“রাহুলের মতো অসৎ ছেলে নেই!” “রাজের জন্য মা’নসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম, প্রতিদিন মনে হতো…” ১৮ বছর পর সুপারহিট ছবির নেপথ্যের বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন রাহুল অরুণোদয়! ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সফল, তবু কেন নায়ককে নিয়েই তিক্ততা রাজের?

বর্তমানে তো সেই অর্থে বাংলায় বাণিজ্যিক ছবির সংখ্যা কমেই গেছে। একটা সময় ছিল যখন, সারা বছর ধরে রমরমিয়ে চলত এইসব ছবি। তেমনই একটি ছবির নাম ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ (Chirodini Tumi Je Amar)। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি, এখনও অনেকের মনে এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। পরিচালক ‘রাজ চক্রবর্তী’র (Raj Chakraborty) এই ছবিতেই মূলত নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ‘রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Rahul Arunoday Banerjee) এবং তাঁর বিপরীতে ছিলেন ‘প্রিয়াঙ্কা সরকার’ (Priyanka Sarkar)।

সাধারণ এক প্রেমের গল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবি তখনকার দর্শকের মনে গভীর দাগ কেটেছিল। বক্স অফিসেও ছবিটি সফল হয়েছিল, গানগুলো আজও বেশ জনপ্রিয়। এত জনপ্রিয়তা এবং সাফল্যের মাঝেও ছবিটিকে ঘিরে একটি অদৃশ্য অস্বস্তি যে বহু বছর ধরে রয়ে গিয়েছিল, তা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে আনলেন ছবির নায়ক রাহুল নিজেই। অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে ফিরে তাকিয়ে রাহুল জানিয়েছেন, ছবির কাজের সময় থেকেই পরিচালক এবং তাঁর মধ্যে একটা অদ্ভুত অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল।

তাঁর কথায়, শুরুতে তাঁকে নায়ক হিসেবে নেওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিচালকের বিশ্বাসে যেন ফাটল ধরছিল। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে খুব সহজ ছিল না, বিশেষ করে তখন তিনি খুবই নতুন এবং বয়সও কম। সাক্ষাৎকারে রাহুল স্পষ্টভাবে বলেন, “রাজ আমাকে খুব বিরক্ত করেছে একটা সময়ে। একবার কাউকে ছবিতে কাস্ট করে নিলে বিশ্বাস করতে হয় তাঁকে। রাজ আমাকে কাস্ট করে ফেলেছিল, কিন্তু ক্রমশ বিশ্বাস হারাচ্ছিল নায়ক হিসেবে। হয়তো রাজ আরও দক্ষ বা সুন্দর কাউকে চাইছিল, সেটা আমার জানা নেই।

এরপর ছবিটা মুক্তির মাস দুয়েকের মধ্যেই রাজ আনন্দবাজারে একটা ইন্টারভিউ দেয় আর সেখানে বলে যে ‘রাহুলের মতো অসৎ ছেলে আর একটা নেই!’ আর এই জিনিসটা আমায় খুবই আঘাত করেছিল সেই সময়। কারণ, এটা সেই সময়কার কথা যখন আনন্দবাজার পড়ে বাঙালির দিন শুরু হতো। খুবই প্রভাব ছিল তখন এই সংবাদপত্রের। সেই সময় অনেকেই হাতে মাথা কাটতেন, যারা ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন। সবথেকে খারাপ লেগেছিল যে আমাদের কোনও প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়নি রাজের কথার পরিপ্রেক্ষিতে।

প্রতিদিন তাই বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মনে হতো, সবাই জেনে গেছে আমাকে নিয়ে রাজ এটা বলেছে। একেই তখন অল্প বয়স আর সবে সবে এই পেশায় এসেছি। এখন আমার ৪২, তখন মাত্র ২৩ বছর ছিল। মেটানো সম্ভব হলো না কোনদিনও আর রাজের সঙ্গে এই সমস্যাটা। আসলে ওর সঙ্গে কথা বলার মতো কিছুই নেই আমার। হয়তো ওর সঙ্গে আমার জ্ঞান বা পড়াশোনা মেলে না। কাজেই আমার কখনও মনে হয়নি যে আবার বন্ধুত্বের সূত্রপাত হোক।” তাঁর মন্তব্যের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট যে ছবিটি দর্শকদের কাছে যতটা ভালোবাসা পেয়েছিল, পর্দার আড়ালের গল্পটা ততটাও মসৃণ ছিল না।

বিশেষ করে সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে একটি বড় সংবাদপত্রে এমন মন্তব্য প্রকাশ পাওয়া একজন নতুন অভিনেতার জন্য কতটা চাপের হতে পারে, সেটাও রাহুলের কথায় পরিষ্কার। তিনি যেমন বলেছেন, তখন তিনি এক তরুণ, যে সদ্য এই পেশায় পা রেখেছে। ফলে চারপাশে কীভাবে এই খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, তা তাঁর কাছে মানসিকভাবে বেশ কঠিন হয়ে উঠেছিল। মজার বিষয় হল, পর্দায় যে প্রেমকাহিনি দর্শকদের মন ছুঁয়েছিল, বাস্তবেও সেই ছবির শুটিংয়ের সময়ই রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে অনেকেই জানেন।

আরও পড়ুনঃ “থা’প্পড় মে’রেও দাঁড়িয়েছি, প্রস্তাব ফিরিয়ে চরম ফলও ভুগেছি!” ইন্ডাস্ট্রির অস্বস্তিকর বাস্তবতা আনলেন সামনে! ‘কাস্টিং কাউচ’ প্রসঙ্গে এতদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন নির্ভীক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়!

ফলে ছবিটি শুধু একটি সফল রোমান্টিক সিনেমা হিসেবেই নয়, টলিউডের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সাক্ষী হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে আছে। ছবির গল্প, গান এবং আবেগ দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল বলেই এত বছর পরেও এটি নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু এত সাফল্যের মাঝেও এই ছবিকে ঘিরে যে একটি চাপা বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে থেকে গিয়েছিল, তা এতদিন খুব একটা প্রকাশ্যে আসেনি। সময়ের ব্যবধানে সেই পুরনো অভিজ্ঞতা সবার সামনে। ফলে নতুন করে আলোচনায় উঠে এল সেই জনপ্রিয় ছবির নেপথ্যের সম্পর্কের টানাপোড়েন, যা হয়তো দর্শকরা কখনও পর্দার সামনে বসে টেরই পাননি।

You cannot copy content of this page