসী। নিজের বক্তব্যে আরও একটি মজার উদাহরণ দিয়ে এআইয়ের ক্ষমতা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘তারপর দেখব মোবাইলে একের পর এক সাজেশন আসছে যে কিভাবে বা কোন অস্ত্রে মারলে তুই কষ্ট পাবি না।’ এরপরই রসিকতার সুরে বলেন, ‘আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবকিছু জেনে যাওয়ার মানে হল পুলিশও সবকিছু জেনে যাবে।’ সবশেষে তাঁর মন্তব্য, ‘শান্তিতে খুন পর্যন্ত করতে পারব না।’অবশ্যই পুরো কথাটিই তিনি মজার ছলে বলেছেন, এআইয়ের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি বোঝাতেই এমন মন্তব্য করেন অভিনেত্রী। তাঁর এই কথার মধ্যে দিয়ে প্রযুক্তির নজরদারি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে তাঁর অস্বস্তির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। যে প্রযুক্তি মানুষের কাজ সহজ করার কথা, সেই প্রযুক্তিই কখনও কখনও ব্যক্তিগত জীবনে অযাচিতভাবে ঢুকে পড়ছে বলে মনে করছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “একদিন বাড়িতে গিয়ে দেখি…সারা ঘরে শুধু পারফিউমের গন্ধ!” অনামিকা সাহার বাড়িতে গিয়ে কোন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন বোধিসত্ত্ব মজুমদার? ৫০ বছর আগের সেই স্মৃতি আজও অমলিন একটি চিঠিতে, কী লেখা ছিল যে আজও আগলে রেখেছেন? মেয়ের বাড়ি ফেরার অপেক্ষা থেকে, অনামিকা সাহার সঙ্গে দাম্পত্যের একরাশ অজানা কথা ফাঁস করলেন স্বামী?
প্রসঙ্গত, বর্তমানে সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজে অভিনয় করলেও ছোট পর্দার ধারাবাহিক থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রেখেছেন মানসী। নিয়মিত ধারাবাহিকে কাজ না করায় এখন নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সময় পাচ্ছেন অভিনেত্রী। সেই কারণেই দুর্গাপুজোর আগে স্বামীকে নিয়ে কয়েক দিনের জন্য ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। প্রায় এক সপ্তাহের জন্য বাইরে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন দু’জনে। সেই পরিকল্পনা নিয়েই নিজেদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। কিন্তু তাঁদের ব্যক্তিগত কথাবার্তার পর মোবাইলে সংশ্লিষ্ট জায়গার নানা তথ্য দেখতে পেয়ে অবাক হন মানসী। তাঁর এই অভিজ্ঞতাই আবারও সামনে নিয়ে এল প্রযুক্তির সুবিধা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্ন।।এআই মানুষের জীবনকে সহজ করলেও তার ব্যবহার কতটা ব্যক্তিগত পরিসরে প্রভাব ফেলছে, মানসীর মন্তব্যে সেই বিষয়টিই উঠে এসেছে।






