“মাঝরাতে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের বাথরুমে লুকিয়ে ছিলেন উত্তম কুমার!” কেন এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে মহানায়ক আশ্রয় নিয়েছিলেন এমন জায়গায়? বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর ৮৯তম জন্মদিনে, জীবনের কোন অজানা অধ্যায় এল সামনে?

বাংলা অভিনয়ের ইতিহাসে কিছু মুখ সময়কে অতিক্রম করে কিংবদন্তি হয়ে ওঠে। তাঁদের জীবন মানেই সংগ্রাম, শৃঙ্খলা, প্রেম আর অসংখ্য স্মৃতির জাল। আজ ৮৯ বছরে পা দিলেন সেই শিল্পী, যাঁর অভিনয় একসময় রঙ্গমঞ্চ কাঁপিয়েছে, বড় পর্দায় দর্শককে হাসিয়েছে-কাঁদিয়েছে, আবার ছোট পর্দাতেও রেখে গেছে সমান ছাপ। তিনি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়—বাংলা অভিনয়জগতের এক জীবন্ত অধ্যায়।

১৯৩৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অধুনা বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার কমলাপুরে জন্ম। দেশভাগের পর পরিবার নিয়ে চলে আসেন টালিগঞ্জে। বাবা শসধর চট্টোপাধ্যায় ছিলেন রেল স্টেশন মাস্টার, সংসারে দশ বোন—অভাব ছিল, কিন্তু স্বপ্নের ঘাটতি ছিল না। সেই সময় প্রখ্যাত অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে মঞ্চে নিয়ে আসেন। স্টার থিয়েটারের ‘শ্যামলী’ নাটকে বোবা মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করে নজর কাড়েন তিনি। সেখানেই তাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধেন মহানায়ক উত্তম কুমার—আর দর্শক যেন নতুন এক রসায়নের সাক্ষী হয়।

চলচ্চিত্রে তাঁর প্রথম কাজ ১৯৫১ সালের ‘সহযাত্রী’, পরিচালনায় অগ্রদূত। প্রথম দিনের শুটিংয়ে পাশের বাড়ি থেকে শাড়ি ধার করে স্টুডিওয় যাওয়া, মাসে ২০০ টাকা পারিশ্রমিক—সবটাই ছিল লড়াইয়ের অংশ। ১৯৫২ সালে ‘পাশের বাড়ি’ ছবিতে প্রথম নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ। এরপর ‘কুহক’, ‘কাল তু আলেয়া’, ‘ধন্য মেয়ে’, ‘মৌচাক’-এর মতো ছবিতে কখনও প্রেমিকা, কখনও স্ত্রী, কখনও চরিত্রাভিনেত্রী—প্রতিটি ভূমিকায় নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিশেষ করে ‘মৌচাক’-এ তাঁর ও উত্তম কুমারের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় আজও দর্শকের মুখে মুখে ফেরে।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কৌতূহল কম ছিল না। আত্মজীবনীতে তিনি স্বীকার করেছেন, উত্তম কুমারের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কথা। কিন্তু সম্পর্কের বাস্তবতা ছিল জটিল। বিয়ে না করার প্রসঙ্গে মজা করে বলতেন—“যার সঙ্গেই প্রেম করতে গিয়েছি, দেখেছি সবাই বিবাহিত!” তবু ব্যক্তিগত না-পাওয়া কখনও তাঁর শিল্পীসত্তাকে থামাতে পারেনি। বরং আরও পরিণত করেছে।

আরও পড়ুনঃ “আরও ৮ কোটি টাকা প্রয়োজন…জোর করছি না, সবাই মিলে একটু সাহায্য করুন আমায়!” দাম্পত্য বিতর্ক ছাপিয়ে মানবিকতার বার্তা দিলেন দেবলীনা নন্দী! কেন হঠাৎ গায়িকার বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন?

আর এই শিল্পীজীবনের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক মজার স্মৃতি। একদিন উত্তম কুমার দেখা করতে এসেছেন তাঁর বাড়িতে। গল্পে-আড্ডায় সময়ের খেয়াল নেই। কিন্তু বাড়ির কড়া নিয়ম—রাত দশটার মধ্যে ফিরতেই হবে, নইলে গেটে তালা। সময় পেরিয়ে গিয়েছে, গেট বন্ধ। আর তখনই খুঁজে পাওয়া গেল মহানায়ককে—বাবার ভয়ে বাথরুমে লুকিয়ে! সেই ঘটনাই পরে হাসতে হাসতে বহুবার স্মরণ করেছেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। জন্মদিনে ফিরে দেখলে বোঝা যায়, কিংবদন্তিদের জীবনেও এমনই ছোট ছোট গল্প জড়িয়ে থাকে, যা তাঁদের আরও আপন করে তোলে।

You cannot copy content of this page