বাংলা টেলিভিশনে এখন নতুন পরিচয়ে দেখা যাচ্ছে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে (Swastika Mukherjee)। দীর্ঘদিন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ হয়ে থাকা জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’-এর নতুন সঞ্চালকের দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। নতুন ভূমিকায় দর্শকদের প্রশংসা যেমন পাচ্ছেন, তেমনই অতীতের নানান সাক্ষাৎকার ও ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনাও ফের আলোচনায় উঠে আসছে। বিশেষ করে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherji) সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং তারপরেও একসঙ্গে কাজ করার সমীকরণ নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এক সময় গাঢ় প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন দু’জনে, বিচ্ছেদের পর বিভিন্ন সময়ে অভিনেত্রী ও শিল্পী মহলের কয়েকজন পরিচিত মুখের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল পরিচালককে নিয়ে। তবে সেইসব জল্পনার অনেক ক্ষেত্রেই কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর নাম নিয়েও চর্চা শুরু হলেও, দু’জনেই নিজেদের “খুব ভালো বন্ধু, কিন্তু সেই অর্থে নয়” বলেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, সম্পর্ক শেষ হলেও পেশাদার জায়গায় কখনও দূরত্ব তৈরি হতে দেননি স্বস্তিকা ও সৃজিত। ‘রাজকাহিনী’, ‘শাহজাহান রিজেন্সি’ থেকে ‘টেক্কা’, একাধিক ছবিতে তাঁদের কাজ দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্বস্তিকাও বারবার বলেছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক আর কাজকে আলাদা রাখার বিষয়টি সৃজিত বরাবরই মেনে চলেছেন। পরিচালকও একাধিক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীর অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। তাই প্রেম ভেঙে গেলেও পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদার সম্পর্ক যে অটুট থেকেছে, সেটাই আজও টলিপাড়ায় আলাদা করে নজর কাড়ে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘টেক্কা’ ছবির প্রচারের সময়ই স্বস্তিকা অকপটে জানিয়েছিলেন, সম্পর্কে থাকাকালীন তাঁকে নিয়ে কী ধরনের ভুল ধারণা ছড়িয়েছিল। অভিনেত্রীর কথায়, “যখন সম্পর্কে ছিলাম অনেকেই বলেছিলেন, আমি নাকি সৃজিতের জন্য কাজ পাই। কিন্তু মনে আছে, ‘রাজকাহিনী’তে একটা চরিত্র দেওয়ার জন্য আমি রীতিমত সৃজিতের পায়ে ধরেছিলাম।
আমাদের মধ্যে তুমুল অশান্তি হয়েছে। কিন্তু ও দেয়নি। এটাই আমাদের প্রেম ভাঙার মূল কারণ হতে পারত। সৃজিত কখনও সম্পর্কের খাতিরে কাউকে কাজ দেয় না।” এরপরই তিনি আরও বলেন, “সৃজিতের সঙ্গে আমার করা প্রতিটি কাজ দর্শকের পছন্দ হয়েছে। ভবিষ্যতেও আবারও কাজ করলে নিশ্চয়ই পছন্দ হবে।” সেই বক্তব্যই আজও টলিপাড়ার অন্যতম চর্চিত সাক্ষাৎকার হিসেবে ঘোরাফেরা করে। স্বস্তিকার মন্তব্যের জবাবে একই অনুষ্ঠানে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়ও। পরিচালক বলেছিলেন, “আমার বহু প্রেম হয়েছে। শুধু স্বস্তিকা নয়, তাঁদের প্রত্যেককেই বলেছিলাম, আমার কাজ আর সম্পর্কের জায়গা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। আমার সঙ্গে প্রেম করছে মানে তাঁকে কাজ দেব তা একেবারেই নয়।”
আরও পড়ুনঃ ‘নিজের চোখের জল নিজেই মুছেছি…’ জন্মদিনে আবেগঘন পোস্ট দেবশ্রীর, শুভেচ্ছা জানালেন না শুভশ্রী! স্বামী রাজের পর, বোনের সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল? মুখ দেখাদেখিও নাকি বন্ধ, টলিপাড়ায় জোরালো জল্পনা!
আজ একদিকে স্বস্তিকা বাংলা টেলিভিশনের নতুন ‘দিদি নম্বর ১’ হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন, অন্যদিকে পুরনো সেই সাক্ষাৎকারের অকপট স্বীকারোক্তি আবারও ঘুরে ফিরছে সামাজিক মাধ্যমে। সৃজিতের পায়ে ধরেও কাঙ্ক্ষিত চরিত্র না পাওয়া, সম্পর্কের মাঝেও কাজ নিয়ে কোনও আপস না করা এবং বিচ্ছেদের পরেও একই পেশাদারিত্বে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়া, এই সবকিছু মিলিয়েই তাঁদের সমীকরণ এখনও টলিপাড়ার অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে। নতুন দায়িত্বে স্বস্তিকার সাফল্যের মাঝেও সেই পুরনো গল্প যেন আবার নতুন করে শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে।






