একটা সময় ছিল যখন বিনোদন জগতে কাজ মানেই ছিল দীর্ঘ লড়াই, অগাধ ধৈর্য আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সেই সময়ের শিল্পীরা নিজের কাজের প্রতি এমনভাবে নিবেদিত থাকতেন, যা আজকের দিনে অনেকের কাছে গল্পের মতো শোনায়। এখনকার যুগে প্রযুক্তির উন্নতি, দ্রুত সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা আর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব সব মিলিয়ে কাজের ধরন ও মানসিকতা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ফলে অনেকেই মনে করেন, আগের মতো সেই ‘কমিটমেন্ট টু দ্যা ওয়ার্ক’ বা কাজের প্রতি একাগ্রতা এখন কমে এসেছে। তবে এই ধারণা কতটা সত্যি, তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যায়।
এই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন টলিউডের পরিচিত অভিনেতা রজতাভ দত্ত। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় জগতে সক্রিয় এই অভিনেতা নিজের অভিনয় দক্ষতা ও ভিন্নধর্মী চরিত্রের জন্য আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। বাংলা সিনেমায় তাঁকে প্রায়শই খলনায়কের চরিত্রে দেখা গেছে, যেখানে তাঁর অভিনয় দর্শকদের বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সম্প্রতি নিজের অভিজ্ঞতার নিরিখেই তিনি বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন।
শুধু অভিনয় নয়, সিনেমা এবং শিল্প নিয়ে নানা বিষয়েও তিনি বরাবরই সরব। বিভিন্ন সময়ে ইন্টারভিউ কিংবা আলোচনায় তিনি সিনেমার গুণমান, গল্পের গুরুত্ব, এবং শিল্পীদের মানসিকতা নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল শিল্পমাধ্যম, যেখানে কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
“বর্তমান প্রজন্মের ডেডিকেশন কমে গেছে”এই ধারণাকে পুরোপুরি সমর্থন করেন না তিনি। তাঁর মতে, সব গল্প তো সবার কাছে পৌঁছয় না, তাই বাইরে থেকে দেখে অনেক সময় ভুল ধারণা তৈরি হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, এখনকার ছেলেমেয়েরাও যথেষ্ট ডেডিকেটেড। আসলে একজন শিল্পীর কাছে তার কাজ কতটা স্বপ্নের, সেটাই নির্ধারণ করে সে কতটা পরিশ্রম বা ত্যাগ করতে পারবে। যদি কেউ নিজের কাজকে সত্যিই ভালোবাসে, তাহলে সেই স্যাক্রিফাইস তার কাছে আলাদা করে বড় কিছু মনে হয় না।
আরও পড়ুনঃ ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মুখ খুলল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন! শুটিংয়ে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে তোলপাড়, রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুতে কড়া অবস্থানে সর্বভারতীয় সিনে সংগঠন!
রজতাভ দত্ত আরও বলেন, যখন একজন শিল্পীর মনে হয় সে যতটা দিচ্ছে তার তুলনায় কম পাচ্ছে, তখনই সেই ত্যাগের জায়গাটা কমে আসে। প্রত্যেকেই নিজের মনে একটা হিসেব রাখে। কিন্তু যদি মনে হয়, ‘এটাই তো চেয়েছিলাম’, তাহলে আর সেটাকে কষ্ট বা স্ট্রাগল বলে মনে হয় না। পাশাপাশি তিনি বলেন, বাঙালির একটা স্বভাব আছে সবকিছুকে হয় অত্যন্ত ভালো, নয় অত্যন্ত খারাপ বলে বিচার করা। মাঝামাঝি জায়গাটার মূল্যায়ন অনেক সময় হয় না। তাঁর এই মন্তব্যে বর্তমান বিনোদন জগতের বাস্তব চিত্রটাই যেন ফুটে উঠেছে।






