‘পচে যাওয়া স্টার পাওয়ারের ঔদ্ধত্য…উনি স্রেফ ঘৃ’ণার যোগ্য!’ ‘ফুটপাথের ভোটে জয়ী হয়ে, তাদের মেম্বার অফ পার্লামেন্টের অযোগ্য বলে অপমান, ফুটপাতের মানুষই একদিন ছুড়ে ফেলবে আপনাকে!’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে একহাত নিলেন ঋদ্ধি সেন! ‘ফুটপাতের মেয়ে’ মন্তব্য ঘিরে নজিরবিহীন কটা’ক্ষ ভাইরাল!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি সেন অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা বিষয়েও স্পষ্ট মত প্রকাশের জন্য পরিচিত। সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে তিনি প্রায়ই সমাজমাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান। এবার তাঁর ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছেন অভিনেত্রী তথা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে রচনার করা একটি মন্তব্যকে ঘিরে সরব হন ঋদ্ধি। সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট লিখে তিনি রচনার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এমন মন্তব্য সাধারণ মানুষের প্রতি অসম্মানজনক। সেই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

ঋদ্ধির বক্তব্যের সূত্রপাত রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই মন্তব্যকে ঘিরে, যেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, নির্বাচনে তাঁর বদলে কেন কোনও “ফুটপাতের মেয়ে” বা “গড়িয়াহাটের মেয়ে”-কে প্রার্থী করা হল না। এই মন্তব্যকে অত্যন্ত আপত্তিকর বলে মনে করেন ঋদ্ধি। তাঁর কথায়, “রচনা ব্যানার্জি নিজের অপরিহার্যতা এবং ঠুনকো দম্ভের রচনা পড়তে পড়তে বললেন যে নির্বাচনে তার বদলে কোনো ‘ফুটপাথের’ বা ‘গড়িয়াহাটের’ মেয়েকে কেন দাঁড় করালেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এই মনোভাব একমাত্র এবং একমাত্র এই রাজ্য, দেশ এবং পৃথিবীর সব থেকে বড় শত্রু।” তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য সমাজের পরিশ্রমী ও সাধারণ মানুষকে ছোট করে দেখার মানসিকতার পরিচয় দেয়।

এরপর আরও কড়া ভাষায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন ঋদ্ধি সেন। তিনি লেখেন, “যে শাসক ফুটপাথের লোকের ভোটে জয়ী হয়, ফুটপাথে যায় ভোট চাইতে, ফুটপাথ আঁকড়ে বেঁচে থাকার লড়াই করা মানুষের কথা শোনার প্রতিশ্রুতি দেয়, ঠিক তারাই বিশ্বাস করে যে ফুটপাথ থেকে উঠে আসা কোনো মেয়ের কোনোদিন মেম্বার অফ পার্লামেন্ট হওয়ার ক্ষমতা নেই!” তাঁর অভিযোগ, ভোটের সময় সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়া হলেও ক্ষমতায় আসার পর সেই মানুষদেরই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের জীবিকা ও বাসস্থানের ওপর আঘাত নেমে আসে। এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধেই তিনি সরব হয়েছেন বলে জানান।

শুধু রাজনৈতিক সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি ঋদ্ধি। তিনি আরও বলেন, “তারাই সবার আগে ফুটপাথের মানুষের জীবিকার পথ বন্ধ করে, বাসস্থান ভেঙে দেয় বুলডোজার দিয়ে।” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “বুলডোজার এসে মানুষের ঘরবাড়ি বা শরীরটা গুঁড়িয়ে দেওয়ার বহু আগেই, এই তথাকথিত ‘স্টার পাওয়ার’ মনোভাবের বুলডোজার মানুষের ভেতরের মনটাকে গুঁড়িয়ে দেয়।” তাঁর মতে, যাঁদের সাধারণ মানুষ জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেন, পরে সেই মানুষদের প্রতিই অবজ্ঞার মনোভাব দেখা যায়। এই প্রবণতাই সমাজের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বলে মনে করছেন অভিনেতা।

আরও পড়ুনঃ “আমার কিছু মনে নেই, শুধু মনে আছে…” ১৯ বছর বয়সের প্রেম থেকে মাতৃত্ব, দীপঙ্করের ভালোবাসায় নতুন জীবন খুঁজে পেয়েছেন অহনা! স্বামীর কথা বলতে গিয়েই আবেগপ্রবণ অভিনেত্রী, তবে জীবনের কোন কষ্টের স্মৃতি মুছে ফেলতে চান তিনি?

পোস্টের শেষ অংশে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে আরও কঠোর মন্তব্য করেন ঋদ্ধি সেন। তিনি লেখেন, “ভালো হলো, রচনা ব্যানার্জি নিজের যোগ্যতা প্রমাণ দিতে গিয়ে একটি জিনিস প্রমাণ করলেন, উনি স্রেফ ঘৃণার যোগ্য। একদিন ঠিক সময়ে আসবে, ফুটপাথের মানুষ এদের পচে যাওয়া স্টার পাওয়ারের ঔদ্ধত্যকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে ফুটপাথে, গড়িয়াহাট, হাটে বাজারে।” তাঁর দাবি, নিজের যোগ্যতা তুলে ধরতে গিয়ে রচনা আসলে নিজের মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। টেলিভিশনের অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়া নিয়ে রচনার আক্ষেপের পাশাপাশি এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ঋদ্ধির এমন প্রতিক্রিয়া সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

You cannot copy content of this page