অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে এবার বারাসাত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সনাতনী প্রচার এবং প্রসারের সভাপতি হরিচাঁদ বিশ্বাস এই অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, দুই তারকার পুরনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট রাজনৈতিক হিংসাকে উস্কে দিতে পারে। সেই কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তোলা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই আবারও চর্চা শুরু হয়েছে টলিপাড়া এবং রাজনৈতিক মহলে। এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
বিতর্কের সূত্র ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন। ২ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পরমব্রত একটি পোস্টে লিখেছিলেন, “আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস হিসাবে ঘোষিত হোক।” পরে সেই পোস্টটি শেয়ার করে স্বস্তিকা মুখার্জি লেখেন, “হাহাহা হোক হোক।” এই পোস্ট দুটিকেই কেন্দ্র করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের এই ধরনের মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা দিতে পারে। পাশাপাশি এই ধরনের পোস্ট রাজনৈতিক অশান্তিকেও উৎসাহিত করতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই কারণেই গোটা বিষয়টির তদন্তের দাবি উঠেছে।

এর আগেও এই ঘটনায় গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আইনজীবী জয়দীপ সেন। গত ২১ মে তিনি দুই অভিনেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৭ ধারার আওতায় উস্কানিমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অভিযোগ জমা পড়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপর ২৩ মে গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দেন স্বস্তিকা মুখার্জি। জানা গিয়েছে, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় করা মন্তব্য নিয়েই তাঁকে প্রশ্ন করা হয় বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুন: “এত তাড়াতাড়ি রং বদলানোর দরকার নেই, লাভ হবে না” “নিজেদের শিরদাঁড়াটা এইভাবে ভেঙে ফেললে মানুষ আর চিনবে না” পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ‘দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা’র সপাটে জবাব লকেট চট্টোপাধ্যায়ের! একসময় বিজেপিকে ‘অচ্ছুত’ ভাবা শিল্পীদের উদ্দেশ্যে কি জানালেন অভিনেত্রী?
স্বস্তিকা থানায় হাজিরা দিলেও পরমব্রত এখনও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। এদিকে এই পুরনো টুইট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছিলেন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও। তাঁর প্রশ্নের উত্তরে আজকাল ডট ইন-কে পরমব্রত বলেন, “অন্য কেউ এই ধরনের প্রশ্ন করলে উত্তর দিতাম না। তরুণজ্যোতি তিওয়ারি জনগণের রায়ে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি, সেই পদকে সম্মান জানিয়ে প্রশ্নগুলির উত্তর দিচ্ছি।” এরপরই নিজের পুরনো টুইটের প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
পরমব্রত আরও বলেন, “আমি ২০২১ সালে ওই টুইট করেছিলাম কারণ ২০২১ সালে নির্বাচনের আগে মাননীয় শ্রী দিলীপ ঘোষ শিল্পীদের প্রসঙ্গে একটি কথা বলেছিলেন। শিল্পীদের একটু রগড়ে দিলেই হয়। সকলেই জানেন আমি কতটা ভাল রগড়াই। এই কথায় একজন শিল্পী হিসাবে আমি অপমানিত বোধ করেছিলাম। তাই ২০২১ সালে নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের পরে আমি টুইটটি করেছিলাম।” অভিনেতার এই মন্তব্য সামনে আসার পর বিষয়টি আরও রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। এখন এই অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।






