“ও নাকি পালিয়ে যাবে…”—১৪ বছরের ছোট স্বামীকে নিয়ে কটা’ক্ষের মুখে সোহিনী সেনগুপ্ত! তবে কি সত্যিই ভাঙনের পথে সম্পর্ক? নাকি সমাজের বিদ্রুপের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও অজানা সত্য?

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ, স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত (Sohini Sengupta) মানেই আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এক ব্যক্তিত্ব। মঞ্চ থেকে ব্যক্তিজীবন—সব ক্ষেত্রেই তিনি বরাবরই নিজের মতো করে চলতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর জীবনযাপনের একটি সিদ্ধান্ত আজও সমাজের একাংশের কটাক্ষের বিষয় হয়ে রয়েছে। বয়সের ব্যবধানকে উপেক্ষা না করে তার বৈবাহিক জীবন সমাজের কাছে বিদ্রুপ, ব্যঙ্গ, ফিসফাস—সবটাই বহু বছর ধরে সঙ্গী তাঁর। তবু সেসব নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে খুব একটা কথা বলেননি সোহিনী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই নীরবতা ভাঙলেন অভিনেত্রী।

২০১৩ সালে অভিনেতা ও নাট্যকর্মী সপ্তর্ষি মৌলিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সোহিনী সেনগুপ্ত। এই বিয়ের পর থেকেই চর্চায় উঠে আসে তাঁদের বয়সের ফারাক। সোহিনী যে স্বামীর থেকে ১৪ বছরের বড়—এই তথ্যটাই যেন বহু মানুষের কাছে সম্পর্কটিকে বিচার করার একমাত্র মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়। কখনও সরাসরি, কখনও আড়ালে শুনতে হয়েছে নানা কটূক্তি। কেউ কেউ তো রীতিমতো কটাক্ষ করে সপ্তর্ষিকে তাঁর ‘ছেলে’ বলেও উল্লেখ করেছেন। এত বছর পর সেই অভিজ্ঞতার কথাই এবার অকপটে ভাগ করে নিলেন সোহিনী।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অভিনেত্রী জানান, বয়সের এই তফাত তাঁর কাছে কোনও দিনই বড় বিষয় ছিল না। সোহিনীর কথায়, তাঁর বরাবরই মনে হয়েছে, মানসিকভাবে সপ্তর্ষি অনেক বেশি পরিণত। তিনি বলেন, আজও কেউ কেউ ঠাট্টা করে বলেন, “ও নাকি পালিয়ে যাবে।” এই ধরনের মন্তব্য তিনি লুকিয়ে রাখেন না। বরং স্বামীকে গিয়ে সবই বলেন। মজার ছলেই তিনি সপ্তর্ষিকে বলেন, “আমিও তো পালাতে পারি।” উত্তরে সপ্তর্ষির আত্মবিশ্বাসী জবাব—“তুমি পালাতে পারবে না, কারণ আমি বেস্ট।” এই সহজ কথোপকথনের মধ্যেই ধরা পড়ে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা।

শুধু আবেগ নয়, দাম্পত্য জীবনের শুরুর লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেন সোহিনী। বিয়ের সময় সপ্তর্ষি নান্দীকার থেকে অল্প স্টাইপেন পেতেন। মাস শেষে হাতে আসত সীমিত কিছু টাকা। সোহিনী তখন স্কুলে চাকরি করতেন। সংসার চলত খুব হিসেব করে। শ্যামবাজারে রিহার্সাল সেরে সপ্তর্ষি অনেক সময় রাজাবাজার পর্যন্ত হেঁটে যাতায়াত করতেন, শুধু পয়সা বাঁচানোর জন্য। একদিন খাবার খেতে না চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সপ্তর্ষির উত্তর শুনে সোহিনী বুঝে যান, দায়িত্ববোধ আসলে কাকে বলে। তখনই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন—যে মাসে যিনি পারবেন, তিনিই সংসারের হাল ধরবেন।

আরও পড়ুনঃ “আমি ভক্তদের পরিবার ভাবি, কিন্তু বিশ্বাসভঙ্গ হলে…” হিয়া মুখার্জীর নাম সামনে আসতেই, ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট সাহেবের? তাহলে কি নতুন ধারাবাহিক ও সাহেব-সুস্মিতা জুটি বিতর্কে ক্ষুব্ধ অনুরাগীদের উদ্দেশ্যেই বার্তা?

প্রসঙ্গত, সোহিনীর জীবনে এটাই প্রথম বিয়ে নয়। এর আগে গৌতম হালদারের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন টেকেনি। ২০০৬ সালে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে। এরপর ‘নাচনী’ নাটকের সময় নান্দীকার দলে আসা তরুণ সপ্তর্ষির সঙ্গে বন্ধুত্ব, সেখান থেকেই প্রেম। মাত্র তিন মাসের সম্পর্কেই বিয়ের সিদ্ধান্ত। ভাঙা অতীত, বয়সের ব্যবধান—কোনও কিছুই তাঁদের থামাতে পারেনি। আজ টলিপাড়ায় সোহিনী-সপ্তর্ষি পরিচিত এক মিষ্টি জুটি হিসেবেই। সমাজের কটাক্ষের ঊর্ধ্বে উঠে যে সম্পর্ক টিকে থাকে, তা যে আসলে বিশ্বাস আর সম্মানের উপর দাঁড়িয়ে—সেই কথাই যেন আবারও মনে করিয়ে দিলেন সোহিনী সেনগুপ্ত।

You cannot copy content of this page