টলিউডে ব্যস্ততার সংজ্ঞা যদি কারও মাধ্যমে বোঝাতে হয়, তাহলে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের (Subhashree Ganguly) নামটা আজকাল আপনাতেই উঠে আসে। একদিকে বড় পর্দার, অন্যদিকে ওয়েব সিরিজ মিলিয়ে চরম ব্যস্ততা। এর মাঝেই সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’, যেখানে বিনোদিনী চরিত্রে তার অভিনয় দর্শক আর সমালোচক, দু’পক্ষের কাছ থেকেই ভালো প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে। চরিত্রের গভীরতা, সংযত অভিনয় আর পরিণত উপস্থিতি যেন প্রমাণ করে দিচ্ছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিনেত্রী হিসেবে তিনি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন।
এই ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই নতুন বছরের শুরুতে আরও এক বড় খবর দিয়েছেন শুভশ্রী। ২০২৬ সালের দুর্গাপূজায় ফের দেবের সঙ্গে বড় পর্দায় দেখা যাবে তাকে। বহুদিন পর এই জুটি ফিরছে বলেই দর্শকদের প্রত্যাশাও তুঙ্গে। সব পরিকল্পনা যে কতটা আগেভাগে সাজানো, এই ঘোষণাই তার ইঙ্গিত। কিন্তু এত কিছুর মাঝেও অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন যেন কখনোই আড়ালে চলে যায় না। বরং কাজ আর পরিবারের মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্য তৈরির চেষ্টাই বারবার নজরে আসে। দুই সন্তানের মা হিসেবে শুভশ্রী বরাবরই স্পষ্ট একটা অবস্থান নিয়েছেন।
সন্তানদের মানুষ করার ক্ষেত্রে শাসন আর ভালোবাসার মাঝের সীমারেখাটা তিনি খুব সচেতনভাবেই টানেন। রাগের বশে শাস্তির পথে তিনি বিশ্বাসী নন। তাঁর এই মত নিয়ে নানান বিতর্ক হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নিজের ভাবনায় তিনি অনড়। তার কাছে সন্তান মানে শুধু দায়িত্ব নয়, তারা আলাদা মানুষ, যাদের নিজস্ব অনুভূতি আর সম্মান রয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এত কাজের চাপের মধ্যে পরিবারকে সময় দেন কীভাবে? এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি আলাপচারিতায় শুভশ্রী নিজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন।
তিনি বলেন “স্ক্রিপ্ট পড়ার সময় আমি বাচ্চাদের সেখানে থাকা পছন্দ করি না। যখন আমি অভিনয় করি তখন শুধুমাত্র অভিনেত্রী, কারোর বউ, মা বা বৌমা নই! আর আমার যে কোনও চরিত্র হয়ে ওঠার পেছনে রাজের ভূমিকা অনেকটাই। ওকে ছাড়া কিছুই সম্ভব হতো না। রাজ সংসার এবং সন্তানদের সামলে নেয় আমার অনুপস্থিতিতে।” এই কথাগুলো থেকেই স্পষ্ট, পেশাগত মনোযোগ আর পারিবারিক সহায়তা, দুটোই তার জীবনে সমান জরুরি।
আরও পড়ুনঃ নতুন চমক চান্দ্রেয়ী ঘোষকে ঘিরে! রাঙামতি তীরন্দাজ ধারাবাহিক ছাড়ছেন অভিনেত্রী?
দিনশেষে শুভশ্রীর গল্পটা শুধুই একজন সফল অভিনেত্রীর নয় বরং একজন কর্মজীবী মায়েরও। শুটিং ফ্লোর আর বাড়ির দায়িত্ব, দু’দিক সামলে তিনি যে পথটা বেছে নিয়েছেন সেখানে অতিরঞ্জিত দাবি নেই, আছে বাস্তববোধ আর পরিকল্পনা। তাই নতুন ছবি হোক বা সন্তানের জীবনের বিশেষ কোনও মুহূর্ত, দুটোতেই তিনি উপস্থিত থাকার এবং ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সম্ভবত এই কারণেই শুভশ্রী আজ শুধু তারকা নন, অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার নামও।






