টলিপাড়ায় সব বড়-ছোট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য (Ambarish Bhattacharya) এক অন্যরকম মানুষ। তাঁর প্রতিটি চরিত্র যেন গল্পের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়, কিন্তু এই অভিনেতা হয়ে ওঠার পথটা কখনোই তাঁর জন্য সহজ ছিল না। অভিনয়ের জগতে নিজের পথ তৈরি করার জন্য তিনি যে কষ্ট করেছেন, তার কোনো তুলনা হয় না। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনি কখনো ‘তারকাসুলভ’ তকমা নিতে চাননি! তাঁর মতে, একজন তারকার দায়িত্ব অনেকটা বেশি। সেইক্ষেত্রে তিনি চরিত্রাভিনেতা হিসেবেই ঠিক আছেন।
সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অ্যাভারেজ অ্যাক্টর আমি, এমনটি তার থেকেও বাজে ছিলাম। সেখান থেকেই বলতে পারেন, অ্যাভারেজ অ্যাক্টরে পরিণত হয়েছি এবং তারপরে ঘষামাজা করতে করতে কিছুটা পাল্টেছি। কালো রঙের পিতলকেও যদি প্রত্যেকদিন ঘষতে থাকো, একটা সময় কোথাও একটা গিয়ে তো চকচকে ভাব আসবেই! ঘষেমেজে আমি অনেক চৌখোশ হয়েছি ঠিকই, কিন্তু যে সারল্যটা আমার মধ্যে ২০ বছর আগে ছিল, সেটা আজকে নেই। আজকে একটা চরিত্রকে নির্বাচন করার সময় আমি অনেক বুদ্ধি দিয়ে করি।
তখন আমি হৃদয় দিয়ে করতাম!” অম্বরীশের জীবনটা আসলে শুধু অভিনয় নয়, এই সরলতা আর সত্যিই একটা অদ্ভুত শক্তির উৎস। নাহলে, অমিতাভ বচ্চনের মতো তারকাকে এমন আপন মনে করে প্রশ্ন করা যায়? এদিন তিনি জানান, বিগ বি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়াতে তিনি কী করেছিলেন! অভিনেতা বলেন, “উনি আমায় দেখে বললেন সব মনে আছে আমায় নিয়ে। আমায় বললেন কি জানতে চাই বলতে। আমার কেমন ধৃষ্টতা যে আমি বলছি, বলুন দেখি আমার সঙ্গে কোথাও ও কবে দেখা হয়েছিল!
উনি একটু হেসে বললেন সাল, তারিখ মনে নেই কিন্তু তিন-চার বছর আগে কোন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন ছিল। কে দায়িত্বে ছিল বা শট বাই শট কি অভিনয় করেছেন বলে দিলেন!” প্রসঙ্গত, একজন অভিনেতা হিসেবে অম্বরীশ কখনোই নিজের অভিনয়কে বড় করে দেখেননি। তিনি মনে করেন, অভিনয়ের প্রতিটি অংশে বহু মানুষের অবদান থাকে। অভিনেতা একটা প্রতিমার মতো, যার রূপ গড়ে তোলার কাজের পেছনে অনেকের হস্তক্ষেপ জরুরি। তাঁর এই চিন্তা-ভাবনা থেকে একটাও অন্তর্নিহিত দায় বা সমাজের চাপকে পরোয়া করা, অযথা খ্যাতির দিকে ছুটে চলা, কিছুই নেই।
এমনকি তিনি যখন মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো বিশাল তারকাকে দেখেন, তখন তাঁর নিজস্ব জীবনধারা তুলে ধরতে কোন দ্বিধা থাকে না। ধোনি একদিন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, “তুমি নাকি খুব ঘুরে বেড়াচ্ছ।” অম্বরীশ তখন বলেন, “জয়পুর এসেছি একটু ঘোরাঘুরি করব না! হাওয়া মহল, নাহারগড় ফোর্ট দেখছি, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি আর ডাল-বাটি চুরমা খাচ্ছি।” অভিনেতার নিজের ভাষায়, “দেখলাম ধোনির মুখটা খুব করুণ হয়ে গেল! আমি জানতে চাইলাম যে কী হয়েছে? ধোনি বললেন যে, উনি কোনদিনও এগুলো দেখেননি আর চাইলেও নাকি দেখতে পারবেন না!
আরও পড়ুনঃ “বোলপুরের ল্যান্ড না করে, সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি করলে তো আজ দু’চারটে…” এখানেই কেন ল্যান্ড করলাম! নিজের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুললেন গায়ক শিলাজিৎ মজুমদার! এখানে জন্মে কীসের আক্ষেপ থেকে গেল তাঁর?
কারণ জানতে চাইলাম ওনাকে। দুঃখ করে বললেন, আজকে যদি উনি হওয়া মহলে যান তো অন্তত এক মাস আগে ভারত সরকারকে জানাতে হবে! আবেদন করতে হবে যে কয়েক ঘন্টার জন্য ওই জায়গাটা লোক মুক্ত রাখতে। তখন আমি বুঝলাম, তারকা খ্যাতির বিরম্বনা কাকে বলে!” এক সময় রাস্তায় থাকতে হয়েছে, হাতে পাঁচ টাকা নিয়েও ভাবতে হয়েছে কী করে বেশিদিন চালানো যায়! আজকে অভিনেতা হয়ে, সেখান থেকে যেমনই অবস্থায় থাকুন না কেন, সেটাই তাঁর কাছে ‘রাজার হালে থাকা’! এর বেশি কোনও খ্যাতি বা বিলাসিতায় তাঁর আগ্রহ নেই।






