‘হৃদয়ে জন্ম নেওয়া চৈতন্যের বৈরাগ্যই আমার রূপান্তর’ পেট ভিতরে ঢুকে, পাঁজর এসেছে বেরিয়ে! তবুও দিব্যজ্যোতি সর্বক্ষণ নিজের মধ্যেই খুঁজছেন শ্রীচৈতন্যের ছায়া! চরিত্র শেষ হলেও, একাত্ম হয়ে রয়ে গেছেন অভিনেতা!

বড়পর্দায় প্রথম ছবিতেই তরুণ অভিনেতা দিব্যজ্যোতি দত্তের (Dibyojyoti Dutta) নতুন রূপান্তর দর্শক থেকে সমালোচক, সকলের মন ছুঁয়ে গেছে। গত বছরের শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ (Lawho Gouranger Naam Rey) ছবিতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর চরিত্রে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে গড়ে তুলতে গিয়ে তিনি শুধু চেহারায়ই নয়, মনেও দিক থেকেও একাত্ম হয়ে গিয়েছেন! চরিত্র শেষ হয়ে গেলেও, তাঁর সেই বদল যেন আজও সঙ্গে রয়ে গেছে! আবারও সেটাই স্পষ্টভাবে উঠে এলো, সাম্প্রতিক একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে।

এদিন অভিনেতা নিজের দুটি অবস্থার ছবিকে পাশাপাশি দেখে কোলাজ বানিয়ে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেছে। সেখানেই ডান দিকে দেখা যাচ্ছে তাঁর সুপুরুষ শরীর, জিমের যন্ত্রপাতি। অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, পেট ভিতরে ঢুকে গেছে, হাড় পাঁজর বেরিয়ে এসেছে এবং মাথার চুল নেই বললেই চলে। ছবিটি দেখে অনেকেই প্রথমে ভয় পেয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই পরিবর্তন কোনও অসুস্থতার প্রতিফলন নয়, বরং চরিত্রের সঙ্গে মিলনের প্রতীক!

দিব্যজ্যোতি নিজেই বলেছেন, আজ আয়নার দিকে তাকালে তিনি আর নিজের শরীর দেখতে পান না! বরং সর্বক্ষণ খোঁজেন শ্রীচৈতন্যের ছায়া! চরিত্রের সঙ্গে এই সম্পূর্ণ একাত্মতা তাঁকে যে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিয়ে গেছে, তা তাঁর কথায় বোঝা যায়। তিনি মনে করেন, মহাপ্রভুর বৈরাগ্য তাঁর হৃদয়ের গভীরে জন্ম নিয়েছে এবং সেই বৈরাগ্যই তাকে চৈতন্যরূপে পরিণত করেছে! শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবে ও আত্মিকভাবেও অভিনয়ের জন্য বিপুল পরিশ্রম করেছেন তিনি।

পেটানো শরীর থেকে ২৭ কেজি ওজন কমানো, জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কসরত, এবং নিজের মনকে চরিত্রের সঙ্গে একত্রীকরণের চেষ্টাই এই রূপান্তরের অংশ। তিনি নিজে বলেছেন, এটি শুধু ওজন কমানোর গল্প নয়, বরং ২৭ স্তর ‘আমি’কে ছেড়ে দেওয়ার এবং চরিত্রের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এক দীর্ঘ যাত্রা। বড়পর্দায় তিনি সবার নজর কেড়েছেন। যদিও ছবিটি নিয়ে নানান বিতর্ক এবং সমালোচনা চলছে। তবে, সব দর্শকই বলেছেন যে দিব্যজ্যোতি দত্ত শ্রীচৈতন্যর চরিত্রে অসাধারণভাবে মানিয়ে গাছেন।

আরও পড়ুনঃ “দেবলীনা না বাঁচ’লেই ভালো হতো, তাহলে অন্তত সায়কের চরিত্রে দাগ লাগত না!” সমাজ মাধ্যমের নিষ্ঠু’রতায় সায়কের পাশে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা সুকান্তের! প্রাণর’ক্ষায় বন্ধুত্ব ঘিরে বিতর্কে, ইনফ্লুয়েন্সার নেটিজেনদের তুললেন কাঠগড়ায়!

ছবির সাফল্য যেমন আনন্দের, তেমনি তাঁর ব্যক্তিগত রূপান্তরও মানুষকে ভাবায় যে কিভাবে একজন অভিনেতা চরিত্রের জন্য নিজেকে এতটা বদলাতে পারে! প্রথম অভিনেতা হিসেবে পুরীর মন্দিরে তাও আবার চৈতন্য রূপে অভিনয় করা, মুখের কথা নয়। তাই তিনি নিজের অন্তরে চৈতন্যকে খুঁজে পাচ্ছেন আজও। তাঁর এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ যে অভিনয় কেবল মনুষ্যিক প্রতিভার নয়, আত্মিক আবেশেরও খেলা। এই ভিন্ন রূপ, এই অদম্য একাগ্রতা দর্শকদের কাছে দিব্যজ্যোতিকে এক নতুন আলোয় দেখিয়েছে। একজন অভিনেতা যে চরিত্রকে শুধু অভিনয় করেননি, বরং তাকে জীবনের অংশ করে তুলেছেন।

You cannot copy content of this page