উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু ঘিরে যখন গোটা শহর শোকস্তব্ধ, তখনই সমাজ মাধ্যমে নিজের বক্তব্য জানালেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় বহু মানুষ আহতও হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ কী, প্রশাসনের তৎপরতায় এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সেই আবহেই ঋত্বিকের একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট নজর কেড়েছে। তাঁর লেখায় সরাসরি কারও নাম না থাকলেও একাধিক বিষয়ে ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন নেটিজেনদের একাংশ। বিশেষ করে ‘ভাইপো’ শব্দটির ব্যবহার ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।
ঋত্বিক তাঁর সমাজ মাধ্যমের পোস্টে ব্যঙ্গের সুরে লেখেন, “সম্বিত ফিরে এলে আমরা সবাই বুঝতে পারবো”, এরপর ভিড়, বৃষ্টি, বই এবং সবকিছু নিয়ে রাজনীতি প্রসঙ্গ তোলেন। একই পোস্টে তিনি বুলডোজার, পুজো কমিটিতে রাজনীতির লোক এবং “পৃথিবীর সব ভাইপো ভালো” বলেও মন্তব্য করেন। এর পরেই ষাঁড় এবং তার প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব নিয়েও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন অভিনেতা। পুরো বক্তব্যের ধরন দেখে নেটিজেনদের একাংশের মনে হয়েছে, চোরবাগানকাণ্ডের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ককেই তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে দুর্ঘটনার জন্য ভিড়, বৃষ্টি বা অন্যান্য পরিস্থিতিকে সামনে আনার প্রবণতা নিয়ে তাঁর পোস্টে কটাক্ষ রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও ঋত্বিক নিজে পোস্টে কারও নাম উল্লেখ করেননি।
এই পোস্টের ‘ভাইপো’ প্রসঙ্গটিই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চোরবাগান পুজো কমিটির সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো দেবদীপ অধিকারীর যোগ রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিরোধী শিবির থেকেও তাঁর দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। চোরবাগান পুজো কমিটির সঙ্গে তাঁর যোগসূত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর ঋত্বিকের পোস্টের ‘ভাইপো’ শব্দটিকে সেই প্রেক্ষাপটেই দেখছেন অনেকে। তবে অভিনেতার পোস্টে দেবদীপ অধিকারীর নাম সরাসরি লেখা হয়নি। ফলে তাঁর মন্তব্যটি নির্দিষ্টভাবে কাকে উদ্দেশ্য করে, তা ঋত্বিক নিজে স্পষ্ট করেননি। এই কারণেই পোস্টটি ঘিরে জল্পনা আরও বাড়ছে।
আরও পড়ুন: এককালে টলিউডের দাপুটে নায়িকা, প্রয়াত অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ৫ বছর ছিলেন লিভ ইন সর্ম্পকে? হঠাৎ কীভাবে অকালেই শেষ হয়ে গেল রাজেশ্বরী রায়চৌধুরীর জীবন?
চোরবাগানকাণ্ডের পর শুধু দুর্ঘটনার কারণ নিয়েই নয়, প্রশাসনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনার পর অস্থায়ী হোমগার্ডদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগের কথা জানিয়েছেন এবং তদন্তের কথা বলেছেন। অন্যদিকে পুজো কমিটির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে বিরোধী শিবিরের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঋত্বিকের পোস্টে ‘সব কিছু নিয়ে রাজনীতি ভালো না’ মন্তব্যটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার দিন সন্ধ্যায় লাল শিবিরের বুকস্টল ভাঙার তৎপরতা নিয়েও তাঁর পোস্টে কটাক্ষ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একটি ছোট পোস্টের মধ্যেই দুর্ঘটনা, প্রশাসন, রাজনীতি এবং পুজো কমিটিকে ঘিরে চলা বিতর্কের একাধিক দিক উঠে এসেছে।
চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখও সমাজ মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছেন। স্বস্তিকা দত্ত, বিদিপ্তা চক্রবর্তী, অরিজিতা মুখোপাধ্যায় এবং ঋদ্ধি সেনের পর এবার ঋত্বিক চক্রবর্তীর পোস্ট নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ঋদ্ধি সেনও প্রশাসনের ভূমিকা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন। চোরবাগানকাণ্ডে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে আটক ও গ্রেফতার করে তদন্ত এগোচ্ছে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ এবং কার গাফিলতিতে এই প্রাণহানি ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে ঋত্বিকের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ‘ভাইপো’ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্যটি নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছে কি না, তা অভিনেতার তরফে আলাদা করে নিশ্চিত করা হয়নি।






