“এটা কোনও রাজনীতি নয়, এক বাঘিনীর লড়াই!” রাজনীতি থেকে দূরে থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘বাঘিনী’ উল্লেখ করে বার্তা মিমির

বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফায়, ২৯ এপ্রিলের ভোটমহারণের দিন সামনে রেখে মিমি চক্রবর্তী একটি শক্তিশালী বার্তা দিলেন। রাজনীতি থেকে দূরত্ব হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তার অকৃত্রিম সমর্থন রয়েছে, এটি স্পষ্ট করলেন মিমি। বুধবার সকালে যখন ভোটের দিন আসন্ন, তখন মিমি তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে তিনি মমতাকে ‘বাঘিনী’ সম্বোধন করেছেন। এই পোস্টটি শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং এক নারীর সাহসিকতা ও সংগ্রামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, যা সমূহ পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক মহিলার লড়াইকেই তুলে ধরে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যাত্রা এককভাবে একটি সংগ্রামের গল্প। সিঙ্গুরে কৃষকদের অধিকার রক্ষায় তার আন্দোলন, দীর্ঘদিনের বাম সরকারের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ—এই সবই তাকে বাংলার মানুষের কাছে ‘বাঘিনী’ হিসেবে পরিচিত করেছে। মিমি চক্রবর্তী এই কথাগুলো তার পোস্টে তুলে ধরে বলেন, “একজন নারীই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। আরেক নারী হিসেবে তাঁর এই সাহসিকতাকে আমরা সম্মান জানাই।” এই বার্তায় শুধু মমতার নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাই প্রকাশ পায় না, বরং নারীর শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের পক্ষে এক শক্তিশালী বক্তব্য রাখেন মিমি।

প্রসঙ্গত, মিমি চক্রবর্তী ২০১৯ সালে তৃণমূলের টিকিটে যাদবপুর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন, এবং রাজনৈতিক জীবনে তার প্রথম পদক্ষেপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই শুরু হয়। তবে গত বছর, তিনি রাজনীতি থেকে ‘বাণপ্রস্থ’ নিয়েছেন। ২০২৪ সালে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরও, মিমি বারবার তার প্রিয় ‘দিদি’ তথা মমতাকে সমর্থন করে এসেছেন। মিমি জানান, রাজনীতির মধ্যে থাকুক বা না থাকুক, তিনি মমতার নেতৃত্বে বিশ্বাস রেখে তার কাজের মাধ্যমে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিতে চান।

মিমি চক্রবর্তীর এই পোস্টটি রাজ্যজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, মিমির মতো একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও সমর্থন প্রকাশ করেন, তখন তা সাধারণ মানুষের মধ্যে শক্তিশালী বার্তা পাঠায়। মিমি লেখেন, “এটা কোনও রাজনীতি নয়, এক বাঘিনীর লড়াই।” এটি যেন বাংলার মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, মমতার লড়াই কখনোই শুধু রাজনৈতিক ছিল না, বরং একটি সামাজিক ও সংস্কৃতিক বিপ্লবের গল্প।

আরও পড়ুন: “মহালয়ার দিন ভোরে জন্ম বলে দাদু নাম রেখেছিল ‘অরুণোদয়’, আজ অস্তে গেছে” “আফসোস রয়ে গেল, সহজের বড় হওয়াটা দেখতে পেল না” রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের এক মাস, চোখে জল নিয়ে দাদা অনির্বাণের হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণ!

উল্লেখ্য, রাজনীতির বাইরে থাকার পরেও মিমি চক্রবর্তী তার পোস্টে এই দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে বললেন, “আমি নিশ্চিত, আমি যদি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না-ও থাকি, আমার কাজের মাধ্যমে আমি মানুষের হৃদয়ে থাকবে।” তার এই মন্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি এক গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মমতার পাশে তার স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য এই বার্তা অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে। মিমি চক্রবর্তী জানিয়ে দিলেন, তার রাজনৈতিক পথচলা যদি আবার শুরু হয়ও, তবে তিনি একাই নয়, মমতার পথেই চলবেন।

You cannot copy content of this page