“কাঞ্চনের সাইজ থেকে ডিউরেশন পর্যন্ত ফ্যান্টাসাইজ করছে মেয়েরা… কাঞ্চনের গোপনা*ঙ্গ নিয়ে ভাবতে ভাবতে দেখবেন যেন মা’রা না যান!” “নিজের বরকে তাড়াতাড়ি গাইনোকলজিস্ট দেখান, তাহলেই অন্যেরটা নিয়ে টানাটানি করতে হবে না” দ্বিতীয়বার বাবা হতেই স্বামীর বয়স থেকে যৌ*নক্ষমতা নিয়ে কটা’ক্ষ, ট্রো’লারদের একহাত নিলেন শ্রীময়ী! অ’শ্লীল ভাষা নিয়ে ছিছিক্কার নেটপাড়ায়!

২০২৬ সালের জুলাই মাসে দ্বিতীয়বার সন্তানের বাবা-মা হয়েছেন অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টোরাজ। তাঁদের পরিবারে নতুন সদস্য আসার খবরে অনুরাগীদের একাংশ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমে কাঞ্চনের বয়স নিয়েও নানা মন্তব্য দেখা গিয়েছে। নেটপাড়ার একাংশ অভিনেতাকে ‘বুড়ো’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তাঁর বাবা হওয়ার ক্ষমতা নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। বিশেষ করে কৃষভি ও কৃষভির বাবাকে ঘিরে এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন শ্রীময়ী। এর আগেও স্বামীকে নিয়ে ট্রোল হলে প্রকাশ্যে তার জবাব দিয়েছেন তিনি। এবারও সেই অবস্থান থেকে পিছিয়ে যাননি অভিনেত্রী।

সম্প্রতি নিজের একটি সাক্ষাৎকারের অংশ সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করে কটাক্ষকারীদের উদ্দেশে দীর্ঘ বার্তা দেন শ্রীময়ী। সেখানে তিনি লেখেন, ‘গদাই হওয়ার পর থেকে কিছু কিছু অমানুষ, তাঁদের মধ্যে মহিলার শতাংশ বেশি, যারা মহিলা নামে কলঙ্ক, মহিলা বলতে লজ্জা লাগে যাদের, এতই ভালো তাঁদের রুচিবোধ, যে কাঞ্চনের বয়স নিয়ে এত চিন্তিত। মনে হচ্ছিল কাঞ্চনের মা কাঞ্চনের জন্ম দেওয়ার সময় জন্মের শংসাপত্র এদের হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছিল। তাই কাঞ্চনের বয়স ৫৭ নাকি ৬৭, নাকি ১০৭, তার থেকেও তাঁরা বেশি চিন্তিত কাঞ্চন এই বয়সে কী করে বাবা হওয়ার ক্ষমতা রাখছে।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমেই মূলত বয়স নিয়ে চলা কটাক্ষের জবাব দিতে চেয়েছেন তিনি।

শুধু বয়স নিয়ে মন্তব্যেই থেমে থাকেননি কটাক্ষকারীরা, বরং কাঞ্চনের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও নানা অশালীন মন্তব্য করা হচ্ছে বলে দাবি শ্রীময়ীর। সেই প্রসঙ্গেই আরও কড়া ভাষায় তিনি লেখেন, ‘এমনকী এই সমস্ত মহিলারা কাঞ্চনের সাইজ থেকে ডিউরেশন পর্যন্ত ফ্যান্টাসাইজ করতে নেমে গিয়েছে। তাই কাঞ্চনের কীসের জোর আছে কী নেই, এই বিষয়ে আপনাদের অধিক চিন্তিত হতে দেখে আমার করুণা হল, ভয় হল পাছে আপনারা না মারা যান কাঞ্চনের গোপনাঙ্গের কথা চিন্তা করতে করতে।’ অর্থাৎ স্বামীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এ ধরনের মন্তব্যকে একেবারেই ভালোভাবে নেননি অভিনেত্রী। বরং প্রকাশ্যেই সেই মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

এরপর কাঞ্চনের ব্যক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করা মহিলাদের উদ্দেশে আরও একটি পরামর্শ দেন শ্রীময়ী। তিনি লেখেন, ‘অশান্ত মনকে শান্ত করে, অ্যাংজাইটি, ফ্রাস্ট্রেশন দ্রুত কাটিয়ে নিয়ে নিজেদের বরকে তাড়াতাড়ি গাইনোকলজিস্টটা দেখিয়ে নেবেন। তাহলে দেখবেন অন্যের বরের সহবাস ক্ষমতা বা গোপনাঙ্গের জোর নিয়ে আপনাদের আর কমেন্ট করতে হবে না কারও প্রোফাইলে ঢুকে। আর হ্যাঁ, বেশি দেরি করবেন না, তাহলে আপনাদেরই ক্ষতি।’ এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমে। কেউ শ্রীময়ীর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন, আবার কেউ তাঁর ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

শ্রীময়ীর পোস্টে কাঞ্চন এবং তাঁর অনুরাগীদের একাংশ সমর্থন জানিয়েছেন। একজন মন্তব্য করেন, ‘একদম ঠিক বলেছ। আজকাল মানুষ খুব নোংরা কথা বলতে ভালোবাসে। তোমাদের জীবন তোমরা খুব আনন্দ করে কাটাও। কে কী বলল তাতে কিছুই যায় আসে না।’ অর্থাৎ কটাক্ষের জবাব দিয়ে শ্রীময়ীর পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের একাংশের অনুরাগী। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এভাবে মন্তব্য করা উচিত নয়। বিশেষ করে নতুন সন্তান আসার মতো আনন্দের মুহূর্তে একটি পরিবারকে অস্বস্তিতে ফেলার মতো মন্তব্য না করাই ভালো বলেই মত তাঁদের।

আরও পড়ুনঃ “সুচিত্রা সেন মোটেই নরমাল ছিলেন না, কেমন মুখ বেঁকিয়ে কাট কাট কথা…” “মহানায়িকা নন, বরং সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ই বেশি সাবলীল, আমার মতে উত্তম কুমারের পাশে তিনিই সেরা!” মহানায়কের দুই নায়িকাকে নিয়ে বি*স্ফোরক রত্না ঘোষাল! কিংবদন্তি উত্তম-সুচিত্রা জুটির ‘অতিরঞ্জিত জনপ্রিয়তা’ নিয়েই কি প্রশ্ন তুললেন অভিনেত্রী? সাবিত্রীকে এগিয়ে রাখার আসল কারণ কী?

তবে শ্রীময়ীর এই জবাবকে সবাই সমর্থন করেননি। তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে একমত হলেও অনেকে তাঁর ভাষা নির্বাচনের সমালোচনা করেছেন। একটি মন্তব্যে লেখা হয়েছে, ‘আহা কী উচ্চ শিক্ষা, আহা কোনও কথা হবে না!’ আবার অন্য একজন লিখেছেন, ‘এটাকে স্পষ্ট বক্তা বলে না, নির্লজ্জতা বলে।’ ফলে কাঞ্চনের বয়স এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে শুরু হওয়া কটাক্ষের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে শ্রীময়ী নিজেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এখন এই বিতর্কে সমাজমাধ্যমে কোন পক্ষের বক্তব্য বেশি সমর্থন পায়, সেদিকেই নজর অনুরাগীদের।

You cannot copy content of this page