“অভিষেক উঠে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাইড করে দিল, পুরোটাই ‘ওয়ান মেন শো’ ছিল!” “তৃণমূল সরে গেল, লড়াই এবার বাম ও বিজেপির” ১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য, বামপন্থী অভিনেত্রী মানসী সিনহার! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দিলেন, মানসিক চিকিৎসার পরামর্শও!

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যজুড়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ নতুন সরকারকে সমর্থন জানাচ্ছেন, আবার কেউ তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ে হতাশা প্রকাশ করছেন। এই আবহে সরাসরি মত জানালেন অভিনেত্রী মানসী সিনহা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং প্রচারসভা থেকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। তাই রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে তাঁর মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে। ১৫ বছর পর ক্ষমতার পরিবর্তনের পরে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এখন রাজনীতির সমীকরণ বদলাবে। তাঁর মতে, তৃণমূল সরে যাচ্ছে এবং আগামী দিনে প্রধান লড়াই হবে দুই সর্বভারতীয় শক্তির মধ্যে।

মানসী সিনহা বলেন, “এবার তৃণমূল কংগ্রেস সরে যাচ্ছে, লড়াই হবে দুই সর্বভারতীয় দল বাম ও বিজেপির মধ্যে।” তিনি মনে করেন, বর্তমান ফলাফলের পর রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হয়েছে। বিজেপি সরকার সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি বলেন, “আমি বিজেপির শাসনে কোনোদিন থাকি নি। তাঁরা কী করবেন, তাদের সাংগঠনিক কাজ কেমন হবে, আমার জানা নেই।” একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের রায়ের ওপর ভরসা রেখে তিনি যোগ করেন, “এই বাংলার মানুষ যখন তাঁদের নিয়ে এসেছেন, নিশ্চয়ই ভাল কিছু হবে, হয়তো তাঁরা ঠকাবেন না।” তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য না করে তিনি অপেক্ষার কথাই বলেছেন।

বামফ্রন্টের অতীত নিয়েও আত্মসমালোচনার সুর শোনা যায় মানসীর কথায়। তিনি বলেন, “এবার বলা উচিত, বামেদের কিছু ভুল ছিল বলেই তাঁদের সরতে হয়েছে।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক ভুলের ফলেই একসময় বামেদের ক্ষমতা হারাতে হয়েছিল। এখন তিনি দেখতে চান বিজেপি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে কি না। তাঁর কথায়, “দেখা যাক বিজেপি তৃণমূলের মত কথা দিয়ে খেলাপ করেন নাকি।” পাশাপাশি তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। মানসীর দাবি, দলটি মূলত একজনকে কেন্দ্র করেই চলেছে, ফলে ভেতরে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে মানসী বলেন, “বামফ্রন্টের দুষ্টু লোকগুলোকে উনি নিলেন। আসলে টিএমসি হচ্ছে ওয়ান মেন শো, সেই কারণেই অভিষেক উঠে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাইড করে দিল।” তাঁর মতে, একটি আঞ্চলিক দল হিসেবে তৃণমূল সর্বভারতীয় শক্তির সঙ্গে টেক্কা দিতে পারেনি। তিনি বলেন, “আর সর্বভারতীয় স্তরের দলের সঙ্গে লড়তে গেলে উচ্চ মানসিকতা-ব্যবস্থাপনা চাই, সেটা তৃণমূল পারেনি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ে সংগঠন, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের ভারসাম্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ টিআরপিতে ফের বাজিমাত ‘তারে ধরি ধরি’র, হারানো সিংহাসন ফিরে পেল ‘পরশুরাম’! যুগ্ম সাফল্যে নজর কাড়ল ‘বিদ্যা ব্যানার্জি’! অবশেষে স্টার জলসার মুখে হাসি! জি বাংলার ধারাবাহিকের কী অবস্থা? জেনে নিন এই সপ্তাহের তালিকা!

নির্বাচনের ফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়েও মন্তব্য করেন মানসী সিনহা। তাঁর দাবি, পরাজয় মেনে নিতে না পারার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “ওনার বয়স হয়েছে। মানসিক স্থিরতা কামনা করি। আমার মনে হয় ওনার আত্মীয় স্বজনের উচিত খেয়াল রাখা।” আরও যোগ করেন, “এই রোগের একটা নাম আছে। পরাজয় না মানা, ভুলভাল সিদ্ধান্ত নেওয়া। এটা কেউ পাবলিকলি বলে?” শেষে তিনি বলেন, “নতুন করে তো তাকে অপমানিত হতে হল। ওনার ট্রিটমেন্ট দরকার। উনি এটাকে রোগ বলে মানবেন কিনা কে জানে?” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

You cannot copy content of this page