“ও তো খুব ভালো সাঁতার জানত, জলে ডুবে যাবে, এটা মানা যায়?” চোখে জল নিয়ে বি*স্ফোরক তথ্য ফাঁস, রাহুল অরুণোদয়ের মাসির! ‘মাসি মাং’স রেঁধে রাখ, আমি আসছি’ বলা ছেলেটি আর ফিরবে না! ফাঁকা পড়ে প্রিয় চেয়ার, শিলিগুড়ির বাড়িতে এখন শুধুই শো’কের ছায়া!

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির আকস্মিক মৃত্যুর খবর যেন বজ্রাঘাতের মতো নেমে এসেছে তাঁর পরিবার এবং পরিচিত মহলে। এখনও অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, এত প্রাণবন্ত একজন মানুষ হঠাৎ করে এভাবে চলে যেতে পারেন। টলিপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, কিন্তু তার থেকেও বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে তাঁর নিজের মানুষদের জীবনে। বিশেষ করে শিলিগুড়ির বাড়িতে, যেখানে তাঁর আসা-যাওয়া, হাসি-আড্ডা ছিল প্রায় নিত্যদিনের অংশ, সেখানে এখন শুধুই নিস্তব্ধতা।

শিলিগুড়ির অরবিন্দ পল্লীর সেই ছোট্ট বাড়িতে থাকেন রাহুলের মাসি, বিজয়া মজুমদার। ভাগ্নের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল খুবই গভীর। ছোটবেলা থেকেই রাহুলের কাছে এই বাড়িটা ছিল আলাদা এক টান। কাজের ফাঁকে, শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও সুযোগ পেলেই ছুটে আসতেন মাসির কাছে। আর বিজয়া দেবীও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন, কখন দরজায় কড়া নাড়বে তাঁর প্রিয় রাহুল। সেই বাড়িতেই আজ নেমে এসেছে অদ্ভুত এক শূন্যতা,যেখানে প্রতিটি জিনিসে রাহুলের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

হঠাৎ করেই সেই দিন বিকেলে বেজে ওঠে ফোন। ওপার থেকে আসে ভয়ঙ্কর খবর, রাহুল আর নেই। প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি বিজয়া দেবী। যেন সবকিছু অবাস্তব লাগছিল। তিনি জানান, চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছিল ছোটবেলার রাহুলের মুখ। কানে বাজছিল তার সেই চেনা ডাক “মাসি, আমি আসছি তোমার কাছে।” কথাগুলো বলতে গিয়েই বারবার থেমে যাচ্ছিলেন তিনি। গলার স্বর ভারী হয়ে আসছিল, চোখে জমে উঠছিল জল।

বিজয়া দেবী আরও জানান, রাহুল খুবই সহজ-সরল স্বভাবের মানুষ ছিলেন। বাড়িতে এলেই যেন এক অন্যরকম আনন্দ ছড়িয়ে পড়ত। বিশেষ করে তাঁর প্রিয় খাবার নিয়ে ছিল আলাদা উচ্ছ্বাস। প্রায়ই বলতেন, “মাসি, মাংস রেঁধে রাখ, আমি আসছি।” সেই কথা আজ শুধু স্মৃতিতেই রয়ে গেছে। বাড়ির এক কোণে রাখা তাঁর প্রিয় চেয়ারটাও এখন ফাঁকা পড়ে আছে, যেন প্রতিদিনই অপেক্ষা করছে, যদি আর একবার ফিরে আসে সে।

আরও পড়ুনঃ “বাংলায় কি আর কোনও শিল্পী নেই, কেন শুধু অনির্বাণকেই নিয়ে এত মাতামাতি?” “আমার অভিনয় যদি এতই প্রশংসিত হয়, তাহলে কাজ দিচ্ছেন না কেন?” রুদ্রনীল ঘোষের বি*স্ফোরক প্রশ্ন! টলিউডে উত্তাপ চরমে, নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিলেন অভিনেতা?

সবচেয়ে বেশি অবাক করে দিয়েছে তাঁর মৃত্যুর কারণ। কাঁপা গলায় বিজয়া দেবী বলেন, “ও খুব ভালো সাঁতার জানত, জলে ডুবে যাবে এটা ভাবতেই পারছি না।” এই অবিশ্বাস আর শোক নিয়েই এখন দিন কাটছে তাঁর। অরবিন্দ পল্লীর সেই বাড়িতে আজ আর কোনও হাসির শব্দ নেই, নেই প্রিয় মানুষের পায়ের আওয়াজ, আছে শুধু নীরবতা, স্মৃতি আর একরাশ না-পারা মানিয়ে নেওয়ার যন্ত্রণা।

You cannot copy content of this page