“এই অস্বাভাবিক শুনানিতে ১৩ বছরের বাচ্চার মনে…” মা প্রিয়াঙ্কার একার সংগ্রাম, বাবাকে হারিয়ে কিশোর বয়সেই নিঃসঙ্গ লড়াই, সহজের হয়ে কলম ধরলেন সন্দীপ্তা সেন! লিখলেন কী?

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা সময়েই আলোচনা হয়েছে। স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের পর তাঁর জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল বলে পুরোনো সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছিলেন তিনি। যদিও আইনত বিচ্ছেদ হয়নি, তবুও নতুন সম্পর্কে জড়ানোর কথা তিনি লুকোননি। টলিউডে অনেকেই জানতেন অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পরে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। সময়ের সঙ্গে আবার প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। তাঁদের ছেলে সহজের কথা ভেবে আবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন দুজনেই। জীবনের শেষ কয়েক বছরে সন্দীপ্তার সঙ্গে রাহুলের কোনও যোগাযোগ ছিল না বলেই জানা যায়।

রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুতে চারদিন পর অবশেষে মুখ খুললেন সন্দীপ্তা সেন। ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে রাহুল আর নেই। তাঁর লেখায় উঠে আসে রাহুলের বহুমুখী প্রতিভার কথা। শুধু অভিনয় নয়, লেখালিখি এবং কবিতার প্রতিও রাহুলের গভীর ভালোবাসা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। চন্দ্রবিন্দুর একটি জনপ্রিয় গানের লাইন ছিল রাহুলের খুব প্রিয়, সেটির কথাও মনে করিয়ে দেন সন্দীপ্তা। সেই লাইন যেন আজ বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভেবে আরও কষ্ট পাচ্ছেন তিনি। দীর্ঘদিনের নীরবতার পর এই পোস্টে তাঁর আবেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি রাহুলের বাড়িতে গিয়েছিলেন সন্দীপ্তা। সেখানে গিয়ে তিনি এক গভীর শূন্যতার ছবি দেখেছেন বলে জানান। রাহুলের ঘর, নতুন করে সাজানো জিম, বই আর পোস্টারের সংগ্রহ সবই যেন এখনও তাঁর অপেক্ষায় রয়েছে। বহুদিন পর দেখা হলেও রাহুলের পোষ্য কুকুর কুট্টুস তাকে চিনতে পেরেছে। সেই মুহূর্তে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। নির্বাক প্রাণীর সেই কষ্ট তাঁর লেখায় উঠে এসেছে। তিনি জানান, কুট্টুস যেন বুঝতেই পারছে না কী হয়েছে, কিন্তু তার আচরণে দুঃখ স্পষ্ট। এই দৃশ্য তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।

এই কঠিন সময়ে প্রিয়াঙ্কা সরকারের ভূমিকাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন সন্দীপ্তা। তিনি বলেন, একদিকে পরিবার সামলানো, অন্যদিকে মিডিয়ার চাপ, সব মিলিয়ে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা। তবুও নিজের মন শক্ত রেখে সব কিছু সামলানোর চেষ্টা করছেন তিনি। এই শক্তির জন্য প্রিয়াঙ্কাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সন্দীপ্তা। পাশাপাশি ছোট্ট সহজের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা যে কতটা গভীর, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানান। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেন।

আরও পড়ুনঃ অকালে হারিয়েছেন ভাই সম অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়কে! এবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের মা! ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা

তবে শুধু স্মৃতিচারণ নয়, রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্নও তুলেছেন সন্দীপ্তা সেন। তাঁর মতে, এই ঘটনায় বড় ধরনের গাফিলতি থাকতে পারে এবং সঠিক তদন্ত হওয়া জরুরি। তিনি স্পষ্টভাবে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু মানুষের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। শোকের সময়ে অযথা বিচার না করে সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের মন্তব্য একটি কিশোরের মনে কী প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যক্তিগত শোকের ধরন সবার আলাদা হতে পারে, সেটি বোঝার পরামর্শ দেন তিনি। শেষমেশ রাহুলকে স্মরণ করে তাঁর লেখা শেষ হয় গভীর শূন্যতার অনুভূতিতে।

You cannot copy content of this page