একসময় টলিপাড়ার অন্দরমহলে সায়ক চক্রবর্তী ও সৌমিতৃষা কুণ্ডুর বন্ধুত্ব ছিল চর্চার বিষয়। একসঙ্গে ভ্লগ বানানো থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া, তাঁদের সম্পর্ক ছিল নিঃসঙ্কোচ ও সহজ। একে অপরের বাড়িতে যাতায়াতও ছিল নিয়মিত। অনুরাগীরাও এই বন্ধুত্বকে বেশ উপভোগ করতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। সামাজিক মাধ্যমে সৌমিতৃষা সায়ককে আনফলো করেন, আর সেখান থেকেই জল্পনার সূত্রপাত। কী কারণে এই দূরত্ব, তা নিয়ে দুজনের কেউই স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহেও পুরনো বন্ধুত্বের স্মৃতি যে মুছে যায়নি, তার ইঙ্গিত দিলেন সায়ক নিজেই। সৌমিতৃষার জন্মদিনে একটি আবেগঘন পোস্ট ভাগ করে নেন তিনি। সেখানে নাম উল্লেখ না করলেও স্মৃতির রেশ ছিল স্পষ্ট। তিনি লেখেন, মানুষ বদলায়, সম্পর্কের সমীকরণ বদলায়, কিন্তু স্মৃতি থেকে যায়। সেই সঙ্গে একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের কথা তুলে ধরে বন্ধুকে শুভেচ্ছা জানান। পোস্টটি প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।
সায়ক লেখেন, একসঙ্গে সাইকেল শেখানো, বন্ধুর প্রথম পোস্টার দেখতে ছাদে ওঠা, সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করিয়ে দেওয়া, উইকিপিডিয়া পেজ তৈরি করে দেওয়া, মন খারাপের দিনে ছুটে যাওয়া—এসব কিছুই ভোলার নয়। এমনকি তিনি বন্ধুর এমএলএ বা এমপি হওয়ার স্বপ্ন দ্রুত পূরণ হোক বলেও শুভেচ্ছা জানান। পোস্টের ভাষায় ছিল নস্টালজিয়া আর অমলিন স্নেহের ছাপ। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই পোস্ট মুছে ফেলেন তিনি, যদিও ততক্ষণে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
এদিকে পার্ক স্ট্রিটের একটি রেস্তোরাঁয় বিফ বিতর্ক ঘিরে সায়কের নাম জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি সমালোচনার মুখে। অভিযোগ ছিল, মটন স্টেক অর্ডার করলেও তাঁকে বিফ পরিবেশন করা হয় এবং সেই ঘটনা নিয়ে ভিডিও পোস্ট করে তিনি ওয়েটারের ধর্মীয় পরিচয় টেনে মন্তব্য করেন। পরে ওই কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয় এবং পালটা অভিযোগ ওঠে সায়কের বিরুদ্ধেও। নেটিজেনদের বড় অংশ ও টলিপাড়ার অনেকেই এই ঘটনায় তাঁর সমালোচনা করেন।
আরও পড়ুনঃ কৃষভি অন্ত প্রাণ কাঞ্চন! মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে ‘ভাই’ আনার পরিকল্পনা কাঞ্চন-শ্রীময়ীর? সমালোচনা পেরিয়ে ছোট্ট সংসার কি তবে নতুন খুশির হাওয়া?
এই পরিস্থিতিতে সৌমিতৃষা প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়াননি। বরং পরিচালক অয়ন চক্রবর্তী সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট ও রিচ নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। ভুল বোঝাবুঝির প্রকৃত কারণ আজও অজানা থাকলেও, ভাঙা বন্ধুত্বের স্মৃতি যে এখনও হৃদয়ে রয়ে গেছে, তা স্পষ্ট সায়কের আচরণে। এখন প্রশ্ন একটাই, সময় কি আবার তাঁদের সম্পর্ককে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনবে, নাকি স্মৃতিই হবে একমাত্র সেতুবন্ধন।






