“দাদার মানসিক অবস্থা মোটেই ভেঙে পড়েনি, আর্থিক সমস্যাও ছিল না..ওকে নিয়ে যে গল্প বানাচ্ছে সম্পূর্ণ মিথ্যে” খেতে না পেয়ে অন্যের কাছে টাকা চেয়েছিল? গুজবের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন, প্রয়াত অভিনেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়ের ভাই! কার উপর পরিবারের মানসিক চাপ বাড়ার অভিযোগ?

টলিপাড়া এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি, অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃ’ত্যুর। তাঁরই মাঝে যখন হঠাৎ করে আরও এক তরুণ অভিনেতার চলে যাওয়ার খবর সামনে আসে, তখন অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি যে এত অল্প বয়সেই প্রণব চট্টোপাধ্যায় (Pranab Chatterjee) আর নেই! শুটিংয়ের কাজে বাইরে গিয়ে এমন একটা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মধ্যে পড়বেন, তা কেউ ভাবেননি। সহকর্মীদের অনেকেই বলছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সবকিছুই যেন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয়, যেখান থেকে আর ফেরানো যায়নি।

এই আকস্মিকতার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার, যারা এখনও ঠিক করে বোঝার চেষ্টা করছে কীভাবে এমনটা হলো। এই ঘটনার পর থেকেই এদিকে নানান ধরনের কথা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, বিশেষ করে তাঁর আর্থিক অবস্থা ও মানসিক চাপ নিয়ে। কিন্তু মৃ’ত্যুর দুদিন পর প্রণবের ভাই প্রণয় চট্টোপাধ্যায় সামনে এসে একেবারে অন্য ছবি তুলে ধরলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যেসব কথা চারদিকে ঘুরছে, তার অনেকটাই ভিত্তিহীন! পরিবারের তরফে তিনি বলেন, প্রণব কোনও আর্থিক সংকটে ছিলেন না।

তাঁদের নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে এবং ন্যূনতম চাহিদা মেটাতে কখনও সমস্যা হয়নি। কাজের দিক থেকে স্বাভাবিক ওঠানামা থাকলেও সেটাকে জীবন-মর’ণ সমস্যার মতো করে দেখানো হচ্ছে, যা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। প্রণয়ের বক্তব্যে একটা আক্ষেপ স্পষ্ট, দাদার মৃ’ত্যু নিয়ে যেভাবে গল্প তৈরি করা হচ্ছে, তা তাদের জন্য আরও কষ্টদায়ক হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে প্রণবের নিজের মতো কিছু চিন্তা ছিল, যেমন ভালো চরিত্র না পাওয়া নিয়ে হতাশা যা ইন্ডাস্ট্রির অনেকেরই থাকে।

কিন্তু সেই স্বাভাবিক উদ্বেগকে অতিরঞ্জিত করে এমনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, যেন তিনি চরম অসহায় অবস্থায় ছিলেন। এমনকি কারও কাছ থেকে টাকা চাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তাঁর ছিল না বলে জানিয়ে দেন তিনি। বিশেষ করে অভিনেত্রী অলকানন্দা গুহ যে মন্তব্য করেছিলেন, যেখানে প্রণবের কাজের অভাব ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়ার কথা বলা হয়, সেটাকেও প্রণয়ের পরিবার সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতিকে বিকৃত করছে এবং প্রণবকে অন্যভাবে তুলে ধরছে।

আরও পড়ুনঃ “ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা নতুনদের পারিশ্রমিক দিচ্ছে না, পুরনোদেরও সুযোগ মিলছে না” মৃ’ত্যুর আগেই টলিউড ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ প্রকাশ রাহুল অরুণোদয়ের! জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কোন আক্ষেপ নিয়ে চলে গেলেন তিনি?

পরিবারের দাবি, সহানুভূতি দেখানোর নামে ভুল তথ্য ছড়ানো হলে তা মৃত ব্যক্তির প্রতি অন্যায় হয়। প্রণয়ের কথায়, “যেখানেই থাকুক দাদা, এসব দেখলে কষ্টই পেত।” তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে এক তরতাজা ছেলেকে হারানোর শূন্যতা। ৩৩ বছর বয়সে পরিবারের ভরসা হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ার যে মানসিক ধাক্কা, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সেই জায়গা থেকেই তিনি অনুরোধ করেছেন, যারা খবর করছেন বা মত দিচ্ছেন, তারা যেন একটু সংযত হন এবং যাচাই না করা তথ্য ছড়ানো বন্ধ করেন। কারণ এই মুহূর্তে পরিবারের প্রয়োজন সহমর্মিতা, গল্প নয়।

You cannot copy content of this page