শুক্তো থেকে মাটন কষা, গন্ধরাজ ভেটকি! রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলির বিয়েতে রাজকীয় ভোজ! তারকা সমাগমে জমজমাট সন্ধ্যা, কারা দিলেন কী উপহার? সবার পাতে পড়ল আর কী কী?

বিয়ে মানেই শুধু সাতপাক বা মালাবদল নয়, বাঙালির বিয়ের আসল আনন্দ লুকিয়ে থাকে ভোজ আর আপনজনদের মিলনমেলায়। প্রেমদিবসের বিশেষ দিনে রাজকীয় আয়োজনের মধ্যেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন এই জনপ্রিয় জুটি। ঐতিহ্য মেনে সাজানো হয়েছিল তাঁদের বিয়ের আসর, আর সেই সঙ্গে অতিথিদের জন্য ছিল একেবারে ঘরোয়া অথচ সমৃদ্ধ বাঙালি খাবারের আয়োজন। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ, তাঁদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে।

বিয়ের ভোজের শুরুতেই ছিল সাবেকি বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। অতিথিদের পাতে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, ডাল আর সুস্বাদু শুক্তো পরিবেশন করা হয় ভালোবাসা দিয়ে। তবে মেনুর বিশেষ আকর্ষণ ছিল বরের পছন্দের পদ। বেগুনভাজা যে তাঁর প্রিয়, তা জানতেন সকলেই। তাই বিশেষ যত্নে তৈরি করা হয়েছিল মুচমুচে বেগুনভাজা সহ নানা রকম ভাজা। খাবারের প্রতিটি পদেই ছিল যত্ন আর আবেগের ছোঁয়া, যেন অতিথিদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে নবদম্পতির আনন্দের অংশবিশেষ। ঐতিহ্য আর ব্যক্তিগত পছন্দের এই মেলবন্ধন ভোজকে করে তোলে আরও স্মরণীয়।

বাঙালির উৎসব মানেই মাছ আর মাংসের রসনা তৃপ্তি, আর এই বিয়েতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মেনুতে ছিল ঝালমাখা পাবদার পদ আর সুগন্ধি গন্ধরাজ ভেটকি, যা অতিথিদের মন জয় করে নেয় মুহূর্তেই। আমিষের মূল আকর্ষণ ছিল মশলাদার মাটন কষা, যার গাঢ় স্বাদ ভোজকে এনে দেয় আলাদা মাত্রা। লুচি বা ভাতের সঙ্গে এই সব পদ যেন জমিয়ে দেয় আড্ডা আর উৎসবের আবহ। একের পর এক সুস্বাদু পদে ভরপুর এই আয়োজন অতিথিদের কাছে হয়ে ওঠে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

মিষ্টিমুখেও ছিল চমক। বাঙালি বিয়ের শেষ পাতে যেমন থাকে চিরচেনা মিষ্টি, এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পরিবেশন করা হয়েছিল মাখা সন্দেশ আর ঘন ক্ষীরের রাবড়ি, যা খেয়ে অতিথিরা মুগ্ধ। এর পাশাপাশি বিয়ের আবেগঘন মুহূর্তও ছিল সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মণ্ডপে নববধূকে আদরে তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে সবার সামনে কপালে আলতো চুম্বন, প্রতিটি দৃশ্য যেন নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতিকে আরও গভীর করে তোলে। ভালোবাসা আর স্নেহে ভরা সেই মুহূর্তগুলো ধরা পড়ে সবার ক্যামেরায়।

আরও পড়ুনঃ “মহানায়কের পা ধরে ক্ষমা চেয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন!” এমন কোন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে উত্তম কুমারের পা ধরে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল বলিউড বিগবি-কে? মহানায়ক হওয়ার কি অহংকার ছিল তাঁর?

অনুষ্ঠান শেষ হতেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নবদম্পতির ছবি আর ভিডিও। শুভেচ্ছার বন্যায় ভেসে যান তাঁরা। সহকর্মী থেকে অনুরাগী, সকলেই তাঁদের নতুন জীবনের জন্য ভালোবাসা জানাতে ভোলেননি। ঐতিহ্য, আবেগ আর আনন্দে ভরা এই বিয়ের গল্প এখন টলিপাড়ার মুখে মুখে। প্রিয়জনদের আশীর্বাদ আর হাসিখুশি মুহূর্তে ভরা এই উৎসবের মধ্য দিয়েই শুরু হলো তাঁদের নতুন পথচলা, যেখানে ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় বন্ধন হয়ে থাকবে।

You cannot copy content of this page