“হ্যাঁ, টাকা নিয়েছি আর কাজও করেছি…আমি অন্যায় করিনি, বাকিটা সরকার দেখবে” “অলি পাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক, রাজনৈতিক না!” সমালোচকদের কথায় কিছু যায় আসে না! বিজেপির থেকে আড়াই লাখ টাকা কেন নিয়েছেন? বিতর্ক বাড়তেই অবশেষে মুখ খুললেন সায়ক চক্রবর্তী!

অভিনেতা এবং নেটপ্রভাবী সায়ক চক্রবর্তীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের খরচের হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর নাম সামনে আসে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিজেপি নির্বাচনী প্রচারে ৫২৯ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা খরচ করেছে। সেই তালিকায় বাংলার বেশ কয়েকজন বিষয়বস্তু নির্মাতার নামও রয়েছে। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন সায়ক চক্রবর্তী, যাঁর নামে আড়াই লাখ টাকা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, অলি পাব কাণ্ডের পর সায়কের সঙ্গে বিজেপির এই আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগ ছিল কি না। বিতর্ক বাড়তেই এবার সমাজ মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সায়ক।

অলি পাবের ঘটনা নিয়ে আগেও যথেষ্ট বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সায়ক। পার্ক স্ট্রিটের ওই পানশালায় গোরুর মাং*স খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক পরিবেশনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। নিজেকে হিন্দু ব্রাহ্মণ হিসেবে উল্লেখ করে সেই ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষোভও জানিয়েছিলেন অভিনেতা। এমনকি ওই পরিবেশনকারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিনি এবং পরে ওই ব্যক্তিকে জেলেও যেতে হয়েছিল। তবে সেই সময় সমাজমা ধ্যমের বড় অংশের মানুষ এবং বেশ কিছু তারকা সায়কের অবস্থানের বিরোধিতা করেছিলেন। গোরুর মাং*সের পদ পাওয়া যায় জেনেও তিনি কেন ওই জায়গায় গিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নও উঠেছিল। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগও ওঠে এবং পরে সায়ক নিজের সেই পোস্ট মুছে দেন।

এবার আড়াই লাখ টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে সায়ক জানিয়েছেন, অলি পাবের ঘটনার সঙ্গে ওই টাকার কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর বক্তব্য, ওই ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেই আর কথা বাড়াতে চাননি এবং নিজের প্রতিক্রিয়াগুলিও সরিয়ে দিয়েছিলেন। সায়কের কথায়, ‘‘অলি পাব নিয়ে আমার প্রতিক্রিয়াটা ছিল একেবারেই তাৎক্ষণিক। সেটাকে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলেই আমি নিজের সব পোস্ট মুছে দিয়েছিলাম। পরে এই বিষয় নিয়ে আর কথা বলিনি। অলি পাবের ঘটনা নিয়ে আমি নিজের ভুল স্বীকার করে বক্তব্যও দিয়েছিলাম। এর সঙ্গে অন্য কোনও কিছুর সম্পর্ক নেই। সেটা একটা ঘটনা, রাজনীতি নয়। এখনও যারা বিষয়টি নিয়ে উসকানি দিচ্ছেন, তাঁদের পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে। বাকিটা সরকার দেখবে।’’ অর্থাৎ তাঁর দাবি, অলি পাবের ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে পাওয়া পারিশ্রমিককে একসঙ্গে দেখার কোনও কারণ নেই। বরং দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা বলেই নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

তবে বিজেপির কাছ থেকে কেন ওই টাকা পেয়েছিলেন, সেই প্রশ্নেরও এবার ব্যাখ্যা দিয়েছেন অভিনেতা। সায়ক জানিয়েছেন, অলি পাবের ঘটনার পর কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাঁকে বিষয়বস্তু তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল, এর আগেও এমন প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। তবে ওই ঘটনার সময় বিজেপি এবং একই মতের কিছু মানুষ তাঁকে সমর্থন করেছিলেন বলে তিনি তাঁদের হয়ে কিছু বিষয়বস্তু তৈরি করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই কাজের মধ্যে ছিল নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিশেষ সংশোধন নিয়ে কিছু কারিগরি ব্যাখ্যা এবং যুদ্ধের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরব থাকার কারণ নিয়ে বিষয়বস্তু। এছাড়াও বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের কাজ শেষ হয়েছিল নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে, যা মে মাসে শেষ হয়। সায়ক আরও জানিয়েছেন, অলি পাবের ঘটনা ঘটেছিল জানুয়ারিতে, আর বিজেপির হয়ে তাঁর করা কাজ চলেছিল মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত।

তাঁর দাবি, এই কাজের তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে। নিজের নামের পাশে থাকা আড়াই লাখ টাকার অঙ্ক এবং ১৫ মার্চ থেকে ৬ মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের কথাও তিনি আলাদা করে দেখিয়েছেন, যদিও তালিকায় থাকা প্রত্যেকের নামের পাশেই একই তারিখ উল্লেখ রয়েছে। টাকা উপার্জনের ক্ষেত্রে তিনি কোনও অন্যায় করেননি বলেও জানিয়েছেন সায়ক। তাই তাঁকে নিয়ে সমালোচনা করা ব্যক্তিদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন অভিনেতা। সায়কের বক্তব্য, ‘‘যাঁরা অলি পাবের সঙ্গে আমার পাওয়া টাকা জুড়ে দিচ্ছেন, তাঁরা ভুল করছেন। এই ঘটনার সঙ্গে আমার উপার্জনের কোনও সম্পর্ক নেই। বিষয়টি জেনেও যাঁরা ইচ্ছে করে দুটিকে একসঙ্গে জুড়ে উসকানি দিচ্ছেন, তাঁরা অন্যায় করছেন। আমি অন্যায় করিনি, তাই সমালোচকদের কথায় আমার কিছু যায় আসে না।

আরও পড়ুনঃ “আমি প্রেমবিহীন যে কারোর সঙ্গে শু’তেও পারি…” “বাঙালি মেয়েরা চু*মু খেলেই বিয়ে করতে বলে!” “মন ও শরীর আলাদা…”, বর্তমান প্রজন্মের মানসিকতাকে ‘পরিণত’ আখ্যা দিয়ে নিয়ে একি বললেন কাঞ্চনা মৈত্র? ২৮ হোক বা ৫০, কীভাবে ‘রেভলিউশন’ ঘটাচ্ছে আজকের নারী? প্রেম, বিয়ে ও সম্পর্কের চিরাচরিত ধারণাকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে কী বললেন অভিনেত্রী?

তাঁদের কাছে নিজের কাজের কৈফিয়ত দেওয়ারও প্রয়োজন মনে করি না। যাঁরা আমাকে ভালোবাসেন, তাঁদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আমাকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এই বক্তব্য তাঁদের জন্যই। শেষ পর্যন্ত ভালোবাসাই জয়ী হয়, ঘৃণা নয়।’’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা পাওয়ার কারণ এবং অলি পাব কাণ্ডের সঙ্গে তার কোনও যোগ নেই, নিজের অবস্থান থেকে সেই বিষয়টিই তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই অর্থ নির্বাচনী প্রচারের জন্য তৈরি করা বিভিন্ন বিষয়বস্তুর পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছেন তিনি।

You cannot copy content of this page