গত কয়েক দিনে রাজ্য রাজনীতিতে যে উত্তাপ ছড়িয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে ইডির অভিযান (ED I-Pac Raid) ও তার পরবর্তী বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। আইপ্যাকের সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেওয়ার ঘটনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও উত্তেজিত করে তোলে। তিনি সেখান থেকে একটি সবুজ ফাইল এবং পেন ড্রাইভ নিয়ে চলে যান। প্রশ্ন করা হলেই তিনি বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে বলেন, নির্বাচনী পরিকল্পনা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে, গতকাল যাদবপুর থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলে হাঁটেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি সেই মিছিলে দেখা যায় টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখকেও। যদিও সদ্য বিরোধী দল ছেড়ে শাসক দলে আসা ‘রূপাঞ্জনা মিত্র’ (Rupanjana Mitra) সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে, মিছিলে না থাকলেও রূপাঞ্জনা সমাজ মাধ্যমে সরব হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং প্রকাশ্যেই দলীয় নেত্রীর পাশে দাঁড়ান। এই দীর্ঘ পোস্টে রূপাঞ্জনা একাধিক কড়া শব্দ ব্যবহার করেন।
তিনি লেখেন, “আপনাদের গুজরাট গ’ণহ’ত্যার কথা কেউ ভুলে যায়নি। ধর্মের নামে তথাকথিত ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ ঘটিয়ে আপনাদের র’ক্তমাখা মুখ আজ দিল্লির ‘সিরতাজ’ হয়ে বসেছে।” একই সঙ্গে ‘এসআইআর’ প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, “এসআইআর নামে তথাকথিত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন যে কোনও ভাবেই মাত্র দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়, তা আপনারাও ভাল করেই জানেন। কালো টাকা উদ্ধারের নামে ৮ই নভেম্বর, ২০১৬ সালে রাতারাতি নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আপনাদের তথাকথিত ‘লর্ডসাহেবরা’।”
পোস্টের একটি অংশে তিনি বাংলার সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন, “আজ বাংলার ছেলেমেয়েরা সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে নিজেদের অসুস্থ বাবা-মাকে লাইনে দাঁড় করাতে বাধ্য হচ্ছে। তবু বাংলার মানুষ নিজের কর্তব্য পালন করতে জানে। আপনারা শুধু ত্রাস বুনতে জানেন, যাতে আপনাদের ইংরেজদের মতোই বিভাজন রাজনীতি আরও মজবুত হয়।” আরও তীব্র ভাষায় তিনি যোগ করেন, “ওটাই আপনাদের ‘দেখ কেমন দিলাম’-এর মতো একটা স্যাডিস্টিক প্লেজার দেয়। আসলে ওটাই, আপনারা স্যাডিস্ট এবং ফ্যাসিস্ট। ধিক্কার আপনাদের!”
আরও পড়ুনঃ হাতে বাঁশ নিয়ে নবীনা প্রেক্ষাগৃহে রহস্যজনক ভাঙচুর! সিসিটিভিতে ধরা পড়ল প্রমাণ, কারা ভাঙচুর করল অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলার ছবির কাটআউট? সামনে উঠে এলো বিস্ফো’রক তথ্য!
পোস্টের শেষ ভাগে রূপাঞ্জনা মিত্র মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি সমর্থন জানিয়ে তাঁকে “বাংলার বাঘিনী” এবং “সূর্যকন্যা” বলে উল্লেখ করেন। অতীতের ইতিহাস টেনে তিনি লেখেন, “স্বাধীনতার সময় আপনারা ইংরেজদের দালাল ছিলেন| নিজে যদি আন্দামান (কালাপানি) সেলুলার জেল না দর্শন করতে যেতাম, তাহলে আপনাদের মনের বিষ কতটা বিষাক্ত বুঝতেই পারতাম না।” একই সঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি জানান, “শ্রীমতি মমতা বন্দোপাধ্যায় জিন্দাবাদ! যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, মিছিলে উপস্থিত না থাকলেও রাজনৈতিক লড়াইয়ে নিজের অবস্থান নিয়ে কোনও দ্বিধা রাখেননি অভিনেত্রী।






“লাল পতাকা এখন তো শুধু বিরিয়ানির হাঁড়িতেই দেখা যায়, ওটাই ঢাকার কাজে লাগে…আলাদাই মেরুদণ্ডহীনতা ওদের” নির্বাচনী আবহে রাজ্যের তাপমাত্রা তুঙ্গে, এরই মাঝে শাসকদলের প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লাল পতাকা’ কটাক্ষে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি!