সামাজিক মাধ্যমে আচমকাই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন ‘সুস্মিতা রায়’ (Susmita Roy), মূলত নতুন করে সংসার পাতা নিয়ে আর তার সঙ্গে যোগ হয়েছে মাতৃত্বের জল্পনা। বিতর্ক বাড়তেই, এবার যেন একের পর এক চমকে ভরা ঘটনা সামনে এনে পুরো পরিস্থিতিটাকেই অন্য মাত্রা দিলেন তিনি! নতুন করে জীবন শুরু করার ঘোষণার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে নানান মন্তব্য, পুরনো সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন, সবই আবার সামনে আসছিল। কিন্তু গত রাতের ঘটনাগুলো যেন সেই আলোচনাকে একেবারে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিল। অনেকেই ভাবছিলেন বিষয়টা হয়তো ধীরে ধীরে থিতিয়ে যাবে, কিন্তু তার ঠিক উল্টোটা ঘটল!
রাত বাড়তেই নিজের ফেসবুক পেজে একের পর এক পোস্ট করতে শুরু করেন তিনি। প্রথমেই তিনি তুলে ধরেন গত দুই বছরের ব্যাংক লেনদেনের কিছু স্ক্রিনশট, যেখানে দেখা যায় বেশ কয়েক মাস ধরে নিয়মিত বড় অঙ্কের টাকা পাঠানো হয়েছে সব্যসাচী চক্রবর্তীর (Sabyasachi Chakraborty) অ্যাকাউন্টে। এই পোস্ট সামনে আসতেই নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, সম্পর্কের ভাঙনের পেছনে আসল গল্পটা ঠিক কী ছিল? এতদিন যে অভিযোগগুলো একপাক্ষিকভাবে ঘুরছিল, সেগুলোর ভেতরে নতুন স্তর যোগ হলো এই তথ্য সামনে আসার পর।
এরপর আরও একটি পোস্টে তিনি শেয়ার করেন একটি চ্যাটের অংশ, যেখানে কথোপকথনের ভঙ্গি অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর বলে মনে হয়েছে। সেখানে সব্যসাচী তাঁকেই দোষারোপ করছেন, এমনকি হু’মকির সুরও স্পষ্ট! এই স্ক্রিনশট প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি আর কেবল ব্যক্তিগত মতভেদের জায়গায় আটকে থাকেনি, বরং অনেকেই এটিকে মানসিক চাপে রাখার একটি উদাহরণ হিসেবেও দেখতে শুরু করেছেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুস্মিতা, যা পুরো ঘটনাকে আরও সংবেদনশীল করে তুলল।
লাইভে তিনি যে অভিযোগগুলো করেন, সেগুলো অনেকের কাছেই বিস্ময়কর! তাঁর দাবি, বিয়ের আগেই নয়, বিয়ের পরেও একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন সব্যসাচী। এমনকি নিয়মিত যৌ*নতা বজায় রাখতেন তাদের সঙ্গে! ব্যক্তিগত মুহূর্ত ইচ্ছাকৃতভাবে রেকর্ড করে রাখার মতো ঘটনাও তিনি তুলে ধরেন, যা শুনে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। শুধু তাই নয়, তাঁর কথায় এই ধরনের ভিডিও তাঁকেও করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তার সামনেই এমন ঘটনা নিয়মিত হয়েছে, সম্পর্ক বাঁচাতে ক্যামেরাবন্দি করেছেন তিনি।
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে মাতৃত্বকে ঘিরে। সুস্মিতার দাবি, তিনি মা হতে চাইলেও সেই ইচ্ছাকে কখনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, বরং গর্ভধারণের পর তা নষ্ট করার চাপ দেওয়া হয়েছিল। এই প্রসঙ্গ সামনে আসতেই আগের সমস্ত জল্পনা, যেখানে দাম্পত্য ভাঙার জন্য অন্য ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছিল সেগুলো নতুন করে বিচার করতে শুরু করেন অনেকেই। ঘটনাটা যে শুধুই ব্যক্তিগত মতভেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সেটা ক্রমেই স্পষ্ট হতে থাকে। সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি ছিল তাঁর আর্থিক ও মানসিক নির্ভরতার গল্প। তিনি জানান, ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন।
তখন সব্যসাচীর স্থায়ী আয় ছিল না বললেই চলে। সংসারের দায়িত্ব তিনিই সামলাতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলায় এমনভাবে, যেখানে তাঁকে অন্য একজন ধনী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে যেতে বলা হয়, যা তাঁর ভাষায় প্রায় ‘বিক্রি করে দেওয়ার’ মতো অভিজ্ঞতা। সব্যসাচী বলেন, সম্পর্ক স্থাপন করে কিছু দামী দামী জিনিস তাকে পাইয়ে দিতে। সুস্মিতা সেটাও করেছিলেন এবং এক পর্যায়ে সেই ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে সংসার ছাড়েন তবে, সেও প্রতারণা করায় আবার সব্যসাচীর সংসারে ফিরে আসেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “গো*মাংস কাণ্ডে মুখ খুলতে পারতাম…সব জানতাম, চুপ থেকেছি”, “এখনই বলব না, মা হলে সবাই জানতে পারবে” সায়ককে ব্লক থেকে দ্বিতীয় বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা জল্পনা, উত্তর দিলেন সুস্মিতা রায়! ধোঁয়াশা কেন, কী লুকিয়ে রাখছেন তিনি?
এরপর দীর্ঘদিন তাকে হু’মকি দেওয়া হয় যে চক্রবর্তী পরিবারের নামে বাইরে কিছু বললে বা সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে সে বাঁচতে পারবে না! এই জায়গাটাই অনেকের কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর ও চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতদিন চুপ করে থাকার পর কেন হঠাৎ সব প্রকাশ করলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন সুস্মিতা। তাঁর কথায়, নতুন করে জীবন শুরু করা নিয়ে লাগাতার কটাক্ষ আর ইঙ্গিতই তাঁকে বাধ্য করেছে মুখ খুলতে। ফলে এখন বিষয়টা আর শুধুমাত্র একটি বিচ্ছেদ বা নতুন বিয়ের গল্প নয়। বরং এটি হয়ে উঠেছে সম্পর্ক, বিশ্বাস, শোষণ আর ব্যক্তিগত লড়াইয়ের এক জটিল চিত্র, যা নিয়ে আলোচনা সহজে থামার নয়।






