বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অহনা দত্ত বর্তমানে ছোটপর্দার অন্যতম পরিচিত মুখ। বিশেষ করে খলনায়িকা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। ধারাবাহিকে তাঁর অভিনীত নেতিবাচক চরিত্র দর্শকদের মধ্যে যেমন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনই জনপ্রিয়তাও এনে দিয়েছে। পর্দায় তিনি যতটা কঠোর ও চতুর চরিত্রে দেখা দেন, বাস্তব জীবনে ততটাই স্পষ্টভাষী, আবেগপ্রবণ এবং পরিবারকেন্দ্রিক একজন মানুষ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রেম, বিয়ে, মাতৃত্ব, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং জীবনের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন অভিনেত্রী।
অহনা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ভালোবাসা এবং প্রেমের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। তবে বিয়ে করার কোনও স্বপ্ন বা পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। স্কুলজীবন থেকেই তিনি বন্ধুদের বলতেন যে বিয়ে তাঁর জন্য নয়। কিন্তু জীবনের বাস্তবতা অন্যরকম পথ দেখায়। মাত্র ১৯ বছর বয়সে দীপঙ্করের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হয় এবং প্রায় দেড় বছরের মধ্যেই দুজন রেজিস্ট্রি বিয়ে করেন। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আসে মাতৃত্বের সুখবর। বর্তমানে তাঁদের সম্পর্কের বয়স প্রায় চার বছর। অহনার কথায়, “প্রেম করতে করতেই বিয়ে, আর প্রেম করতে করতেই আমাদের মেয়ে এসেছে।”

তবে এই সম্পর্কের পথ মোটেও সহজ ছিল না। প্রেমের শুরু থেকেই নানা বিতর্ক, সমালোচনা এবং পারিবারিক অশান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। বিশেষ করে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এবং সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলেছিল। অনেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকি পরিবারের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু সেই কঠিন সময়ে যিনি এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর হাত ছাড়েননি, তিনি হলেন তাঁর স্বামী দীপঙ্কর। সাক্ষাৎকারে অহনা বারবার বলেছেন, অতীতের তিক্ত ঘটনাগুলো তাঁর মনে নেই, কিন্তু স্বামীর পাশে থাকার মুহূর্তগুলো তিনি কখনও ভুলতে পারেন না। প্রথম পুরস্কার পাওয়ার সময় দীপঙ্কর তাঁর পাশে ছিলেন। অভিনয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যগুলোর সময়ও পাশে ছিলেন। আর যখন তিনি গর্ভবতী হন, তখনও সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তাঁর স্বামী।
গর্ভাবস্থার সময় অহনার জীবন মোটেও সহজ ছিল না। তিনি শুটিং করেছেন, বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছেন এবং কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। সেই সময় বাড়িতে কোনও মহিলা সদস্য ছিলেন না, ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু দীপঙ্কর কখনও তাঁকে একা অনুভব করতে দেননি। অসুস্থ অবস্থায় বমি করলে পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে হাসপাতালের যাবতীয় দায়িত্ব, সবকিছুই সামলেছেন তিনি। সি-সেকশনের পর যখন অহনা দাঁড়াতেও পারছিলেন না, হাত কাঁপছিল, তখনও স্বামী তাঁর পাশে ছিলেন। এই কারণেই অভিনেত্রীর কাছে সম্পর্কের সংজ্ঞা শুধুমাত্র ভালোবাসা নয়, বরং দায়িত্ব এবং নির্ভরতার অনুভূতি।
মেয়ের জন্মের পরও পরিস্থিতি বদলায়নি। শুটিংয়ের কারণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে থাকতে হয় অহনাকে। কিন্তু মেয়েকে নিয়ে তাঁর বিশেষ চিন্তা হয় না। কারণ তিনি জানেন, বাবা হিসেবে দীপঙ্কর সবকিছু সামলে নিতে পারবেন। মেয়ের খাওয়ানো, স্নান করানো, ঘুম পাড়ানো, খেলাধুলা সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি। অহনার মতে, সমাজে এখনও অনেকেই মনে করেন সন্তানকে বড় করার দায়িত্ব শুধুমাত্র মায়ের। কিন্তু তাঁর স্বামী সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন।
সাক্ষাৎকারে মায়ের সঙ্গে অতীতের সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ নিয়ে বহু সংবাদ প্রকাশিত হলেও অহনা স্পষ্টভাবে জানান, তিনি আর সেই ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবতে চান না। তাঁর কথায়, মানুষের জীবনে খারাপ স্মৃতি থাকতেই পারে, কিন্তু তিনি সেগুলো ধরে রাখতে পছন্দ করেন না। বরং তিনি মনে রাখতে চান সেই মানুষটিকে, যিনি কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ‘দাদাগিরি’ ভক্তদের জন্য দারুণ সুখবর! এবার আন্তর্জাতিক কুইজ শো-এর সঞ্চালনায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়! কবে থেকে শুরু, দেখা যাবে কোন চ্যানেলে? নিজেই বড় আপডেট দিলেন ‘দাদা’!
অহনার মতে, কোনও সম্পর্কই নিখুঁত হয় না। মতের অমিল, ঝগড়া এবং ভুল বোঝাবুঝি সব সম্পর্কেই থাকে। কিন্তু একে অপরের প্রতি সম্মান, বিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধ থাকলে সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আজ ২৩ বছর বয়সে তিনি একজন সফল অভিনেত্রী, স্ত্রী এবং মা। জীবনে বহু সমালোচনা, বিতর্ক এবং প্রতিকূলতা এলেও তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে চলার চেষ্টা করেন।এই সাক্ষাৎকারে অহনা দত্ত যেন এক নতুন বার্তা দিয়েছেন ভালোবাসা মানে শুধু রোম্যান্স নয়, কঠিন সময়ে পাশে থাকা। আর তাঁর জীবনের গল্পে সেই ভালোবাসার সবচেয়ে বড় নাম দীপঙ্কর।






‘পচে যাওয়া স্টার পাওয়ারের ঔদ্ধত্য…উনি স্রেফ ঘৃ’ণার যোগ্য!’ ‘ফুটপাথের ভোটে জয়ী হয়ে, তাদের মেম্বার অফ পার্লামেন্টের অযোগ্য বলে অপমান, ফুটপাতের মানুষই একদিন ছুড়ে ফেলবে আপনাকে!’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে একহাত নিলেন ঋদ্ধি সেন! ‘ফুটপাতের মেয়ে’ মন্তব্য ঘিরে নজিরবিহীন কটা’ক্ষ ভাইরাল!