বিহারের প্রত্যন্ত মাধেপুরা গ্রামের এক ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে জন্ম রোজের। চারপাশে মাটির উনুন, গরু ছাগল, এবং প্রতিদিনের অসংখ্য কাজ। এমন পরিবেশে বড় হওয়া কোনো মেয়ের জন্য স্বপ্ন দেখাই যেন অপরাধ। কিন্তু রোজ জানতেন—স্বপ্ন শুধু দেখা নয়, লড়াই করা হয়। কলেজ পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করতে গিয়ে অগণিত প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েছেন তিনি, কিন্তু মনের এক কোণে সবসময় ছিল র্যাম্পে হাঁটার ইচ্ছে, মডেল হওয়ার স্বপ্ন।
প্রারম্ভিক জীবন যতই কঠিন হোক না কেন, রোজ কখনো আশা ছাড়েননি। সমাজের চোখে কটাক্ষ, পরিবারের অনিশ্চয়তা, সব কিছু মিলিয়ে তাকে সরকারি চাকরির দিকে ঠেলে দিল। পরীক্ষায় পাশ করলেও ভাগ্যের ঘূর্ণন তাকে অন্য পথে নিয়ে যায়। ঘুষ আর অনাচারের মুখোমুখি হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেন রোজ। এমন সময়ই একটি ভিডিও পরিবর্তন আনল তাঁর জীবনে। অপেক্ষা রাজপুতের একটি ভিডিও দেখার পর তিনি বুঝলেন—স্বপ্ন ছেড়ে দিলে কেউ তা ফিরিয়ে দেবে না, নিজেকেই লড়তে হবে।
নতুনভাবে শুরু হলো লড়াই। মডেলিংয়ের জন্য প্রয়োজন নতুন পোশাক, কিন্তু টাকা কোথা থেকে আসবে? রোজ নিজেই শিখলেন সেলাই, নিজের হাতে তৈরি করলেন পোশাক। বাড়িতেই প্র্যাকটিস করলেন র্যাম্প ওয়াক। ইউটিউবের সাহায্যে ভিডিও বানাতে শুরু করলেন, এবং ধীরে ধীরে তার ভিডিওগুলো ভাইরাল হতে লাগল। মানুষ চিনল তাঁর প্রতিভা। শো-তে ডাক এলো, মঞ্চে হাঁটার সুযোগ এল। কিন্তু বিহারের ছোট গ্রাম থেকে দিল্লি যাওয়া কোনো সহজ কাজ নয়।
আরও পড়ুনঃ ‘অ্যাভারেজ অ্যাক্টর আমি যেটা পারি, স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন বা ধোনিও পারেন না…তখনই বুঝলাম তারকা খ্যাতির বিরম্বনা!’ অভিজ্ঞতার আলোকে, অদৃশ্য শিকল নিয়ে অকপট অম্বরীশ! কোন সেই অভিজ্ঞতা নাড়িয়ে দিয়েছিল অভিনেতাকে?
রোজের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তার মা। নিজের জমানো ১০,০০০ টাকা মেয়ের হাতে তুলে দিয়ে বলেন—এটা তোমার স্বপ্নের প্রথম সিঁড়ি। এই অর্থের সাহায্যে রোজ দিল্লির পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় সংকল্প আর আত্মবিশ্বাস মিলিয়ে আজ সেই কুঁড়ে ঘরের মেয়েটি র্যাম্পে কনফিডেন্টলি হাঁটছেন। সাধারণ গ্রাম্য মেয়ে থেকে তিনি আজ সুপার মডেল।
রোজের গল্প শুধু তাঁর নিজস্ব নয়। এটি সেই সব মানুষের গল্প, যারা প্রতিদিন লড়ছেন, ভেঙে পড়ছেন, আবার উঠে দাঁড়াচ্ছেন। দারিদ্রতা হারালেও, আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্ন জিতেছে। এই গল্প আমাদের শেখায়—পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, যদি মন দৃঢ় থাকে, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। রোজের অনুপ্রেরণার বার্তা স্পষ্ট—নিজের জন্য লড়াই করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।






