কেউ বলে তাঁর মেজাজ খারাপ, তো কেউ বলে তিনি মাটির মানুষ! তবে, যে যাই বলুক না কেন, গায়ক ‘শিলাজিৎ মজুমদার’ (Silajit Majumder) কিন্তু আজও অনেকের প্রিয়। আর তাঁর প্রমাণ তো বছর শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন ছবির গান ‘ডান্ডা ২.০’। কিন্তু বছর শুরু হতেই, গায়ক শিলাজিৎ এক নতুন রূপে দর্শকদের সামনে এলেন! কলা মন্দিরে এক বিশেষ অনুষ্ঠান, হল ভর্তি লোক আর সেখানেই তাঁকে রোস্ট বা ব্যঙ্গ করা হয় এবং এই রোস্টের মধ্যমণি তিনি নিজেই ছিলেন! তাঁর সাথে মঞ্চে ছিলেন তরুণ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানরা, যারা মজার ছলে তাঁর বিভিন্ন দিক নিয়ে হাস্যকর মন্তব্য করেন।
বিষয়টা আসলে এখন খুবই জনপ্রিয়, বিশেষ করে আজকের দিনে যেখানে ‘রোস্ট’ সংস্কৃতি পুরোপুরি শো-বিজনেসের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু শিলাজিতের মতো একজন ব্যক্তিত্ব নিজের প্রতি এই ব্যঙ্গ কতটা সহজভাবে নিতে পারেন? তিনি স্বাভাবিকভাবেই জানান, “বিনোদনের মোড়কে যদি ‘রোস্ট’ করা হয়ে থাকে, তা হলে তা অবশ্যই মজার।” তবে, শিলাজিৎ নিজেই জানিয়েছেন তাঁর জীবনে কখনো এই ধরনের ব্যঙ্গবোধ বা অপমান সইতে কোনো সমস্যা হয়নি। বরং তাঁর কাছে এসব এখন অত্যন্ত সাধারণ!
ছোটবেলায় কীভাবে পাড়ার লোকেরা তাঁকে নানা ধরনের অপমান করত, সে বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “ছোট থেকেই আমি এমন। বড় হতে হতেই, পাড়ার লোকেরা আমায় বুলেটপ্রুফ তৈরি করেছে। বাপ-মা যতটুকু তৈরি করেছিল, তার পরের কাজটা আশেপাশের লোকেরাই করেছে। কারণ আমি পাড়ার লোকেদের কাছে, ছোট থেকেই অপমানিত হয়ে বড় হয়েছি। বাড়িতেও ক্রমাগত অপমানিত হয়েছি, কত বড় বড় সেয়ানারা আমায় অপমান করেছে!
আমাকে অপমান করতে লোক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। সুতরাং অপমানটা আমার কাছে নতুন কিছু নয়!” অপমান বা ট্রোলের ক্ষেত্রে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি খুব ভিন্ন। তিনি মনে করেন, আজকাল মানুষ অনেক বেশি সচেতন হয়ে উঠেছে একে অপরের প্রতি। একসময় বডিশেমিং, গায়ের রঙ নিয়ে টিপ্পনী করা স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু আজকাল এসব বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। যদিও তিনি কখনও এসব নিয়ে রেগে গিয়ে কিছু বলে ফেলেন, পরবর্তীতে অনুশোচনা হয় যে না বললেই ভালো হতো। ।
প্রসঙ্গত, একটা সময় ছিল যখন শিলাজিতকে তাঁর শরীরের গঠন নিয়ে তিরস্কৃত করা হত। ছোটবেলায় শরীর একটু স্থূলকায় ছিল বলে ‘ভুঁড়ি’ ডাকা হত। তাঁর কথায়, তখনও খারাপ লাগেনি এইসবে। শিলাজিতের কাছে এইসব কিছুই কোনও বড় ব্যাপার নয়, এবং সে কারণেই রোস্ট বা ট্রোলিংয়ের ক্ষেত্রে তিনি খুবই খোলামেলা। আরেকটি মজার ব্যাপার হলো, যখন শিলাজিতকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নিজেকে অপমান করার সুযোগ পেলে তিনি কি বলবেন? তাঁর জবাব ছিল, “আমার লিস্টে প্রথমেই আসতো, ‘কেন তুমি এই পৃথিবীতে?’
আরও পড়ুনঃ গুঞ্জনে সিলমোহর! নতুন বছরের শুরুতেই আলাদা হল পথ, দাম্পত্যে ইতি ঘোষণা করলেন জয়-মাহী
আমার বাবা-মাকেও বলতে ইচ্ছা করে, এখানেই কেন ল্যান্ড করলাম! বোলপুরের কাছাকাছি না করে, সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি করলে তো আজ দু’চারটে গ্র্যামি বা অস্কার পেয়ে যেতাম!” তিনি যদিও মজা করে এই মন্তব্যটি করেন, তবে এটি তাঁর জীবনের নানা রকমের অভিজ্ঞতার একটি প্রাসঙ্গিক পরিণতি ছিল। এভাবে, শিলাজিৎ-এর জীবন এবং দৃষ্টিভঙ্গি আজকের যুবসমাজের জন্য অনেক কিছু বলার মতো। তিনি নিজেকে বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া শিক্ষা দিয়ে বড় করেছেন। যা তাঁর আজকের ব্যক্তিত্বের মূল ভিত্তি।






