আমার দু’বার বিয়ে! সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাতই আলোচনায় সুদীপার জীবন! নিজের অজানা অধ্যায়ের কথা সামনে আনলেন নিজেই

এক সময় টেলিভিশনের পর্দায় সুদীপার উপস্থিতি মানেই ঘরের মেয়ের মতো আপন এক মুখ। রান্নাঘরের আড্ডায় তাঁর হাসি কথা আর স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তৈরি হয়েছিল দর্শকের সঙ্গে এক আত্মিক সম্পর্ক। কাজের সূত্রে বারবার আলোচনায় এলেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি বরাবরই ছিলেন সংযত। কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একটি পোস্ট যেন আচমকাই খুলে দিল বহুদিনের লুকিয়ে থাকা এক অধ্যায়। সেই পোস্টে ছিল আবেগ স্মৃতি আর ভালোবাসার নির্ভেজাল স্বীকারোক্তি। সুদীপার জীবনের এই গল্প শুধুই ব্যক্তিগত নয় বরং সম্পর্ক আর বিশ্বাসের এক গভীর পাঠ।

হঠাৎ করেই দুটি পুরনো ছবি শেয়ার করেন সুদীপা। একটি ছবিতে তাঁকে দেখা যায় লাল বেনারসির আভিজাত্যে সেজে উঠতে মাথায় সোনালি ওড়না গলায় ফুলের মালা আর চোখেমুখে এক নববধূর শান্ত দীপ্তি। তাঁর পাশে সাদা পাঞ্জাবিতে অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। অন্য ছবিটি আরও পুরনো সময়ের স্মৃতি যেন। বয়সে দুজনেই তখন অনেকটাই তরুণ চোখেমুখে অনিশ্চিত স্বপ্ন আর নির্ভীক ভালোলাগা। অফ হোয়াইট শাড়িতে সুদীপা আর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অগ্নিদেব। এই দুটি ছবি যেন সময়ের দুই প্রান্তকে একসঙ্গে বেঁধে রাখে।

এই ছবির সঙ্গে লেখা ক্যাপশনেই ছিল আসল চমক। সুদীপা অকপটে জানালেন তাঁর জীবনে নাকি দুটো বিয়ে হয়েছে। তবে দুবারই একই মানুষের সঙ্গে। সুযোগ যতবার আসবে ততবার তিনি অগ্নিদেবকেই বেছে নেবেন এমনটাই লিখেছেন তিনি। হাজার মানুষের ভিড়ে তাঁর কাছে প্রিন্স চার্মিং একজনই। ভালোবাসার সঙ্গে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি। বছরের পর বছর তাঁর স্বভাব জীবনযাপন আর কাজের ব্যস্ততাকে যে মানুষটি ধৈর্য নিয়ে আগলে রেখেছেন তাঁর প্রতি ধন্যবাদ জানাতেও ভোলেননি। শেষে হালকা হাসির সুরে জানিয়ে দেন আজ তাঁদের বিবাহবার্ষিকী নয়।

এই সম্পর্কের শুরু হয়েছিল কাজের সূত্রে। ধারাবাহিকের সেটে আলাপ ধীরে ধীরে পরিণয়। বয়সের ফারাক থাকলেও দুজনের মধ্যে ছিল বিশ্বাস আর বোঝাপড়ার দৃঢ় বন্ধন। ২০১০ সালে প্রথমবার সামাজিকভাবে বিয়ে হয় তাঁদের। সেই সময় সুদীপার বাবা গুরুতর অসুস্থ ছিলেন আর মেয়ের বিয়ে দেখাই ছিল তাঁর শেষ ইচ্ছে। সেই আবেগকে সম্মান জানিয়ে তড়িঘড়ি বিয়ের সিদ্ধান্ত। কিছুদিনের মধ্যেই বাবার প্রয়াণ সেই স্মৃতিকে আরও গভীর করে তোলে। পরে আইনি জটিলতা কাটিয়ে ২০১৭ সালে রেজিস্ট্রি করে দ্বিতীয়বার আইনত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ চোদ্দ ঘণ্টার শুটিং আর কোলে সদ্যোজাত, দুই দায়িত্ব সামলে নতুন পথে অহনা দত্ত! মেয়ের জন্য চিকিৎসক কী পরামর্শ দিলেন নায়িকাকে?

এই ভালোবাসার গল্পে রয়েছে আরও এক মানবিক অধ্যায়। অগ্নিদেবের প্রথম পক্ষের ছেলে আকাশের সঙ্গে সুদীপার সম্পর্ক কখনও জোর করে তৈরি হয়নি। সৎমায়ের জায়গা নেওয়ার চেয়ে তিনি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। মা হওয়ার চাপ নয় বরং পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন সবসময়। আজও আকাশকে দেখা যায় সুদীপার অগ্নিদেব আর তাঁদের ছেলে আদিদেবের সঙ্গে এক ফ্রেমে। এই পরিবার যেন প্রমাণ করে সম্পর্ক মানে শুধু রক্ত নয় বরং বিশ্বাস সম্মান আর ভালোবাসার ধারাবাহিক পথচলা।

You cannot copy content of this page