রাজ্যের বিধানসভা ভোটের আগে একাধিক তারকা ভোটারের মন্তব্য বেশ গুরুত্ব পেয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পরমব্রত তার রাজনৈতিক ভাবনা এবং নির্বাচনী প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি এমন একজন নেতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, যিনি বাঙালি, বাংলার সংস্কৃতি ও মানসিকতা ভালোভাবে বুঝে, জনগণের সঙ্গে একত্রিত হয়ে কাজ করবেন। তার মতে, একজন সফল মুখ্যমন্ত্রী হতে হলে, তাকে কেবল কূটনীতি না জেনে, রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
পরমব্রত জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তার কাছে বড় বিষয় হচ্ছে একজন প্রার্থী বা দলের সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি দল বা দলের নেত্রী দেখেন না, বরং প্রার্থী যেভাবে মানুষের জন্য কাজ করতে চান, সেই মনোভাব দেখে ভোট দেন। এইভাবে একটি নির্বাচনী পরিবেশে, মানুষ কেবল তাদের পরিচিত দল বা নেতা অনুসরণ না করে, বরং তাদের সমাজের জন্য কাজ করার নৈতিকতা যাচাই করতে হবে। তার মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া হওয়া উচিত একটি সমন্বিত সমাজের জন্য, যেখানে নানা দৃষ্টিভঙ্গির লোক একসঙ্গে কাজ করতে পারেন।
বিধায়ক হওয়ার পর তিনি কী পরিবর্তন করতে চান, এই প্রশ্নের উত্তরে পরমব্রত বলেন, এক্ষেত্রে তিনি প্রথমেই মনে রাখবেন, তিনি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। সুতরাং, তাকে জনগণের প্রকৃত চাহিদার দিকে মনোযোগ দিতে হবে এবং ক্ষমতা লাভের পরেও এই চিন্তা কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, রাজনীতির একটা দিক হলো জনগণের সমস্যা সমাধান করা, কিন্তু অনেক সময় ক্ষমতা পেলে মানুষ নিজেকে ‘রাবণ’ মনে করতে শুরু করেন, যা একেবারেই উচিৎ নয়। নির্বাচনী প্রচারে তারকা বা অভিনেতাদের ভূমিকা নিয়ে পরমব্রত কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তিনি মনে করেন, বেশিরভাগ তারকাই রাজনৈতিক বা সামাজিক সচেতনতার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবগত নন, ফলে তাদের জনপ্রিয়তা শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রচারের শর্টকাট হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তার মতে, একজন অভিনেতা বা তারকা যখন রাজনীতিতে আসেন, তখন তাকে শুধু জনপ্রিয় মুখ হিসেবে নয়, একজন সৎ এবং দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে কাজ করতে হবে। এজন্য জনপ্রিয়তার বাইরে, গভীর রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা প্রয়োজন। পরমব্রত আরও বলেন, আমাদের দেশে ভোট বা নির্বাচনী প্রক্রিয়া যথেষ্ট জটিল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি মনে করেন, ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়া একটি বড় নাটকীয় পরিস্থিতি।
যেখানে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য অনেকেই নানা ধরনের লোভের শিকার হন। তবে, এই সমস্যাগুলির সমাধান সহজ নয়, এবং সমালোচনা ও পরিবর্তন করার জন্য একটি সুসংহত সামাজিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। এছাড়া, রাজনৈতিক পেশাদারিত্বে উন্নতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। এখন আসা যাক, পরমব্রতের পছন্দের রাজনীতিবিদদের প্রসঙ্গে। তিনি বলেছেন, তার অনেক প্রিয় রাজনৈতিক নেতার মধ্যে আছেন, যাদের মধ্যে নাম উল্লেখযোগ্য– মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস এবং ড. বিআর অম্বেদকর।
আরও পড়ুন: “আমার আর বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, তোমায় যতক্ষণ না ফিরে পাচ্ছি” ঠাকুমা আশা ভোঁসলেকে হারিয়ে, নাতনি জনাইয়ের করুণ দশা! চোখে দেখা যাচ্ছে না, এমন অবস্থা তাঁর?
কিন্তু বর্তমান রাজনীতির দিকে তাকালে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভারতের অন্যতম সেরা রাজনীতিবিদ হিসেবে মনে করেন। এছাড়া, রাজীব গান্ধী, অনিল বিশ্বাস, সুভাষ চক্রবর্তী, অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রমুখ নেতাদেরও তিনি শ্রদ্ধা জানান। বর্তমানে, দক্ষিণ ভারতের নেতাদের মধ্যে এমকে স্তালিন এবং ডি শিবকুমারকে তিনি বেশ প্রশংসা করেন। তবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মস্তিষ্ক তাকে খুবই প্রভাবিত করেছে। পরমব্রত মনে করেন, নতুন রাজনৈতিক চিন্তা ও সৃজনশীলতার জন্য তিনি এই নেতাদের প্রতি এক ধরনের সম্মান অনুভব করেন।






